kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

দুই সাগরের মিলনস্থলের খোঁজে মুসা (আ.)

১১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



দুই সাগরের মিলনস্থলের খোঁজে মুসা (আ.)

৬০. স্মরণ করো, যখন মুসা তার সঙ্গীকে বলেছিল, দুই সাগরের মিলনস্থলে না পৌঁছে আমি থামব না অথবা যুগ যুগ ধরে চলতে থাকব। [সুরা : কাহফ, আয়াত : ৬০ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : সুরা কাহফের সূচনায় এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছিল যে এ সুরায় মোট তিনটি ঘটনা বিবৃত হবে। সেগুলো হলো—আসহাবে কাহফের ঘটনা, বাগানের মালিকের ঘটনা এবং মুসা (আ.) ও খিজির (আ.)-এর ঘটনা। প্রথম দুটি ঘটনা আগের আয়াতগুলোতে বর্ণিত হয়েছে। আলোচ্য দুই আয়াত থেকে তৃতীয় ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে আগের ঘটনার যোগসূত্র হলো, আগের ঘটনায় বিত্ত-বৈভব পেয়ে অহংকারী হতে নিষেধ করা হয়েছে। আলোচ্য ঘটনায় জ্ঞান পেয়ে অহংকার করতে নিষেধ করা হয়েছে।

এখানে মুসা (আ.) ও খিজির (আ.)-এর ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। ঘটনাটির পটভূমি হলো, বুখারি ও মুসলিম শরিফে এসেছে, উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, একদিন মুসা (আ.) বনি ইসরাঈলের এক সভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন। এক ব্যক্তি তাঁকে প্রশ্ন করেছে, কোন ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি জ্ঞানের অধিকারী? মুসা (আ.) বলেছেন, ‘আমি।’ কেননা তাঁর জানামতে সে সময় তাঁর চেয়ে বেশি জ্ঞানী আর কেউ ছিল না। আর বাস্তবতার আলোকে তাঁর কথা সঠিক ছিল। কেননা নবীদের উপস্থিতিতে তাঁদের চেয়ে বেশি আসমানি জ্ঞানের অধিকারী আর কেউ হয় না। তবে নবীদের জ্ঞান আল্লাহ প্রদত্ত। তাই উত্তম হতো, যদি তিনি বলতেন যে মহান আল্লাহ সবচেয়ে বড় জ্ঞানী। অন্যদিকে মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে বিশেষভাবে গড়ে তুলতে চান। তাই তিনি মুসা (আ.)-এর জ্ঞাতার্থে তাঁকে খিজির (আ.)-এর কাছে পাঠিয়েছেন। মুসা (আ.)-কে বলে দেওয়া হয়েছে যে আপনার উদ্দিষ্ট ব্যক্তিকে ‘মাজমাউল বাহরাইন’ তথা দুই সাগরের মিলনস্থলে পাওয়া যাবে।

মুসা (আ.)-এর এ ঘটনাটা কোথায় ও কবে সংঘটিত হয়েছে, এ বিষয়ে কোরআনে সুস্পষ্ট করে বলা হয়নি। অবশ্য তাফসিরের গ্রন্থগুলোতে আউফি (রহ.)-এর বরাতে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, ফেরাউনের ধ্বংসের পর মুসা (আ.) যখন মিসরে নিজের জাতির বসতি স্থাপন করেন তখন এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল। আর দুই সাগরের মিলনস্থল বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা নিয়ে তাফসিরবিদদের মধ্যে বিস্তর মতভেদ দেখা যায়। তাফসিরবিদ কাতাদা (রহ.) মনে করেন, এখানে পারস্য উপসাগর ও রোম উপসাগরের সঙ্গমস্থলের কথা বলা হয়েছে। তাফসিরবিদ ইবনে আতিয়্যার মতে, আজারবাইজানের কাছে অবস্থিত একটি স্থানের কথা বলা হয়েছে। কেউ কেউ জর্দান নদী ও ভূমধ্য সাগরের মিলনস্থলের কথা বলেছেন। আর কেউ কেউ বলেন, এটি তুঞ্জায় অবস্থিত। ইবনে আবি কাব (রহ.)-এর মতে, এটি আফ্রিকায় অবস্থিত। আল্লামা সুদ্দি (রহ.)-এর মতে, এটি আর্মেনিয়ায় অবস্থিত। অনেকের মতে, স্পেন সাগর ও লোহিত সাগরের সঙ্গমস্থল এটি।

আধুনিক যুগের কোনো কোনো তাফসিরবিদের অনুমান হলো, সম্ভবত মুসা (আ.)-এর সফরটি ছিল সুদানের দিকে। এ ক্ষেত্রে দুই দরিয়ার সঙ্গমস্থল হলো, বর্তমান খার্তুম শহরের নিকটবর্তী নীল নদের দুই শাখা—বাহরুল আবইয়াজ (হোয়াইট নীল) ও বাহরুল আযরাক (ব্লু নীল) সেখানে এসে মিলিত হয়েছে। তাঁর মতে, মুসা (আ.) সারা জীবন যেসব এলাকায় কাটিয়েছেন, সেসব এলাকায় এই একটি স্থান ছাড়া আর কোথাও দুই নদীর সঙ্গমস্থল নেই। মহান আল্লাহ সম্যক অবগত।

 

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ



মন্তব্য