kalerkantho


ট্রাম্পের প্রশাসনিক রদবদল কি তাঁর সাফল্য বয়ে আনবে

গাজীউল হাসান খান   

৭ আগস্ট, ২০১৭ ১৩:৩৭



ট্রাম্পের প্রশাসনিক রদবদল কি তাঁর সাফল্য বয়ে আনবে

ট্রাম্প প্রেসিডেন্সির বিগত ছয় মাসে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনে যে রদবদল ঘটেছে, তাকে এককথায় বলা যায় অভূতপূর্ব। কারণ অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের শাসনামলের প্রথম ১৯৩ দিনে অভ্যন্তরীণ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে এমন ছাঁটাই কিংবা রদবদল হতে আর দেখা যায়নি। তা ছাড়া বিভিন্ন পদের ট্রাম্পের ছাঁটাই বা রদবদল শুধু হোয়াইট হাউসেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর মধ্যে তিনি তাঁর প্রশাসনের ২৩ দিনের মাথায় বরখাস্ত করেছেন জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিনকে। ট্রাম্প প্রশাসনে কাজ করার জন্য প্রথমে যে চারজন জেনারেলকে নির্বাচিত করা হয়, ফ্লিন ছিলেন তাঁদেরই একজন। ট্রাম্পের নির্বাচনকালে জেনারেল ফ্লিন রাশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, ফ্লিন রাশিয়ার প্রভাবশালী কর্তৃপক্ষের হাতে ব্যবহৃত হয়েছেন বলেও অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তা ছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা, ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) পরিচালক জেমস কমিকে হঠাৎ করেই বরখাস্ত করেছেন। বিগত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রাশিয়ার যোগসূত্র নিয়ে কংগ্রেস ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের ব্যাপারে সায় দেওয়াই ছিল এফবিআইয়ের প্রভাবশালী পরিচালক জেমস কমির অপরাধ। কিন্তু ঘটনা সেখানেই থেমে থাকেনি। কমির অপসারণের বৈধতাকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে কংগ্রেসে একটি শুনানিও হয়ে গেছে।

পর্দার অন্তরালে জেমস কমিকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তদন্তের বিষয়গুলো এখন বিভিন্ন তদন্ত ও গণমাধ্যমের গভীর পর্যালোচনার মধ্যে সচল রয়েছে। তা ছাড়া রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে এখন ট্রাম্পের পুত্র ডোনাল্ড জুনিয়র ও জামাতা জেরাড কুশনারকেও তদন্তের জন্য তলব করা হয়েছে। আর যে বিষয়টি এখন বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের আলোচনার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে তা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনসের অবস্থান নিয়ে। গত বছর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার সাইবার হস্তক্ষেপ (হিলারি ক্লিনটনের বিপক্ষে) ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের জড়িত থাকার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার ব্যাপারে অ্যাটর্নি জেনারেল সেশনস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। তার পাশাপাশি রয়েছে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন পদক্ষেপে নানা আইনি জটিলতার বিষয়। সে কারণে সেশনসকে ট্রাম্প তাঁর পদ থেকে অপসারণ করতে চাচ্ছেন। কিন্তু সেশনস তাতে রাজি নন। অর্থাৎ সেশনস কোনো অবস্থায়ই স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন না। ট্রাম্পের সঙ্গে অতীতের সখ্য কিংবা নির্বাচনকালে তাঁকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি কোনো কাজে আসেনি সেশনসের। নিজ স্বার্থ ও অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প এখন চোখ উল্টে ফেলেছেন। তবে সেশনসের রয়েছে সিনেটসহ কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটি ও একটি বিশেষ প্রভাবশালী মহলের সমর্থন। কারণ সেশনস ১৯৯৭ থেকে ২০১৭ সালের শুরু পর্যন্ত আলাবামা রাজ্য থেকে নির্বাচিত সিনেটর হিসেবে কংগ্রেসে কাজ করেছেন। তা ছাড়া একজন রাজনীতিক ও আইনজীবী হিসেবেও তাঁর রয়েছে বিশেষ প্রভাব। রিপাবলিকান দলীয় সিনেটররা সেশনসের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের জন্য ট্রাম্পের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। সে কারণেই ধূর্ত ট্রাম্প এখনো তাঁকে সরাতে সমর্থ হননি। তাই কেউ কেউ সেশনসকে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে সরিয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রধান পদে বসিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। কিন্তু সেশনসের তা মোটেও পছন্দ নয়। তাই হোয়াইট হাউস প্রশাসন ও কংগ্রেসে রিপাবলিকান দলীয় নেতাদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে যথেষ্ট বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক বিধিমালা ও প্রথা ভঙ্গ করে তাঁর ব্যবসায়িক স্বার্থ ও রাজনৈতিক ক্ষমতাকে এক করে ফেলেছেন। হোয়াইট হাউসে স্থান করে দিয়েছেন জামাতা জেরেড কুশনার ও কন্যা ইভানকাকে। কুশনার প্রেসিডেন্টের সিনিয়র পরামর্শক বা উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। অথচ কুশনারের সঙ্গে রাশিয়ার গোপন সম্পর্ক (এখনো অসমর্থিত) ও ব্যবসায়িক বিভিন্ন স্বার্থ জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সেসব কারণে কংগ্রেস রিপাবলিকানরা স্পষ্টতই এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তাঁদের দলের জন্য একটি ‘অসহনীয় বোঝা’ হিসেবে বিবেচনা করছেন।

