kalerkantho


আর কতো সমস্যা হতে হবে? সমস্যার আর কতো গভীরে যেতে হবে?

আনিসুর বুলবুল   

৯ মে, ২০১৭ ২০:২৬



আর কতো সমস্যা হতে হবে? সমস্যার আর কতো গভীরে যেতে হবে?

শাজাহানপুর আমতলা মসজিদের কাছে গিয়ে রতনদার মোবাইলে কল দিই। ধরেন বৌদি। বলেন, মসজিদের পাশের ওই গলি দিয়েই যেন সামনের দিকে এগুতে থাকি। আমি বাইক গলির দিকে ঘুরাই। আমাকে নিতে বৌদি রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে আসেন।

রতনদার বাসায় এই প্রথমবার যাই। রতনদার জন্য অনেকগুলো ম্যাগির থাই সুপ নিয়ে গেছি। রতনদা সুপ ছাড়া এখন আর অন্য কিছু খেতে পারেন না। বৌদির পেছনে পেছনে বাসায় গিয়ে সোজা বেড রুমে ঢুকে পড়ি। গিয়ে দেখি রতনদা বিছানায় শুয়ে আছেন। আমার দিকে একবার তাকালেন। মনে হলো একটু মুছকি হাসলেন।

বৌদি রতনদাকে জিজ্ঞাসা করছেন, আমাকে তিনি চিনতে পারছেন কি না? রতনদা বলছেন, চিনি তো। কিন্তু নাম বলতে পারছেন না। বৌদি জানান, আজ সকালে তাকেও নাকি চিনতে পারেন নাই!

রতনদার অবস্থা দেখে আমার চোখ টলটল করছে। বৌদির সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলতে পারছি না। উঠে গিয়ে ড্রয়িংরুমে বসি।

এই তো সেদিন। মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাব থেকে যাবো খাগড়াছড়ি ভ্রমণে। রতনদা আমাকে ফোনে বললেন, আমি যেন পুরানা পল্টনে চলে আসি। আমরা দুজন একসঙ্গে উঠবো বাসে। আমি রাত সাড়ে ৯টার দিকে গিয়ে হাজির হই পুরানা পল্টন মোড়ে। রতনদাও আসেন। কিন্তু বাসের কোনো খবর নাই। রাত ১২টা পর্যন্ত আমরা পল্টন হোটেল বসে কফি খাই, আড্ডা দেই।

তারপর বাস আসে। দেখি আমাদের দুজনের জন্য ডি সিরিয়ালের পাশাপাশি দুটি সিট রাখা আছে। বসি দুজন একসঙ্গে। খাগড়াছড়িতেও আমাদের জন্য বরাদ্দ হয় এক রুম। থাকিও দুজন একসঙ্গে। স্থানীয় এক সাংবাদিকের বাইক নিয়ে আমরা পুরো খাগড়াছড়ি ঘুরে দেখি। কতো কথা ... কতো আড্ডা .. কতো স্মৃতি ... !

বৌদি রতনদাকে ড্রয়িং রুমে এনে বসিয়ে দেন। রতনদা আমার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। কোনো কথা জিজ্ঞাসা করলে বলতে পারেন না। বৌদি কতোবার বললেন, আমার নাম বলার জন্য রতনদা পারলেন না।

কয়েকদিন আগে রতনদা মোটরসাইকেল একসিডেন্ট করেছেন। তিনি নাকে, মুখে, কপালে, চোখে, মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছেন। প্রথমে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল তারপর ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা করিয়েছেন। এখন স্মৃতি লোপ পাওয়ায় ব্রেনের ডাক্তারও দেখাচ্ছেন।

বৌদিকে বলি, সংসার চলছে কেমনে? বৌদি জানান, রতনদার মানি ব্যাগ থেকে দুই হাজার আর ব্যাগ থেকে সাত হাজার টাকা পেয়েছি। বৌদি আর বলতে পারেন না। বৌদির চোখেও পানি!

আমি জানতে চাই, রতনদার পত্রিকার অফিস থেকে কেউ খোঁজ খবর নিয়েছেন কি না? বৌদি জানান, চার মাস যাবত বেতনই নাকি পায়নি তিনি। কয়েকজন সাংবাদিকের কার্ড দেখিয়ে বৌদি বলেন, সবাই শুধু ফোন দিয়ে বলেন ডাক্তার দেখান .. কোনো সমস্যা হলে জানাবেন।

আর কতো সমস্যা হতে হবে? সমস্যার আর কতো গভীরে যেতে হবে?

সাংবাদিক রতন চন্দ্র বালোর জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

লেখক : সহসম্পাদক, কালের কণ্ঠ


মন্তব্য