kalerkantho


লালমনিরহাটের কাকিনা জমিদার বাড়ি হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৩২



লালমনিরহাটের কাকিনা জমিদার বাড়ি হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র!

উত্তরবঙ্গের অন্যতম অবহেলিত জেলা লালমনিরহাট। এক সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম মঙ্গাকবলিত জেলা ছিল। কালের আবর্তে অর্থনীতির চাকা সচল করে অন্যান্য জেলাগুলোর মতই লালমনিরহাট জেলা আজ স্বনির্ভর। লালমনিরহাট জেলা হতে পারে পর্যটন কেন্দ্র। এখানে অনেকগুলো দর্শনীয় স্থান রয়েছে। দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে তিন বিঘা করিডোর ও দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহল, তিস্তা ব্যারাজ ও অবসর রেস্ট হাউজ, বুড়িমারী স্থলবন্দর, তুষভান্ডার জমিদারবাড়ি, কাকিনা জমিদারবাড়ি, সিন্দুরমতি দীঘি, কালীবাড়ি মন্দির ও মসজিদ, বিমানঘাঁটি, তিস্তা রেলসেতু, লালমনিরহাট জেলা জাদুঘর। আজ আমি আপনাদের সামনে কাকিনা জমিদারবাড়ি ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পর্যটন শিল্পের গুরুত্ব নিয়ে হাজির হয়েছি।

কাকিনা জমিদারবাড়ি : 
ইতিহাস বিশ্লেষণে জানা যায়, মহারাজা মোদ নারায়নের সময় কাকিনা ছিল কোচবিহার রাজ্যাধীন একটি চাকলা। তৎকালে কাকিনার চাকলাদার ছিলেন ইন্দ্র নারায়ণ চত্রুবর্তী। ১৬৮৭ খ্রিষ্টাব্দে ঘোড়াঘাটের ফৌজদার এবাদত খাঁ মহারাজা মোদ নারায়ণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে কোচ রাজ্যে অভিযান চালানোর সময় রঘু রামের দুই পুত্র রাঘবেন্দ্র নারায়ণ ও রাম নারায়ণ ফৌজদারের পক্ষ অবলম্বন করেন। মোগলদের এ অভিযানে কোচ বাহিনী পরাজিত হলে ইন্দ্র নারায়ণ চত্রুবর্তীকে কাকিনার চাকলাদার পদ থেকে অপাসারণ করা হয় এবং রাঘবেন্দ্র নারায়ণকে পরগনা বাষট্রি ও রাম নারায়ণকে পরগনা কাকিনার চৌধুরী নিযুক্ত করা হয়। এভাবেই ইন্দ্র নারায়ণ চক্রবর্তীর চাকলাদারী শেষ হয়ে কাকিনায় রাম নারায়ণের মাধ্যমে নতুন জমিদারির সূচনা ঘটে। 

রাম নারায়ণ চৌধুরীর পিতা রঘু রাম সম্পর্কে যতদূর জানা যায়, চাকলাদার ইন্দ্র নারায়ণ চত্রুবর্তীর সময় তিনি কাকিনা চাকলার একজন সাধারণ কর্মচারী ছিলেন। তবে রঘু রামের পিতা রমা নাথ ১৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে কোচবিহার মহারাজা প্রাণ নারায়ণের সময় (১৬৩২-৬৫ খ্রিঃ) রাজ দপ্তরে মজুদদারের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। ১৬৮৭ খ্রিষ্টাব্দে রাম নারায়ণ কাকিনা পরগনার চৌধুরী নিযুক্ত হওয়ার মধ্যে দিয়ে কাকিনায় যে জমিদারির সূচনা ঘটেছিল, জমিদার মহেন্দ্ররঞ্জনের সময় তাঁর অপরিণামদর্শী ব্যয় ও বিলাসিতার কারণে তা ধ্বংসের মুখে পতিত হয়। মহাজনদের বকেয়া ও সরকারি রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর জমিদারী নিলাম হয়ে যায় এবং এর পরিচালনার ভার কোর্ট অব ওয়ার্ডস- এর অধীন চলে যায়। অতঃপর তিনি প্রায় নিঃস্ব অবস্থায় স্বপরিবারে কাকিনা ত্যাগ করে কার্সিয়াং (দার্জিলিং)- এ চলে যান। ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে সেখানেই তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

কিভাবে যাওয়া যায় : 
সড়ক পথে: ঢাকা থেকে ঢাকা-লালমনিরহাট জাতীয় মহাসড়ক পথে লালমনিরহাট হয়ে পুনরায় লালমনিরহাট হতে বুড়িমারী (পাটগ্রাম উপজেলা) স্থল বন্দরগামী রাস্তায় মহাসড়ক পথে (লালমনরিহাট হতে প্রায় ২১কিঃমিঃ) কাকিনা বাজার বাসস্ট্যান্ড। বাসস্ট্যান্ড হতে ২০০ গজ পশ্চিমে জমিদার বাড়ির ভগ্নাবশেষ অবস্থিত। লালমনিরহাট থেকে লালমনিরহাট-বুড়িমারি মহাসড়ক পথে প্রায় ২১ কিঃমিঃ দূরে জমিদার বাড়ি অবস্থিত। রংপুর হতে লালমনিরহাট হয়ে বুড়িমারি স্থল বন্দরের সড়কে ৬৬ কি:মি: দূরে জমিদার বাড়ি অবস্থিত। 

রেল পথে : লালমনিরহাট হতে বুড়িমারি রেলপথে কাকিনা রেল স্টেশনে নেমে প্রায় ২ কি:মি: দক্ষিণ দিকে জমিদার বাড়ি অবস্থিত।

থাকা-খাওয়া : 
হোটেল রূপসী বাংলা ও নর্থবেঙ্গল গেস্ট হাউসসহ বেশ কয়টি আবাসিক হোটেল। বর্তমানে কালীগঞ্জ উপজেলাধীন কাকিনা ইউনিয়নের কাকিনা মৌজায় এক কালে গড়ে উঠেছিল বড় বড় ইমারত বিশিষ্ট জমিদার বাড়ি, যা কালের স্রোতে নিশ্চিন্ন হয়ে গেছে। বর্তমানে কাকিনা জমিদার বাড়ির অতীত স্মৃতি ধারণ করে এখন নীরবে দাড়িয়ে রয়েছে শুধুমাত্র- “হাওয়াখানা’।

লালমনিরহাট থেকে আজিজুল ইসলাম বারী।



মন্তব্য