হোয়াইট হাউসের প্রশাসনিক শাখায় (ওয়েস্ট উইং) বিরাজিত চরম বিশৃঙ্খলা, অনৈক্য ও মতবিরোধ অভ্যন্তরীণ প্রশাসন পরিচালনা ও গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে এক সীমাহীন অরাজকতার সৃষ্টি করেছিল। কোনো কিছু সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই খবর পৌঁছে যেত গণমাধ্যমের বিভিন্ন শাখায়। প্রায় প্রতিটি বিভাগের কর্মকর্তাই একে অন্যের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের মতো লেগে থাকতেন। তাঁদের অন্যতম প্রধান কাজ ছিল একে অন্যের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টের কান ভারী করা। তাঁরা অনেকেই হোয়াইট হাউসের প্রধান কর্মকর্তা বা চিফ অব স্টাফকে কোনো গুরুত্বই দিতেন না। ফলে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার অভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। হোয়াইট হাউসের প্রধান কর্মকর্তা থেকে শুরু করে প্রেস সেক্রেটারি পর্যন্ত ছয় মাসে ১২ জন প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে অপসারিত হতে হয়েছে। এ বিষয়টি অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করেছে ওয়াল স্ট্রিটের একজন সাবেক ব্যাংকার, অ্যান্থনি স্কারামুচির হোয়াইট হাউসে অনুপ্রবেশের মধ্য দিয়ে। হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার জন্য তিনি সাবেক প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসার ও অনৈক্য ও বিশৃঙ্খলার জন্য বিশেষ করে প্রশাসনিক প্রধান কর্মকর্তা রেইন্স প্রিবাসকে দায়ী করে প্রেসিডেন্টের কাছে অভিযোগ দাখিল করেন। তাতে প্রেসিডেন্ট অভিযুক্তদের প্রতি অসন্তুষ্ট হলে প্রেসসচিব শন স্পাইসার ও প্রধান কর্মকর্তা রেইন্স প্রিবাস পদত্যাগ করেন। তাঁদের জায়গায় ব্যাংকার অ্যান্থনি স্কারামুচিকে যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক ও জেনারেল জন এফ কেলিকে প্রধান কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। সাবেক প্রেসসচিব স্পাইসার ও সাবেক প্রধান কর্মকর্তা প্রিবাস পরস্পরের সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাঁরা স্কারামুচির মতো অনভিজ্ঞ ব্যক্তির হোয়াইট হাউসে প্রবেশকে আগাগোড়াই বিরোধিতা করেছেন, তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেই হোয়াইট হাউস ত্যাগ করেছেন উভয়ে। গণযোগাযোগ কিংবা গণমাধ্যমের ব্যাপারে অ্যান্থনি স্কারামুচির কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতাই নেই। স্কারামুচির অশ্লীল কথাবার্তা ও অসৌজন্যমূলক আচরণে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। এ অবস্থায় গভীর শৃঙ্খলাবোধসম্পন্ন নবনিযুক্ত প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা জেনারেল কেলির পরামর্শে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত নবনিযুক্ত গণযোগাযোগ পরিচালককে ১০ দিনের মাথায় অপসারণ করেন। তবে অপসারিত স্কারামুচি সুষ্ঠু প্রশাসনের ক্ষেত্রে জেনারেল কেলিকে একটি সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন পরিপ্রেক্ষিত দেওয়ার জন্য সরে যেতে রাজি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসার শুরু থেকে ১৮৩ দিন হোয়াইট হাউসে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে সে সময়টুকু তাঁর জন্য অত্যন্ত সাফল্যের ছিল না। তার প্রধান কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত কথাবার্তা, টুইট, স্বজনপ্রীতি ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ছয়টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারির মাথায় সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ছালি ইয়েটস পদত্যাগ করেছিলেন। তিনি ট্রাম্পের সে ব্যবস্থাকে সমর্থন করতে পারেননি। ছালি ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্বাচিত একজন কর্মকর্তা, যিনি ট্রাম্প প্রশাসনে মাত্র ১১ দিন স্থায়ী হয়েছিলেন। সাবেক প্রধান কর্মকর্তা প্রিবাসের সহকারী কেটি ওয়ালস স্থায়ী হয়েছিলেন ৭০ দিন। মতবিরোধের জন্য তাঁকেও যেতে হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম গণযোগাযোগ পরিচালক ছিলেন মাইক ডুবকে। ট্রাম্পের প্রথম বিদেশ সফরের আগে সর্বমোট ৮৬ দিনের মাথায় ব্যক্তিগত কারণে তিনি প্রশাসন থেকে পদত্যাগ করেন। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধের কারণেই তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে পরে জানা যায়। তা ছাড়া ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে আসার আগমুহূর্তে দ্বিতীয় অশ্বেতাঙ্গ (আফ্রিকান-আমেরিকান) কর্মকর্তা অ্যাঞ্জেলা রিড পদত্যাগ করেন। জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টার সহকারী কেটি ম্যাকফারল্যান্ড হোয়াইট হাউসে তাঁর ১১৮ দিনের মাথায় পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তা ছাড়া রয়েছেন সরকারের নৈতিকতা (এথিকস) অফিসের পরিচালক ওয়াল্টার সাউব, যিনি ১৮১ দিনের মাথায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তীব্র মতবিরোধের কারণে পদত্যাগ করেছিলেন। ওয়াল্টার ছিলেন বিভিন্ন নীতিতে ট্রাম্পের ঘোর সমালোচনাকারী। তাঁরা কেউ ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করতে সমর্থ হননি। এর প্রধান কারণ মতবিরোধ। প্রথম দিকে অর্থাৎ ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এলে অনেক আশা নিয়ে অনেকে তাঁর সঙ্গে কাজ করতে এসেছিলেন। কিন্তু অতি অল্প সময়ের মধ্যে তাঁদের স্বপ্নভঙ্গ হয়। তাঁদের সব মোহ কেটে যায় সরকারি বিভিন্ন নীতি ও কার্যকলাপের কারণে। কোনো রকম রাজনৈতিক কিংবা প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও শৃঙ্খলাবোধহীন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করা অত্যন্ত দুঃসাধ্য বলে তাঁরা উল্লেখ করেছেন। এর বাইরে কিছু কিছু লোক আছেন, যাঁরা এখনো ট্রাম্পের ব্যাপারে চূড়ান্তভাবে হতাশ হননি। তাঁরাই এখনো ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে লেগে আছেন বলে ওয়াকিফহাল মহলের ধারণা। ওবামাকেয়ার নামক স্বাস্থ্যসেবা বাতিলের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। জনস্বার্থে তাঁর দলের প্রভাবশালী কয়েকজন সিনেটরও তাঁর পক্ষে ভোট দেননি। মেক্সিকোর সীমান্তজুড়ে দেয়াল নির্মাণের অর্থ মেক্সিকান সরকার দেবে না বলে সিদ্ধান্তে এখনো অটল। এ ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে কী করছেন, তা কারো কাছেই স্পষ্ট নয়। দূরপাল্লার আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যাপারে উত্তর কোরিয়া একের পর এক কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্র তা সমাধানে কোনো বাস্তব ও কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ এখনো গ্রহণ করতে পারেনি। এ ব্যাপারে ট্রাম্প এত দিন চীন ও রাশিয়ার ওপর ভরসা করে বসেছিলেন। কিন্তু তাতে কোনো সাফল্য আসেনি। তদুপরি রাশিয়ার ওপর নতুন করে কংগ্রেসের নিষেধাজ্ঞা বা অর্থনৈতিক অবরোধ জারির প্রশ্নে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন এক জটিল আকার ধারণ করছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চীন, জাপান, এমনকি ভারতও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনির্ভরযোগ্য মনে করে। তাই তারা যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকাকে সম্ভাব্য নতুন পার্টনার বলে ধরে নিচ্ছে।

