kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

সুন্দর এ পৃথিবীর কোনো কিছুই একসময় থাকবে না

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সুন্দর এ পৃথিবীর কোনো কিছুই একসময় থাকবে না

৮. পৃথিবীর ওপর যা কিছু বিদ্যমান, তা আমি অবশ্যই (একদিন) উদ্ভিদশূন্য ময়দানে পরিণত করব। (সুরা : কাহফ, আয়াত : ৮)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, মহান আল্লাহ পৃথিবীকে শোভাময় করেছেন মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য। পৃথিবীর যাবতীয় সরঞ্জাম মানুষের সাময়িক সুখ ও ভোগের উপকরণ। এসব পরীক্ষাস্বরূপ। আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, একসময় এই পরীক্ষার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। যেদিন এ পরীক্ষা শেষ হয়ে যাবে, সেদিনই ভোগের এসব সরঞ্জাম ধ্বংস করে দেওয়া হবে। তখন এ পৃথিবীতে বৃক্ষ ও জনমানবহীন ধু ধু প্রান্তর ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।

প্রাণিজগৎ সৃষ্টির আগে মহান আল্লাহ ভারসাম্যপূর্ণভাবে প্রকৃতি সৃষ্টি করেছেন। জীবজগতের বেঁচে থাকার জন্য যা যা প্রয়োজন, তিনি তা সৃষ্টি করেছেন। এসবের পেছনে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবীতে প্রাণের সঞ্চার করা। এরপর মহান আল্লাহ জীবন-মৃত্যুর অমোঘ বিধান দিয়ে পর্যায়ক্রমে পৃথিবীতে প্রাণীদের পাঠিয়েছেন। একের পর এক প্রাণী পৃথিবীতে আসে। এখানে তারা নির্দিষ্টকাল অবস্থান করে। সময়সীমা শেষ হওয়ার পর সুন্দর এ পৃথিবী ছেড়ে তাদের চলে যেতে হয়। পৃথিবীর শুরু থেকে এ ধারা চলমান। কিন্তু একদিন এ ধারাও বন্ধ হয়ে যাবে। যারাই এ দুনিয়ায় আসে, কেউ থাকে না। সবাই চলে যায়। মানুষের এই আসা-যাওয়া একদিন বন্ধ হয়ে যাবে। সেদিন আল্লাহর সত্তা ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। মহান আল্লাহ চিরঞ্জীব। তিনি সদাবিরাজমান। তাঁর কোনো ক্ষয় নেই, লয় নেই। তাঁর শুরুও নেই, শেষও নেই। তিনি অনাদি। তিনি অনন্ত। পৃথিবীর চূড়ান্ত মালিকানা শুধু তাঁরই।

এরপর নির্ধারিত সময়ে হাশরের ময়দান কায়েম হবে। পরকালে বিচারের জন্য কবর থেকে উত্থিত হয়ে সব প্রাণী এ মাঠে দণ্ডায়মান থাকবে। পৃথিবীই হবে হাশরের মাঠ। হাদিসের ভাষ্য মতে, পৃথিবীর উপরিভাগে একটি চাদর রয়েছে, একে পার্শ্ব ধরে টান দেওয়া হবে। ফলে গাছপালা, পাহাড়-পর্বত সাগরে পতিত হবে। অতঃপর সমতল হয়ে যাবে। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কিয়ামতের দিন মানবমণ্ডলীকে লাল শ্বেত মিশ্রিত এমন এক সমতলভূমিতে একত্র করা হবে, যেন তা পরিচ্ছন্ন আটার রুটির মতো। ওই জমিনে কারো (বাড়িঘরের বা অন্য কিছুর) চিহ্ন থাকবে না।’ (বুখারি)

হাশরের ময়দানের ভূমির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে কোরআনে এসেছে, ‘(বিচার দিবসে) আল্লাহ জমিনকে এমন সমতল মসৃণ ধূসর ময়দানে পরিণত করবেন যে তুমি তাতে কোনো বক্রতা ও উচ্চতা দেখতে পাবে না।’ (সুরা তাহা, আয়াত : ১০৬-১০৭)

পরকালে পুনরুত্থান কোনো অযৌক্তিক ব্যাপার নয়। এ জীবনও একমাত্র জীবন নয়। মানুষ একসময় রুহজগতে ছিল। সেখান থেকে মায়ের গর্ভের জগতে এসেছে। মায়ের গর্ভ থেকে পার্থিব জগতে এসেছে। এভাবে মানুষের জীবন-জগৎ পরিবর্তন হওয়া তার পরকালীন জীবনের অস্তিত্ব খুঁজে পেতে সহায়তা করে। মৃত রক্তবিন্দু থেকে যে জীবন্ত মানুষের সৃষ্টি, সে মৃত মানুষকে আবার জীবিত করার ক্ষমতা আল্লাহর আছে। তাই পরকালে পুনরুত্থানের বিষয়টি একেবারেই যৌক্তিক।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ



মন্তব্য