kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

মানুষের জন্মপ্রক্রিয়া

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



মানুষের জন্মপ্রক্রিয়া

২০. সে [মারিয়াম (আ.)] বলল, কেমন করে আমার পুত্র হবে, যখন কোনো পুরুষ আমায় স্পর্শ করেনি এবং আমি ব্যভিচারিণীও নই? (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ২০)।

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, জিবরাইল (আ.) সন্তানের সুসংবাদ নিয়ে মারিয়াম (আ.)-এর কাছে এসেছেন। এই সংবাদে মারিয়াম (আ.) বিস্মিত হন। এ বিষয়ে তাঁর অনুভূতি আলোচ্য দুই আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। মারিয়াম (আ.) প্রথমেই গোসল কক্ষের সন্নিকটে ফেরেশতার উপস্থিতি দেখে ভয় পেয়ে যান। পরে তাঁর কথা শুনে আরো বিস্মিত হয়ে যান। জবাবে তিনি বলেন, মানুষের জন্মপ্রক্রিয়া হলো, নারী-পুরুষের শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু কোনো পুরুষ তো আমাকে বৈধভাবেও স্পর্শ করেনি। আর আমি তো ব্যভিচারিণীও নই। তাহলে আমার সন্তান হবে কিভাবে?

কিন্তু মহান আল্লাহর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি চেয়েছেন যে একটি কুমারী মেয়ে সন্তানের মা হবে, যাতে ঈসা (আ.)-এর জন্ম একটি অলৌকিক ঘটনা হয়ে ইতিহাসের পাতায় সমুজ্জ্বল থাকে। মহান আল্লাহর কাছে এটি একেবারেই সহজ কাজ, যদিও প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে তা একটি অসম্ভব ব্যাপার বলেই মনে হয়।

স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী, পুরুষের শুক্রাণু ও নারীর ডিম্বাণুর মিলনে সন্তানের জন্ম হয়। নারীর ঋতুচক্রের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি মাসে একটি পরিপক্ব ডিম্বাণু ডিম্বাশয় থেকে বেরিয়ে এসে ডিম্বনালিতে আশ্রয় নেয়। ঠিক এ সময় পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক হলে পুরুষের শুক্রকীট নারীর যোনিপথে প্রবেশ করে। প্রতিবার শারীরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ৫০ কোটি শুক্রাণু নারীরা ধারণ করে। এগুলো নারীর জরায়ুমুখ দিয়ে জরায়ুতে প্রবেশ করে ডিম্বনালির দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে অপেক্ষমাণ ডিম্বাণুর সঙ্গে মাত্র একটি শুক্রাণুই মিলিত হতে পারে ৫০ কোটির মধ্য থেকে। এই মিলনের আগে শুক্রাণু হায়ালুরনিডেজ নামে এক এনজাইম সৃষ্টি করে। এই এনজাইম ডিম্বাণুর বাইরের আবরণে ক্ষত সৃষ্টি করে, যার মধ্য দিয়ে শুক্রাণু ডিম্বাণুর ভেতরে প্রবেশ করে এবং প্রবেশের পর সেই ক্ষতস্থান আবার বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আর কোনো শুক্রাণু ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হতে পারে না। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনের পর কয়েক ঘণ্টা একটি কোষ হিসেবেই থাকে। একে বলা হয় জাইগোট। ৩০ ঘণ্টা পর এর থেকে দুটি এবং তিন দিনে আটটি কোষ হয়। চতুর্থ দিনে জাইগোটের ১৬টি কোষ হয় এবং তখন তা জরায়ুতে প্রবেশ করে। পঞ্চম দিনে তা ব্লাস্টোসিস্টে পরিণত হয়। জাইগোট জরায়ুতে প্রবেশ করার পর কোষগুলো ভাগ হতেই থাকে। এক সপ্তাহ পর জাইগোট থেকে কিছু কোষ জরায়ুর অভ্যন্তরে নিজেকে আটকে রাখে। এরই মধ্যে জাইগোটের মধ্যে পানিগহ্বরের সৃষ্টি হয়। এর থেকেই আমানি বা মেষক থলি তৈরি হয়। এর মধ্যে কিছু কোষ চ্যাপ্টা হয়ে যায়, এদের বলা হয় ট্রফোব্লাস্ট। এই ট্রফোব্লাস্ট থেকেই প্লাসেন্টা তৈরি হয়। বাকি কোষগুলো এমব্রয়োব্লাস্টে পরিবর্তিত হয়। আর এর থেকেই ভ্রূণের সৃষ্টি হয়। আট সপ্তাহের মধ্যে ভ্রূণ সম্পূর্ণ আকার ধারণ করে। এভাবেই স্বাভাবিক নিয়ম অনুসারে সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু আল্লাহ চাইলে অস্বাভাবিক নিয়মেও সন্তান হতে পারে। মহান আল্লাহ সব নিয়মের ঊর্ধ্বে। (সূত্র : চিকিত্সাবিষয়ক বিভিন্ন ওয়েব)।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

 



মন্তব্য