‘আমেরিকাই প্রথম’ অর্থাৎ ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে আমেরিকার স্বার্থই প্রথম ও প্রধান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ তথাকথিত জাতীয়তাবাদী স্লোগান যুক্তরাষ্ট্রকে পরোক্ষভাবে বিশ্বসমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে। সে স্লোগান আমেরিকার জন্য তেমন বিশেষ কল্যাণ বয়ে আনছে না। অপর দিকে শীতলযুদ্ধ (কোল্ড ওয়ার) শেষ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের কাছে রাশিয়ার অতীত ভাবমূর্তি মুছে যায়নি। ট্রাম্প ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে রুশ সরকারের বিশেষ সম্পর্ককে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ তাই সহজভাবে নিতে পারছে না। অনেকে মনে করে, রাশিয়ার পুতিন ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সঙ্গে ট্রাম্প পরিবারের বিশেষ ব্যবসায়িক ও স্বার্থের প্রশ্ন জড়িত রয়েছে। তা ছাড়া পুতিন যতই অস্বীকার করুন ২০১৬ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় রাশিয়া, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট পুতিন হিলারি ক্লিনটন ও তাঁর ডেমোক্রেটিক দলের বিরুদ্ধে কাজ করেছেন বলে মার্কিন নাগরিকদের অনেকেই বিশ্বাস করেন। এ ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্টের একটি বিশেষ যোগসূত্র রয়েছে বলে তাঁদের ধারণা। এগুলোসহ অন্যান্য সাংবিধানিক ও আইনি কারণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনের ব্যবস্থা নেওয়া হতেও পারে। এখন সেটি নির্ভর করছে ডেমোক্রেটিক পার্টির রাজনৈতিক বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর। তবে এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের বেলায় বিশেষ দেখা যায়নি। সেসব কারণে ভীত, সন্ত্রস্ত ও বিচলিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত ছয় মাসের রাজত্বকালে অভ্যন্তরীণ প্রশাসনের ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউসের এক ডজন প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে অপসারণ করেছেন। কারো কারো ক্ষেত্রে চরমভাবে হতাশ হয়ে তাঁরা নিজেরাই পদত্যাগ করে চলে গেছেন। তাতেও স্বস্তি পাচ্ছেন না ডোনান্ড ট্রাম্প। সামগ্রিকভাবে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এক চরম বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা তাঁকে যেন ক্রমে ক্রমে অপ্রকৃতিস্থ করে তুলছে। তিনি এখন কাউকে বিশ্বাস করতে কিংবা কারো ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে তাঁর বিরোধী শিবির থেকে প্রশ্ন উঠেছিল, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প কি মানসিকভাবে উপযুক্ত? তা ছাড়া বাস্তব রাজনীতি ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতাহীন ডোনাল্ড ট্রাম্প বাকিটা সময় কিভাবে পরিচালনা করবেন যুক্তরাষ্ট্রকে? এসব প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্রে এখন নতুনভাবে অনেকের মনে দেখা দিয়েছে।

লেখক : সাবেক কূটনীতিক ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সাবেক প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক
gaziulhkhan@gmail.com

 


মন্তব্য