kalerkantho


হে হাসপাতালওয়ালা- এমন অবস্থা তো আপনারও হতে পারে একদিন!

আহ্‌সান কবীর   

২৮ জুলাই, ২০১৭ ১৪:৪৮



হে হাসপাতালওয়ালা- এমন অবস্থা তো আপনারও হতে পারে একদিন!

ছবিটা কয়েকদিন আগের তোলা। আজ (শুক্রবার) দুপুরে খবর নিয়ে দেখা গেছে- লোকটার অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে এখন ছবি- আজিজুল হাকিম

বয়স ৬০-৬৫ বছর হবে। বেশ কয়েকদিন ধরে পড়েছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সামনের ফুটপাতে।

অসুস্থ, এবং পরিত্যক্ত- দেখেই বোঝা যায়। কথাবার্তা বলেন না, শুধু রোগে ভোগার কষ্ট আর অযত্ন-অনাহারের কর্কশ ছাপ চোখেমুখে, শরীরে।  

আশপাশে অনেকেই দেখে চোখ ঘুরিয়ে হেঁটে গেছে, চলে গেছেন পথচারীরা্র। পাশের দোকানদাররাও তেমনিভাবে এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন। শেষতক পারভেজ নামে একজন দোকান কর্মচারী তার সাহায্যে এগিয় আসেন। ফুটপাতের দোকানি ও আশপাশের কয়েকজনের সহযোগিতায় ওই বৃদ্ধকে ভালমতো গোসল করিয়ে কাপড় পাল্টে নিয়ে যান হাসপাতালের ভেতর। সেখানে এর ওর কাছে দেন দরবার  করে, গাঁটের টাকা খরচা করে নাম না জানা আপনভোলা অসুস্থ লোকটিকে ভর্তি করে দিয়ে আসেন।

কিন্তু যেহেতু লোকটির স্বজন-পরিজন কেউ নেই, টাকা খরচ করার বা বিল দেওয়ার কেউ নেই তাই তাকে ওয়ার্ডের দরোজার সামনের ফ্লোরে ফেলে রাখা হয়। শেষমেষ ওই ওয়ার্ডের ডাক্তার আর নার্সরা মিলে কয়েকজন ওয়ার্ড বয় আর আনসারকে কাজে লাগান।

আনসার আর ওয়ার্ডবয়দের এই দলটি লোকটিকে ট্রলিতে তুলে একেবারে হাসাপাতালের বাইরে ফেলে রেখে যায়- যেন ‘যেখানকার মাল সেখানে-ই’ আর কী...

আমি তো বলবো লোকটার কপাল ভাল যে দেশের প্রধান এই সরকারি হাসপাতালে ট্রলি অন্তত ছিল, না হলে তো তাকে চ্যাংদোলা করে নিয়ে রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলে আসতো তারা...

কোন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল এই বৃদ্ধকে- জানা আছে, কারা কারা তাকে এভাবে রাস্তায় ফেলে দিয়ে দায় এড়াতে চেয়েছেন- জানা আছে... কিন্তু তাদের নাম বলবো না। ভয়ে নয়- এমনিতেই... কারণ তারা তো পুরো সিস্টেমের কয়েকটি ‘নমুনা’ মাত্র! আপনি আমি আমরা সবাই তো কমবেশি এমন-ই হয়ে গেছি আজকাল।  

ঢামেক হাসপাতালের দুই একজন ব্যক্তি বা বিভাগের নাম এখান বললে তারা হয় তো প্রমাণ চাইবে প্রথমে, তারপর সাংবাদিকদের হোয়াইটওয়াশে হয়তো বা একটা স্ট্রাইক-ই ডেকে বসবেন। অপরদিকে, হাসপাতালের ঊর্দ্ধতন মহল, পরিচালক মহোদয় হয়তো দ্রুত একটা ব্যবস্থা নিবেন, কাউকে কাউকে একটু আধটু শাসন করবেন- কিন্তু আমাদের ভেতরে ক্রমশ শক্ত হতে থাকা অমানবিকতা আর অমানুষত্বের বিষটা তো তাতে দূর হবে না! কাল দেখা যাবে আর একজনের সঙ্গে এমন করা হয়েছে! এটা আপনি আমি যে কেউ হতে পারি!

আমার শুধু একটাই প্রশ্ন জাগছে মনে- আচ্ছা, আপনারা কি মনে করেন যে কখনো আপনাদের এমন অবস্থা বা এরচেয়ে খারাপ অবস্থা হবে না! সেদিন...

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে আজকালকার হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা কীভাবে দেখেন জানি না- কিন্তু এই দেশের সিংহভাগ মানুষ, তা দুর্গম উড়ির চর হোক আর অভিজাত ধানমন্ডি-বারিধারা হোক, সব জায়গার বাসিন্দারাই অনেক বড় কিছু মনে করেন। দেশের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল, সরকারি হাসপাতাল, সেথানে কোনোমতে একবার পৌঁছাতে পারলে চিকিৎসা কিছু একটা হবেই, অন্তত ফেলে দেবে না... কিন্তু এখন তো মনে হাচ্ছে এই গৌরবময় মর্যাদাকর বিশ্বাসটার কোনো মূল্যই নেই ঢাকা মেডিকেলওয়ালাদের কাছে!
  
লেখক: অনলাইন ইনচার্জ, কালের কণ্ঠ


মন্তব্য