kalerkantho


গাজীপুর সিটি নির্বাচন

আওয়ামী লীগ এতো শক্তিশালী তবুও নৌকা কেন হেলছে-দুলছে?

হায়দার আলী   

২৭ এপ্রিল, ২০১৮ ১২:০৮



আওয়ামী লীগ এতো শক্তিশালী তবুও নৌকা কেন হেলছে-দুলছে?

একটু দেরিতে হলেও বৃহস্পতিবার খুব ভোরে রওয়ানা দেই গাজীপুর সিটিতে। দেরিতে এ জন্য বলছি নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পরপরই দেশের বিভিন্ন মিডিয়া হাউস থেকে গাজীপুরে সিটি নির্বাচনের নিউজ ধারাবাহিকভাবে কাভারেজ করছেন। সেই হিসেবে অনেকের পরেই নির্বাচনী শহরে গিয়ে পা রাখলাম। ঢাকা থেকে রওয়ানা দেয়ার পর মনের ভেতরে একটি দৃশ্য কল্পনা করতে যাচ্ছি যে পথে ঘাটে মিটিং মিছিল আর ব্যানার পোস্টারে ছেয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নগরীর মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের আনন্দ-উচ্ছ্বাস কাজ করবে। কিন্তু দিনভর নগরীর টঙ্গী এবং জয়দেবপুরসহ বিভিন্ন এলাকার তৃণমূল ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের অবস্থান এবং প্রতিক্রিয়া কাছ থেকে যতটুকু  জানতে পারলাম তাতে ভিন্ন চিত্র দেখতে পেলাম। 

সরেজমিন ঘুরে ঘুরে যা দেখতে পেলাম তা হচ্ছে, ঢাকার উপকণ্ঠে কয়দিন পর বিশাল নগরীতে ভোট হতে চলছে কিন্তু মাঠ যেন গুমোট বেধে আছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেই নেই খুব বেশি উদ্দিপনা আর উচ্ছ্বাস। কাউন্সিলর প্রার্থীরা নিজেদের মতো করে প্রচারণা নিয়েই বেশি ব্যস্ত দেখা গেলেও মেয়র প্রার্থী নিয়ে ওয়ার্ড পর্যায়ে নেই জোড়ালো পদক্ষেপ। শুধু মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সমর্থিতরা মড়িয়া হয়ে প্রচারণা চালালেও মহানগরীর অন্য প্রভাবশালী নেতাদের অনুসারীদের প্রচারণায় খুব একটি মাঠে দেখা যাচ্ছে না। আর তৃণমূলের নেতাদের নিজ উদ্যোগে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারণায় নৌকার প্রার্থীর পক্ষে খুব বেশি দেখা না গেলেও ধানের শীষের প্রার্থীর হাসান সরকারের পক্ষে পরিকল্পিতভাবেই মাঠে থাকতে দেখা গেছে। 

দিনভর সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সিটি নির্বাচনে নগরীতে আওয়ামী লীগই হচ্ছে আওয়ামী লীগের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী এবং নৌকার প্রার্থীর জন্য বিজয়ে অন্যতম বাধা। নগরীর কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা প্রচারণায় না নেমে নানা অজুহাত তুলে ধরছেন। গাজীপুরে নৌকার প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত বলে যারা কল্পনার রাজ্যে বসবাস করছেন তারা একটু গাজীপুরের মাঠে গিয়ে তৃণমূলের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে আসুন। খোঁজ নিয়ে দেখুন শুধুই গ্রুপিং এর কারণে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি বিরাজ করছে নগরীতে। নৌকার মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমেরে কাছে মাঠের বাস্তব পরিস্থিতিও কেউ তুলে ধরছে না। শুধু নৌকার জোয়ার আর নৌকার জোয়ার বলে মুখে ফেনা তুলছে তোষামোদকারী নেতারা। গ্রুপিং মিটিয়ে অভিমানী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শক্তভাবে মাঠে না নামলে নৌকার বিজয় এখানে কঠিন হয়ে যাবে মনে হচ্ছে। 

আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে বিষয়টি মনিটরিং না করলে কিংবা নগরীর প্রভাবশালী ৪টি ব্লকের নেতাদের দ্রুত মাঠে নামাতে না পারলে ফলাফল ভিন্ন দেখা ছাড়া উপায় দেখছি না। জেগে জেগে দিবাস্বপ্ন দেখে লাভ নেই গাজীপুরে মাঠের বাস্তব চিত্র দেখে মনে হচ্ছে গাজীপুরে নৌকা হেলছে দুলছে। দ্রুত ওই অবস্থা উত্তরণের জন্য তৃণমূল থেকে শুরু করে নগরীর এবং কেন্দ্রীয়ভাবেই ঝাপিয়ে পড়া উচিত। রাগ অভিমান ভূলে নির্বাচনী মাঠে থাকলেই সুফল ঘরে উঠাতে পারবে আওয়ামী লীগ। আবারও বলছি বিএনপির প্রার্থী হাসান সরকারকে দুর্বল প্রার্থী হিসেবে বলা হলে ভোটের মাঠে নিরবে বেশ শক্তিশালী মনে হচ্ছে। নৌকার বিজয় যতটা সহজ মনে করা হচ্ছিল ততোটা সহজ মনে হচ্ছে না। ভোটের মাঠের চিত্র সেটাই বলছে। সাধু সাবধান।

লেখক : গণমাধ্যমকর্মী


মন্তব্য