kalerkantho


সিটিং সার্ভিস চালু রেখেই 'চিটিং' বন্ধ করতে হবে

মাহতাব হোসেন   

১৬ এপ্রিল, ২০১৭ ১৫:১৭



সিটিং সার্ভিস চালু রেখেই 'চিটিং' বন্ধ করতে হবে

পরিবহন মালিকদের সংগঠন ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতি ৪ এপ্রিল সংবাদ সম্মেলন করে রাজধানীতে সিটিং সার্ভিস ও গেটলক প্রথা বাতিলের ঘোষণা দেয়। গতকাল (১৫ এপ্রিল) থেকে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কথা থাকলেও, গতকালও রাজধানীতে সিটিং সার্ভিস ও গেটলক বাস চলতে দেখা গেছে।

পরে গতকাল বিকালে এলেনবাড়িতে বিআরটিএ'র প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিটিং সার্ভিস বন্ধে অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ সকাল থেকেই সব সিটিং সার্ভিস বন্ধে অভিযান শুরু হয়। সিটিং সার্ভিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেল-জরিমানা করবেন। একই সঙ্গে বাসে বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা টাঙিয়ে রাখা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।

সিটিং সার্ভিস বন্ধের ফলে কী লাভ বা ক্ষতি হলো সেটাই অনেকেই বুঝতে পারছেন না। বোঝার আগেই পড়েছেন ভোগান্তিতে। আজকেও রাজধানীর বিভিন্ন রুটের যাত্রীদের কাছ থেকে আগের মতোই ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে ভাড়াটাই মুখ্য বিষয় নয়। আরো কয়েকটি বিষয় রয়েছে একটু খেয়াল করলেই পরিষ্কার হবে।

সিটিং সার্ভিস কী? রাজধানীর বিভিন্ন রুটে 'সিটিং সার্ভিস' ব্যানার লাগিয়ে প্রচুর বাস চলাচল শুরু করে এবং অল্পদিনের মধ্যেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে যায়। মানুষ সামান্য ভাড়া বেশি দিতে চায় এর বিপরীতে গন্তব্যে তাড়াতাড়ি পৌঁছতে চায়। ধরা যাক, মিরপুর থেকে কেউ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় যেতে চাইলে এই রুটের বাসগুলোর ন্যূনতম ভাড়া ২৫ টাকা দিয়ে যেতে হবে। মিরপুর ১ নম্বর ও ২ নম্বর থেকে এমনকি ১০ নম্বর থেকে যেতেও ২৫ টাকা দিতে আপত্তি নেই। কিন্তু তাকে যদি কালশী বা ইসিবি চত্বর থেকে উঠে বসুন্ধরায় নামতে হয় তাহলে নিয়মের মারপ্যাঁচে পড়ে ২৫ টাকা দিতে হবে।

এই রুটের ২৫ টাকা ভাড়া ধরা হয়েছে নতুন বাজার থেকে মিরপুর আনসার ক্যাম্প পর্যন্ত। কিন্তু কেউ যদি এই পথের তিন ভাগের এক ভাগ যায় আর তাকেও যদি একই ভাড়া দিতে হয় তাহলে আপত্তি হবেই। এ ক্ষেত্রে বাস সার্ভিসগুলো আক্রমণাত্মক ভাড়ার নিয়ম না চালু করে নমনীয় হতে পারত তাহলে সিটিং সার্ভিসের বিরুদ্ধে 'চিটিং' এর প্রশ্ন উঠত না।

ঢাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান শাহবাগ। সিটিং সার্ভিসের চিটিং বিষয় আপত্তির অন্যতম স্থান হলো শাহবাগ। সবচেয়ে বড় প্রতারণা করা হয় এখানে। ধরা যাক, উত্তরা বিমানবন্দর এলাকা থেকে বাসে উঠে বাংলামোটরে নামলে যে ভাড়া দিতে হবে তার দুই মিনিটের দূরত্ব শাহবাগ নামলে আরো ১০ টাকা বেশি ভাড়া দিতে হবে। শুধু উত্তরা নয়, মিরপুর, গাবতলীর শত শত বাস এই নিয়ম চালু করে রেখেছে। যেসব বাসযাত্রীদের বাংলামোটর অতিক্রম করলেই ১০ টাকা বেশি দিতে হবে। এই ১০ টাকা গুলিস্তান পর্যন্ত। যদি শাহবাগে চেকার রাখত তাহলে এত আপত্তির প্রশ্ন তৈরি হতো না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এভাবে বঞ্চনার শিকার হতে হয়।

কোথাও কোথাও আবার সিটিং সার্ভিস যাত্রীদের দারুণভাবে মন রক্ষা করে চলছিল। যাত্রীরাও সন্তুষ্ট। যেমন উত্তরা থেকে পোস্তগোলাগামী রাইদা, মিরপুর থেকে কুড়িল হয়ে যাত্রাবাড়ী, মিরপুর থেকে ডেমরা অছিম সার্ভিস কিংবা ক্যান্টমেন্ট থেকে শাহবাগগামী ট্রাষ্ট এইসব বাস সার্ভিস সম্পর্কে যাত্রীদের অভিযোগ একেবারেই কম।

আজ থেকে ঢাকায় সিটিং সার্ভিস বন্ধ হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে নৈরাজ্য শুরু হয়ে গেছে। নানামুখী অভিযোগ হয়রানির কথা শোনা যাচ্ছে। এমনকি আজ রাজধানীর বিভিন্ন রুটে নারী যাত্রীদের তুলছে না বাসগুলো। এখন এই সিটিং সার্ভিস একটা বড় শ্রেণিকে ভালো সার্ভিস দিত অন্যায় করেও। কিন্তু তারপরও পূর্বে বলা হয়েছে কেউ কেউ দ্রুত গন্তব্যে যেতে চান।  

সিটিং সার্ভিসের 'চিটিং' বন্ধ করতে গিয়ে যদি সিটিং সার্ভিস বন্ধ করে যাত্রীদের হয়রানি বেড়ে যায় তাহলে অন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সিটিং সার্ভিস চালু রেখে উল্লেখিত চিটিং বন্ধ করতে হবে। একই সাথে রাজধানীতে নিম্নমানের বাস সরিয়ে পর্যাপ্ত বাস নামাতে হবে, নারীদের পর্যাপ্ত সুবিধা রাখতে হবে বাসে।

মতামত :  গণমাধ্যমকর্মী


মন্তব্য