kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

মানুষের হেদায়েতের জন্য মহানবী (সা.) জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মানুষের হেদায়েতের জন্য মহানবী (সা.) জীবনের ঝুঁকি নিয়েছেন

৬. যদি তারা এই (কোরআনের) বাণী বিশ্বাস না করে, তাহলে কি তুমি সেই দুঃখে তাদের পেছনে ঘুরে নিজের জীবন ধ্বংস করে দেবে? (সুরা : কাহফ, আয়াত : ৬)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, মুশরিকরা ভ্রান্তবিশ্বাসে নিমজ্জিত। তাদের কাছে শিরকের সপক্ষে কোনো দলিল-প্রমাণ নেই। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) যে মহাসত্যের বাণী নিয়ে এসেছেন, তা আসমানি কিতাব, ইতিহাস ও পরম্পরাগতভাবে প্রমাণিত। তা সত্ত্বেও মুশরিকরা তাঁর ওপর ঈমান আনে না। কিন্তু মহানবী (সা.) তাদের ঈমান আনার ব্যাপারে যারপরনাই কোশেশ করেছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তিনি মানুষকে হেদায়েতের পথে আনার চেষ্টা করেছেন। আলোচ্য আয়াতে মানুষের প্রতি মহানবী (সা.)-এর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। মুশরিকদের পরিণতির কথা চিন্তা করে মহানবী (সা.) খুবই ব্যথিত ও মর্মাহত হন। কিন্তু তাদের ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। কাউকে ঈমান আনতে বাধ্য করা নবীদের কাজ নয়। নবীদের দায়িত্ব শুধু আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেওয়া। মহানবী (সা.) যথাযথভাবে সেই দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু কাফির-মুশরিকদের ঈমান না আনা তাঁকে ভীষণভাবে পীড়া দিত। এটা এ জন্য যে তিনি বিশ্বমানবতার জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন; যদিও তাঁর এমন করুণাকাতর আচরণের বিপরীতে কাফির-মুশরিকরা তাঁকে অব্যাহত অপমান ও নির্যাতন করেছে। অবশ্য এটা শুধু তাঁর ক্ষেত্রেই হয়নি। মানবতার পতাকাবাহী সব নবী-রাসুলকে যুগে যুগে অপমান, ঠাট্টা ও নির্যাতন করা হয়েছে। অবিশ্বাসীরা নবী-রাসুলদের বিরোধিতা করেই ক্ষান্ত হয়নি। তারা তাঁদের দৈহিক ও মানসিক কষ্ট দিয়েছে। বিপরীতে নবীদের ধৈর্য ধারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে সাহায্যের ওয়াদা করা হয়েছে। কোনো কোনো নবীকে তাঁর উম্মতের হাতে জীবন দিতে হয়েছে। তা সত্ত্বেও নবীরা মানুষের হেদায়েতের জন্য উদ্গ্রীব থাকতেন।

মহানবী (সা.)ও মানুষের হেদায়েতের ব্যাপারে প্রচণ্ড আগ্রহী ছিলেন। মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন ক্ষতি তাঁকে পীড়া দিত। বিধি-বিধান পালনে যেন মানুষের কষ্ট না হয় সেদিকে সব সময় তাঁর দৃষ্টি নিবদ্ধ থাকত। হাদিস শরিফে এসেছে : ‘আমি বক্রতাবিহীন সহজ ধর্ম নিয়ে এসেছি।’ (মুসনাদে আহমদ : হাদিস : ২১০৮)

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন। কোনো নবী-রাসুল ইচ্ছা করলেই কাউকে হেদায়েত করতে পারেন না। কারো হেদায়েত পাওয়া না পাওয়া একান্তভাবেই আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। ইরশাদ হয়েছে, ‘বলে দাও, হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্য এসে গেছে। সুতরাং এখন যে হেদায়েতের পথ অনুসরণ করবে, সে নিজের কল্যাণের জন্যই সে পথ অবলম্বন করবে। আর যে পথভ্রষ্ট হবে, সে নিজেই নিজের অমঙ্গল সাধন করবে। আমি তোমাদের কর্মনিয়ন্ত্রক নই।’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ১০৮)

আল্লাহর এ বাণী চির অনিবার্য। তাই নবীদের শত আগ্রহ সত্ত্বেও বহু মানুষকে হেদায়েতের পথে আনা সম্ভব হয়নি।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ

 

সংশোধনী : গত সংখ্যায় ‘সুরা কাহফ’-এর স্থলে ‘সুরা বনি ইসরাঈল’ ছাপা হয়েছে। অনিচ্ছাকৃত এ ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত।

 



মন্তব্য