kalerkantho


বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অনন্য উচ্চতা

মুহা. রুহুল আমীন

৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অনন্য উচ্চতা

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জনের পর নতুন জাতিরাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হলেও বাংলাদেশের সবচেয়ে নিকটতম প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে দ্বিরাষ্ট্রিক সম্পর্কের দীর্ঘ, স্থায়ী ও টেকসই রূপরেখা অনুসৃত হয়নি। ভারত ও বাংলাদেশের আন্ত রাষ্ট্রিক সম্পর্ক মূলত পরস্পরবিরোধী দুটি ধারায় বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত থেকেছে। এর একদিকে রয়েছে ভারতবিরোধী ও ভারত-বৈরী মনোভাবের কূপমণ্ডূকতা, অন্যদিকে রয়েছে ভারতপ্রীতি ও ভারত-তোষণের অসংলগ্নতা। প্রতিবেশী দেশ দুটির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে গড়ে ওঠা পরস্পরবিরোধী এই দুটি ধারার নিয়ন্ত্রক ও নির্ধারক হলো দুটি দেশের পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক আদর্শের পরস্পর সাংঘর্ষিকতা। নিছক রাজনৈতিক বিবেচনায় গড়ে ওঠা বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক থেকে বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করতে পারেনি। অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন ও বৈদিশক মর্যাদা লাভের জন্য ভারত ও বাংলাদেশ উভয় রাষ্ট্র একে অপরের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে প্রতিবেশী দেশ দুটির পররাষ্ট্রিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে তা উভয়ের সহযোগিতামূলক সুবিধা সৃষ্টি করবে, যা উভয়ের জাতীয় স্বার্থ ও পররাষ্ট্রিক লক্ষ্য পূরণে দীর্ঘস্থায়ী, টেকসই ও শক্তিশালী রূপরেখা উপহার দেবে।

ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ের অনুসরণযোগ্য পররাষ্ট্রিক সম্পর্কের এই স্থায়ী ও টেকসই রূপরেখা বিনির্মাণের নেপথ্যে রয়েছে দেশ দুটির পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের বাস্তবতা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বাধ্যবাধকতা। পররাষ্ট্রনীতির তাত্ত্বিকদের মতে, পৃথিবীর দেশগুলো বহিঃরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় অধিকারের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। সে কারণে রাষ্ট্রগুলোর দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক যদি পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও মর্যাদার সিঁড়ি বেয়ে অগ্রসর হয়, তাহলে তা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর জাতীয় স্বার্থ ও রাষ্ট্রিক লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়। ফলে ওই দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, এক শতাব্দী ধরে পশ্চিম ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রনীতি তাদের পারস্পরিক আস্থা ও মর্যাদার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে বলে তাদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের মজবুত স্থাপনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে আফ্রো-এশীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্ক রচিত হয়েছে শুধু ইউরোপীয় দেশগুলোর মর্যাদা ও স্বার্থরক্ষার ভিত্তিতে। ফলে আরবদের সঙ্গে তাদের নিবিড় আন্ত রাষ্ট্রিক আন্তক্রিয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই পররাষ্ট্রিক সম্পর্ক তৈরি হয়নি; শুধু পারস্পরিক সন্দেহ, বিদ্বেষ ও স্বার্থান্ধ বাস্তববাদী নীতি ইউরোপীয়দের অন্ধ করে রেখেছে, যেখানে আরবদের স্বার্থ সর্বাংশে লঙ্ঘিত হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সম্পর্কের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্যের বিশ্লেষকরা ভারতের সঙ্গে অন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ভারত অনুসৃত আঞ্চলিক আধিপত্যবাদের সমালোচনা করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারতের ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও ঐতিহ্যিক সংস্কৃতির কারণে দেশ দুটির পারস্পরিক সম্পর্কে ভারতীয় আধিপত্যবাদ উপেক্ষা করা সম্ভব। বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত অবস্থান, রণকৌশলগত তাৎপর্য, জাতিরাষ্ট্রের স্থাপনার ইতিহাস ও ঐতিহ্য, ভৌগোলিক আকার, বাণিজ্যিক প্রাধিকার, সন্ত্রাস প্রতিকার—এ বিষয়গুলো বাংলাদেশকে ভারতের সঙ্গে স্থায়ী ও মজবুত দ্বিপক্ষীয় রচনার নিয়ন্ত্রক ও নির্ধারকের ভূমিকা পালন করছে। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম রাষ্ট্র ভারতের আঞ্চলিক অঙ্গীকার, বাংলাদেশের ভূ-রণকৌশলগত সুবিধা, বাংলাদেশের বিশাল বাজারে ভারতের বাণিজ্যিক লক্ষ্য, বিভিন্ন বৈশ্বিক মঞ্চে ভারতের উদীয়মান নেতৃত্ব সৃষ্টিতে বাংলাদেশের সমর্থন ও সহযোগিতা প্রভৃতি বিষয়ের কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অনন্য উচ্চতা তৈরি করা ভারতের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিরাষ্ট্রিক সম্পর্কের শক্তিমানতা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রদ্বয়ের প্রতিযোগিতা করার যোগ্যতা তৈরির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও টেকসই রূপরেখা প্রণয়ন করা। প্রতিটি রাষ্ট্রেরই রয়েছে নিজস্বতা, স্বকীয় মূল্যবোধ ও সম্পদের অনন্য সমাহার এবং সর্বোপরি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অনন্য অহংকার। বাংলাদেশ যেমন ভারতকে অস্বীকার করতে পারে না, ভারতও তেমনি বাংলাদেশকে অবজ্ঞা করতে পারে না। তাদের স্বীয় জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থে পারস্পরিক সম্মান-মর্যাদার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের এমন মজবুত ভিত্তি তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে দুটি রাষ্ট্রই একে অপরের সঙ্গে চিরায়ত মৈত্রীতে আবদ্ধ হতে উদ্দীপিত হতে পারে।

ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়ী রূপদানের ক্ষেত্রে অনেক বিবাদপূর্ণ বিষয় অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। আমরা জন্মের পর থেকে শুনে আসছি ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি ভাগের তীব্র দ্বন্দ্বের নানা কাহিনি। ফারাক্কা বাঁধ দেশ দুটিকে যুদ্ধংদেহী মূর্তিতে প্রলুব্ধ ও শাণিত করেছে বহুবার। মজলুম জননেতা মরহুম ভাসানীর লংমার্চ আমাদের কৈশোর ধমনিতে আগুন জ্বালিয়েছিল  কিভাবে, তা আজও উপলব্ধি করতে পারি। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, সীমানা সংঘর্ষ, সীমানা বাণিজ্য, ভূমি-সীমা বিতর্ক, কালোবাজারি, সন্ত্রাস বিস্তার, ছিটমহল সমস্যা প্রভৃতি ইস্যু ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সহজ-সরল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক তৈরির চিরায়ত সম্ভাবনাকে স্তিমিত করে রেখেছে জটিলতার নানা আবরণে। তবু দুই দেশের রাষ্ট্রনেতাদের অনেক নীতি ও সিদ্ধান্ত উপর্যুক্ত অনেক ইস্যুরই প্রায় নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হয়েছে। এখন সময় হয়েছে, রাষ্ট্র দুটির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রক্ষার অনন্য উচ্চতা গড়ে তোলার। সেই লক্ষ্যে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিরাষ্ট্রিক সম্পর্ক গড়ার দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই রূপরেখার অনুসরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, অনস্বীকার্য ও অনিবার্য হয়ে উঠেছে।

ভারতের সঙ্গে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকরা তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত। অর্থাৎ বাংলাদেশ-ভারত পররাষ্ট্রিক সম্পর্কের ব্যাপারে তিনটি নীতি-বিকল্প পরিলক্ষিত হয়। কট্টরপন্থীদের মতে, ভারত সব সময় বাংলাদেশকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে একচোখা নীতি অনুসরণ করে আসছে। বাংলাদেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ভারত একপক্ষীয়ভাবে তার রাষ্ট্রিক ও জাতীয় স্বার্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নির্ধারণ করে থাকে। এ শ্রেণির নীতিনির্ধারকরা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রচনার ক্ষেত্রে কোনোরূপ নমনীয়তা প্রদর্শনের ঘোর বিরোধী। ফলে তাঁদের মতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনমনীয় নীতি (Policy of intransigence) অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদী, মার্ক্সবাদী ও ফ্যাসিবাদী জাপানিরা যে ধরনের আমেরিকাবিরোধী অনুভূতি দ্বারা তাড়িত হতো, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনমনীয় নীতিনির্ধারকরা অনেকটা তেমনই মনোকাঠামো দ্বারা বেষ্টিত।

বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে অনেক অপেক্ষাবাদী রয়েছেন, যাঁরা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের স্থিতাবস্থা বজায় রেখে একগুচ্ছ মসৃণ, প্রাঞ্জল, গতিশীল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রত্যাশায় অনন্ত অপেক্ষায় বিশ্বাসী। এই শ্রেণির নীতিবিশারদরা ভাবলেশহীনভাবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের সমসাময়িক ঘটনাগুলোর ব্যাপারে ঔদাসীন্য প্রদর্শন করেন। তাঁদের এ লক্ষ্যহীন প্রতীক্ষাবাদী নীতি (Policy of nonchalance) বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জটিল ইস্যুগুলো নিরসনে তেমন ভূমিকা রাখতে পারে না। এ নীতির অনুসারীরা মনে করেন বর্তমান নীতির অনুসরণে কোনো লাভ-ক্ষতির অবকাশ নেই, ভবিষ্যতে হয়তো বাংলাদেশ তার প্রাপ্তি লাভ করবে। এরূপ স্থিতাবস্থায় ভারতের তেমন সমস্যা না হলেও দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের বেশ অসুবিধা সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আরেক দল আছে, যারা বাংলাদেশ ও ভারতের অভ্যন্তরীণ, ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতার নিরিখে দুটি দেশের সম্পর্ক যেকোনো পরিবর্তন, পরিমার্জন, সংযোজন, বিয়োজন ও সমন্বয় সাধন করে যুগোপযোগী করে তৈরি করার পক্ষে। স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশমাতৃকার উন্নয়ন ও প্রগতির সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যে এ ধরনের নমনীয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার মূলনীতি (Policy of accommodation) অনুসরণ করেছিলেন। এ নীতির ধারাবাহিকতা বিচ্ছিন্ন হলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক থেকে বাংলাদেশ তেমন লাভবান হতে পারেনি, আর যখনই এটা বেগবান হয়েছে তখনই দুটি রাষ্ট্রের সম্পর্ক মসৃণ পথে ধাবিত হয়েছে। উপর্যুক্ত নীতি-বিকল্পগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কোনটি গ্রহণ করবে, তা নির্ধারণের আগে ভারতের আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থার চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে হবে। স্থিতিশীল রাজনীতি ও গণতন্ত্রের ধারক দেশ ভারত আঞ্চলিক পরাশক্তি, জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের নেতৃদেশ এবং উদীয়মান বিশ্বশক্তি। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশটি বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম ভূখণ্ডজুড়ে ছড়িয়ে আছে। দক্ষিণ এশিয়ার ৭৫ শতাংশ ভূখণ্ড, জনসংখ্যা ও সম্পদ রয়েছে ভারতের দখলে। সার্ক অঞ্চলের জিডিপির বিচারে ভারত ছাড়া অন্য ছয়টি দেশের সম্মিলিত জিডিপির তিন গুণ জিডিপির অধিকারী ভারত। বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ সেনাবাহিনী রয়েছে ভারতের, সার্ক দেশগুলোর সামরিক বাজেটের তিন গুণ বাজেট ভারতের এবং সর্বোপরি ভারত পারমাণবিক ক্ষমতাধর বিশ্বশক্তি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন রয়েছেন ভারতের কূটনীতিকরা।

এ অবস্থায় বাংলাদেশের উচিত ভারতের সঙ্গে তার দ্বিরাষ্ট্রিক সম্পর্কের তাৎপর্য উপলব্ধি করা এবং কূটনৈতিক অঙ্গনে ভারতের বৃহত্তমতাকে প্রতিবেশীর অধিকারের আলোকে নিজ স্বার্থে কাজে লাগানো। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মান বজায় রেখে ভারতের সঙ্গে বৈরিতার অনুভূতি পরিহার করে কত বেশি পরিমাণ হৃদ্যতা সৃষ্টি করে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ অর্জন করা যায় তার কার্যকর কূটনীতি অনুসরণ করা বাংলাদেশের বিরাট কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। দাপ্তরিক কূটনীতির বাইরেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের কূটনীতি (Track & Track) এ ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর হতে পারে। সর্বস্তরে শুভেচ্ছা দূত সৃষ্টি করে সরকারের পাশাপাশি সুধীসমাজ তথা আপামর জনসাধারণের দায়িত্ব ও কর্তব্যও অনেক বেশি।

লেখক : অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়



মন্তব্য