kalerkantho


সড়কে মৃত্যুর মিছিলকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করুন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ আগস্ট, ২০১৮ ১০:৫৮



সড়কে মৃত্যুর মিছিলকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করুন

বাংলাদেশে সড়ক-হত্যায় যুক্ত খুনি ড্রাইভারদের দ্রুত বিচার করে ফাঁসি দেওয়ার দাবি নিয়ে নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে প্রতিবাদ

বাংলাদেশে সড়কে হত্যাকাণ্ড যেন মৃতের মিছিলে পরিণত হয়েছে। আর এ কারণে এসব মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

প্রায় প্রতিদিনই গাড়িচালকদের রেষারেষির কারণে নানা দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। আর ইচ্ছাকৃত এসব ঘটনাকে বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না কোনোভাবেই। এ কারণে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে দেশ ও বিদেশে।

২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসনের বিপরীত পাশের জিল্লুর রহমান উড়ালসড়কের ঢালের সামনের রাস্তার ওপর জাবালে নূর পরিবহনের তিনটি বাস রেষারেষি করে। এ সময় একটি বাস রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনের ওপর উঠে পড়ে। এতে দুই শিক্ষার্থী নিহত ও নয়জন আহত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত দুই শিক্ষার্থী হলো শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম ওরফে রাজীব (১৭) এবং একই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৬)।

বাংলাদেশে সড়ক-হত্যায় যুক্ত খুনি ড্রাইভারদের দ্রুত বিচার করে ফাঁসি দেওয়ার দাবি নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে। সচেতন নাগরিক সমাজ আয়োজিত সমাবেশটি ৩১ জুলাই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়। সড়কে এসব মৃতের মিছিলকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে  বিচার করার দাবি জানান বক্তারা।

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ। সাংবাদিক ও নাট্যকার তোফাজ্জল লিটনের পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন মুজাহিদ আনসারি, সৈয়দ জাকির আহমেদ রনি, মিথুন আহমেদ এবং গোপাল স্যান্ন্যাল।

নিউ ইয়র্কের প্রথম বাংলা সাংবাদপত্র সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ সভাপতির বক্তব্যে বলেন, পরিবহন ব্যবস্থার প্রতিটি ক্ষেত্রে যে অরাজকতা এবং দুর্নীতি চলছে তা সরকারকে শক্ত হাতে দমন করতে হবে। বেপরোয়া গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া কেউ যেন গাড়ি চালাতে না পারে এবং ফিটনেস ছাড়া যেন কোনো গাড়ি রাস্তায় না নামতে পারে সেই ব্যাপারেও সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট মুজাহিদ আনসারি বলেন, জনগণের করের টাকায় বেতনভুক্ত পুলিশ বাহিনী কোনো সময় এই সরকারের পক্ষে থাকবে পারবে না। তারা যে সরকার আসবে সেই সরকারের কাজ করবে। তাই বর্তমান সরকারকে ভাবতে হবে সেই পুলিশকে দিয়ে এই সকল কোমলমতি শিশু-কিশোরদের রক্তাক্ত করা ঠিক হচ্ছে কী না? এ সকল প্রতিবাদী সন্তানরা শহীদ সালাম বরকত এবং জব্বারের উত্তরসূরী। তারা প্রতিবাদ করতে শিখেছে বঙ্গবন্ধুর থেকে। তাদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত না করে এ সকল হত্যার দ্রুত বিচার করতে হবে।

সম্মিলিত সংস্কৃতি জোট উত্তর আমেরিকার আহ্বায়ক মিথুন আহমেদ বলেন, যে সকল হত্যাকাণ্ড হয়েছে সরকারকে একটি কমিটি গঠন করে তার বিচার করতে হবে। শিশু কিশোর হত্যা এবং তাদেও বিচার চাইতে না দেওয়ার বিষয়টি খুব অমানবিক। আমাদের সব বিষয়ের শেষ আশ্রয়স্থল প্রধানমন্ত্রী। আমরা আশা করব শেখ হাসিনা এই বিষয়ে একটি ব্যবস্থা নিবেন।

নিউ ইয়র্ক গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম সংগঠক গোপাল স্যান্নাল বলেন, দেশের প্রতিটি ঘরে যখন একজন করে সড়কে দুর্ঘটনায় মারা যাবেন তখন কী সরকারের টনক নড়বে?

-- নিউ ইয়র্ক থেকে তোফাজ্জল লিটন



মন্তব্য