kalerkantho


'পুলিশের কথা একটাই- ৫০ হাজার দেন'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৯:৪৪



'পুলিশের কথা একটাই- ৫০ হাজার দেন'

পুলিশের হেফাজতে থাকা সিএনজিটি লাল বৃত্তে দেখাচ্ছেন ভুক্তভোগী

মাঝে মধ্যেই সংবাদমাধ্যমে কিংবা সোশাল মিডিয়ায় পুলিশের মহানুভবতার গল্প শুনি আমরা। এদেশের পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে তখন আমাদের গর্ববোধ হয়। কিন্তু এই আইশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হয়রানিমূলক আচরণের অভিযোগের শেষ নেই। মাঝে মধ্যে দুই একটা ভালো গল্প আমাদের আশাবাদী করলেও পুলিশকে নিয়ে সাধারণ মানুষের আক্ষেপ সবাইকে হতাশ করে। সোশাল মিডিয়ায় এমনই এক হতাশার কথা তুলে ধরেছেন এক ভুক্তভোগী। 

একটি গ্রুপে আল্লামা ইকবার নামের এক ফেসবুক ব্যবহারকারী পোস্টটি দিয়েছেন। নিজের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। থানায় আটকে রাখা সিএনজি'র ছবিও তুলে প্রকাশ করেছেন তিনি ফেসবুক। তার পোস্টটি তুলে ধরা হলো- 

"সব পুলিশ এক না। জি দাদা এমনটা সবাই বলে...। এই পর্যন্ত এই ভালো পুলিশ গুলার দেখা পাইলাম না...। ছবিটা শ্যামপুর থানার ভেতরে আজ রাত ১.৩০ টায় তোলা...

সিএনজিটা আমার। পুলিশ থানায় নিয়ে আসছে... অপরাধ- ড্রাইভার ছিনতাই করতে গিয়েছিল...। এলাকার মানুষ ধরে ফেলসে। ড্রাইভার গাড়ি থেকে বের হয়ে দৌড়ে এলাকা পাড়...ধরতে পারসে শুধু গাড়ি।
 
থানায় গেলাম রাত ৯টায় , পুলিশ বাবুর সাগরেদ এসে বললো, 'এই গাড়ী ২০ লাখ টাকা দামের... গাড়ি নিতে হলে ১ লাখ দিয়ে নিয়ে যান... না হয় মামলা দিবো । আর মামলা দিলে ১ লাখের বেশি খরচ আছে'। 

রাত ১.৩০ টায় গেলাম ২০ হাজার নিয়ে... দারোগা বলে, 'এত কথা বুঝি না ৫০ হাজার দিলে গাড়ি পাবেন, না হয় গাড়ির নামে মামলা দিবো'।

এই হল আমাদের পুলিশ... ছিনতাই করতে গেসে ড্রাইভার, সব মামলা গাড়ির উপর... তাও আবার ছিনতাই করতে পারে নাই... না আছে ভিক্টিম, না আছে কোনো অভিযোগ... কিন্তু কথা একটাই- ৫০ হাজার দেন।

এরকম ঘটনা অহরহ...। সেপ্টেম্বর মাসের আরেকটা ঘটনা বলি, গাড়ির ড্রাইভারকে নেশা করিয়ে ২ গাড়ি চোর গাড়ি নিয়ে পালাচ্ছিল... চেক-পোস্ট এ ধরা পরে যায় তারা...।

শুকরিয়া করতে করতে থানায় গেলাম , এবারের মত হয়তো বাঁচা গেল। পুলিশ বাবু বললেন, 'চোর কে তো ১ লাখ দিয়ে গাড়ি ফিরিয়ে আনতেন , আমাদের ৫০ হাজার দিবেন না?" ৫০ হাজার দিয়েই গাড়ি আনতে হইছে...।

আর সিএনজি চোর! ডিসেম্বর এর ৭ তারিখ আর ডিসেম্বর এর ২০ তারিখে ২টা গাড়ি চুরি হইছে। একটাকে ৮০ হাজার আর আরেকটাকে ৭৫ হাজার দিয়ে গাড়ি ফিরিয়ে আনসি...।

নভেম্বরের ২৮ তারিখে মিরপুর-১ এ রাত ২টায় গাড়ি আটকালো পুলিশ... অভিযোগ গাড়ির কাগজপত্র নকল। গেলাম রাত ৩টায়, সব চেক করে দেখালাম। এবার বুজলো সব আসল...শেষে চা-পানি খাওয়ার জন্য দাবি করলো ৫০০০। না দিয়ে আসতে পারি নাই।

উপরের সব ঘটনাগুলো নিজের সাথে ঘটা, এরকম ডজন ডজন ঘটনা আছে...
এই চোর আর পুলিশের মধ্যে পার্থক্যটা কই?

কোনদিন 'সব পুলিশ এক না' এমন একজন কে পেলাম না...দেশের ব্যবসায়ীরা সর্বস্বান্ত হলে তাদের কি আসে যায়।

আল্লাহ বাচিয়ে রাখুক ২ পক্ষকেই, দেশে আইনের শাসন চলছে।" 

তার এই পোস্টে অনেকেই তর্ক-বিতর্ক চালাচ্ছেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুলিশের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। 
সূত্র : ফেসবুক


মন্তব্য