kalerkantho


যেভাবে সৃষ্টি হলো অমর গান, আমি এত যে তোমায় ভালোবেসেছি ...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ জুলাই, ২০১৮ ০১:৩৬



যেভাবে সৃষ্টি হলো অমর গান, আমি এত যে তোমায় ভালোবেসেছি ...

মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়

তখন রেডিওতে শিল্পীকে লাইভ গাইতে হতো। ঘটনা ওই বাংলার, আকাশবাণী কলকাতায়, তবে আজকের ইডেন গার্ডেনের নয় এক নম্বর গাস্টিন প্লেসে। একদিন অসামান্য কণ্ঠ সম্পদের অধিকারী মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের আকাশবাণীতে তিনটি অনুষ্ঠান। মাঝে বিরতি আছে। একঘেয়ে যাতে না লাগে সেজন্য বন্ধু গীতিকার শ্যামল গুপ্তকে সঙ্গে এনেছেন আড্ডা দেওয়ার জন্য। রাত ৯টার খানিক আগে রাগপ্রধান গানের লাইভ অনুষ্ঠান শেষ হতেই মানব বাবু আর শ্যামল বাবু ছাদে গেলেন হাওয়া খেতে। পৌনে ১১টায় আধুনিক বাংলা গানের লাইভ অনুষ্ঠান। 

মেঘলা আকাশ বৃষ্টি পড়ছে না। শ্যামল বাবুর মাথায় একটা গানের লিরিক ঘুরপাক খাচ্ছে। বন্ধু মানবেন্দ্রকে বললেন, “দাঁড়াও লিখেনি।” শুরুটা লিখে বন্ধুকে শোনালেন শ্যামল গুপ্ত। মানব বাবু তো মন্ত্রমুগ্ধ। ঠিক করলেন ওই রাতেই গানটি গাইবেন। একটু করে লেখা হচ্ছে শ্যামল বাবু পাতা ছিঁড়ে বন্ধুকে দিচ্ছেন। পরের অংশ লেখার আগে তার আগের অংশটায় সুর বসাচ্ছেন মানবেন্দ্র। সাড়ে ৯টার দিকে দু’জন স্টুডিওতে নেমে এলেন। হাতে গানের স্থায়ী, অন্তরা আর সঞ্চারী লেখা তিনটি ছেঁড়া কাগজ। সাড়ে ১০টায় যন্ত্রীরা আসলেন। ঠিক ছিল মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায় দুটি গান গাইবেন। যোগ হলো আরেকটি গান। গানটি গাওয়া শেষ হলে গীতিকার শ্যামল গুপ্ত আর সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের চোখে জল। সৃষ্টি হলো বাংলা রোমান্টিক গানের সর্বসেরা কালেকশনের অন্যতম গানটি। ১৯৫৭ সালের ৩০ জুলাই এক ঘণ্টারও কম সময়ে তৈরি হয়েছিল অনবদ্য ওই গান। পরে গ্রামোফোন কম্পানির ‘শারদঅর্ঘ্যে’ প্রকাশিত হয়েছিল- ‘আমি এত যে তোমায় ভালোবেসেছি’ গানটি।

(এ দেশে মানুষতো মরবেই। বিনা কারণে মরবে। এমনি এমনি মরবে। শিশু হোক আর বৃদ্ধ। আমি হই বা আপনি। মরার আগে গল্পটা পড়ে নিলেন আরকি। গানটাও শুনলেন না হয়)।

 

সাজিদুল হকের ফেসবুক পোস্ট থেকে ...



মন্তব্য