kalerkantho


জানেন? সেই সকাল থেকে না খায়া আছি!

আনিসুর বুলবুল   

৩০ জুলাই, ২০১৮ ১৯:০৫



জানেন? সেই সকাল থেকে না খায়া আছি!

ছবি : কালের কণ্ঠ

'জানেন ভাই? সেই সকাল থেইকা না খায়া আছি! আপনি কী চান? আমাদের এই আন্দোলন বৃথা যাক। আমরা আমাদের সহপাঠী হত্যার বিচার চাই।'

বাইক যখন কুড়িল ফ্লাইওভারের ঠিক নিচে তখন সামনে থেকে সাদা শার্ট, নেভি ব্লু প্যান্ট পড়া এক শিক্ষার্থী আমাদের ফের আটকে দেন। তার সঙ্গে আরো কয়েকজন আছেন। গাছের গুড়ি ফেলে রেখেছে সড়কের মাঝ বরাবর। আমার বাইকের সামনে কালের কণ্ঠ লেখা দেখে আমার দিকে এগিয়ে আসেন ছেলেটি। ঘাম মুছতে মুছতে কথাগুলো বলেন।

আমি বলি, অবশ্যই চাই না। আপনাদের আন্দোলন বৃথা যাক। আমরাও মিম-রাজিবের হত্যার বিচার চাই।

ছেলেটির চোখ জ্বল জ্বল করে ওঠে। আমাদের ছেড়ে দেন। আমার সঙ্গে সহকর্মী তারেক। তারেককে বলি, বাইকে উঠেন।

পনের মিনিটের রাস্তা বাইক নিয়ে আজ পার হয়েছি পুরো দুই ঘণ্টায়! একটুও কষ্ট হয়নি আমার। বরং ভালো লেগেছে। ইসিবি চত্ত্বর থেকে জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারে আসতেই বাইক থামাতে হয়েছে। স্কুল-কলেজের ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে ওরা। কার কাছে চাইবে বিচার? কে ওদের কথা শুনবে? বিচ্ছিন্নভাবে কিছুক্ষণ পরপর আমাদের ঘিরে ধরেছে। 

পরিচয় পত্র দেখান? আমরা পরিচয় পত্র বের করে দেখিয়েছি। 

বাইক থেকে নেমে হেটে যান! আমরা বাইক থেকে নেমে হেটেছি।

চার নম্বর গিয়ারে যান! আমরা তাই করেছি।

আমরা একটি বারের জন্যও বিরক্ত হইনি। জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভার পার হয়ে যখন হোটেল রেডিসন ব্লুর সামনে আসি তখন আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাদের আটকে ধরেন। সাংবাদিক পরিচয় দিলে তারা বিরক্ত হোন। বলেন; কয়জন মারা যাওয়ার নিউজ করেছেন?

পেছন থেকে সহকর্মী তারেক বলেন, দুইজন মারা যাওয়ার! 

তাদের মধ্য থেকে একজন তেড়ে আসেন। বলেন, সব হলুদ সাংবাদিক। আরেকজন এগিয়ে আসেন। বলেন, আপনারা যান।

আমরা অফিসে ঠিকই আসতে পেরেছি। কিন্তু ডানে-বামে তাকিয়ে দেখেছি; কত বাইক থামিয়ে রেখেছে। কত গাড়ি আটকিয়ে রেখেছে। খেয়ে না খেয়ে তারা সহপাঠী হত্যার বিচার চেয়ে আন্দোলন করছে।

কেউ কি তাদের বলে দিয়েছে? না।  ওরা সহপাঠী হত্যার বিচার দাবি করছে। ওদের এই আবেগ আমাদের ছুঁয়ে যায়। 

এদেশের প্রতিটি মানুষ চায় নিরাপদ সড়ক। এদেশের প্রতিটি মানুষ চায়, যে ড্রাইভারটি আমাদের বহন করে নিয়ে যাচ্ছে সে যেন নেশাখোর না হয়। কোনো দুর্ঘটনা ঘটালে চালকদের যেন বিচার হয়।



মন্তব্য