kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

কৃতজ্ঞতাসূচক সহজ বাক্য ‘আলহামদুলিল্লাহ’

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



কৃতজ্ঞতাসূচক সহজ বাক্য ‘আলহামদুলিল্লাহ’

১. সব প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি এই কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং এতে তিনি কোনো বক্রতা রাখেননি। [সুরা : কাহফ, আয়াত : ১ (চতুর্থ পর্ব)]

তাফসির : আলোচ্য আয়াত থেকে সুরা কাহফ শুরু। এ আয়াতের সূচনা হয়েছে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বাক্যের মাধ্যমে। এর অর্থ সব প্রশংসা আল্লাহরই। এটি আল্লাহর তাহমিদ তথা প্রশংসাসূচক বাক্য। সাধারণত আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য এ বাক্য ব্যবহার করা হয়। এ আয়াতে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ আনা হয়েছে

কোরআনের নিয়ামতের বিপরীতে। অর্থাৎ সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য এ কারণে যে তিনি কোরআন অবতীর্ণ করেছেন। আর এই কোরআনের বক্তব্য ও বিধান সুস্পষ্ট। এতে কোনো জড়তা ও বক্রতা নেই।

যেকোনো সুখবর বা ভালো অবস্থা সম্পর্কিত সংবাদের বিপরীতে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা হয়ে থাকে। যেমন—ভাই, আপনি কেমন আছেন? জবাবে বলা উচিত, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।’

মানুষ আল্লাহর অগণিত নিয়ামতে ডুবে থাকে। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘তোমরা আল্লাহর নিয়ামতরাজি গণনা করে শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ১৮)

আল্লাহর নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায়ের একটি সহজ নিয়ম হলো, মুখে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা। এটিও আল্লাহর অনুগ্রহ যে তিনি তাঁর অগণিত নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের জন্য মাত্র ছোট একটি বাক্য নির্ধারণ করেছেন, যাতে মানুষ সহজেই অধিক পরিমাণ কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারে।

ছোট্ট একটি বাক্য ‘আলহামদুলিল্লাহ’। এটি বারবার উচ্চারণ করলে অন্তরে প্রশান্তি বোধ হয় এবং আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় হয়। পাশাপাশি পাঠকারীর অন্তরে আনুগত্য করার প্রেরণা সৃষ্টি হয়। ঈমানদারের দৈনন্দিন জীবনে বারবার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পাঠ করতে হয়। ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে এ দোয়া পড়তে হয়, ‘আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আহইয়ানা বা’দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।’ অর্থাৎ সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের মৃত্যু দেওয়ার পর আবার জীবন দান করেছেন। আর তাঁর কাছেই তো আমাদের একত্র করা হবে। (বুখারি, হাদিস : ৩১১২)

খাবার খেলে এ দোয়া পাঠ করতে হয় : ‘আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আত্বআমানা ওয়া সাকানা ওয়া জাআলা মিনাল মুসলিমিন।’ অর্থাৎ সব প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি আমাদের পানাহার করিয়েছেন এবং আমাদের মুসলমানদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।  (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৫৭)

প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার পর এই দোয়া পাঠ করতে হয় : ‘গুফরানাকা আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আজহাবা আন্নিল আজা ওয়া আফানি।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! আপনার কাছেই ক্ষমা চাই। সব প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি আমার কাছ থেকে কষ্টকর বস্তু সরিয়ে দিয়েছেন এবং আমাকে নিরাপদ রেখেছেন। (তিরমিজি, হাদিস : ৭)

‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলার প্রচলন থাকবে জান্নাতেও। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তাদের অন্তরে যা কিছু মালিন্য (দুঃখ ও ঈর্ষা) ছিল, তা বের করে দেব। তাদের তলদেশে ঝরনাধারা প্রবাহিত হবে। (এসব দেখে) তারা বলবে, আলহামদুলিল্লাহ, যিনি আমাদের এ পর্যন্ত (জান্নাতে) পৌঁছিয়েছেন। আমরা কখনো (এ পর্যন্ত) পৌঁছতে পারতাম না, যদি আল্লাহ আমাদের না পৌঁছাতেন...।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ৪৩)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ



মন্তব্য