kalerkantho


‘মুক্তিযুদ্ধের ধারা নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র চলছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



‘মুক্তিযুদ্ধের ধারা নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র চলছে’

‘যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায়, তারা সর্বশক্তি নিয়েই নির্বাচনী যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সরকারি জোটের কথা বলেন বা ভিন্ন দল বা জোটের কথা বলেন—এটা সাধারণ স্ট্র্যাটেজি। সরকারের জোট আছে, ১৪ দলীয় জোট ও মহাজোট। কিছুটা অদ্ভুত হলেও বাস্তবতা হচ্ছে সরকারে ও পার্লামেন্টে মহাজোটের একাংশ আবার বিরোধী দলেও আছে। মুক্তিযুদ্ধ এবং সংবিধানের ধারা অনুযায়ী এ রকম একটি রাজনীতি চালু করেছে বর্তমান সরকার।’

সোমবার রাতে নিউজ টোয়েন্টিফোরের ‘জনতন্ত্র গণতন্ত্র’ অনুষ্ঠানে ‘ঐক্যজোটের রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনায় বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া এ কথা বলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শামীম রেজা।

শরীফ নূরুল আম্বিয়া বলেন, ‘১৪ দলীয় জোট বা সরকারসংশ্লিষ্ট সবাই নীতিতে অটল আছে। আমরাও দলগতভাবে একই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নির্বাচন নিয়ে যত সমস্যাই হোক না কেন তা সাংবিধানিকভাবে বা সাংবিধানিক ধারায়ই নিষ্পত্তি হবে। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের ধারা নস্যাৎ করার জন্য অনেক দিন ধরেই ষড়যন্ত্র চলছে। ২০০১ সালের পর থেকে এটি শক্তিশালী হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময় তারা পরাস্ত হয়েছে। নবম ও দশম সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের যেসব ধারা হারিয়ে গিয়েছিল তা আবার সাংবিধানিকভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকার ও সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলো সেই ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়।’

আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আখতার উজ্জামান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তার জোট শরিকদের নিয়ে দুই মেয়াদে খুব ভালোভাবে দেশ পরিচালনা করছে। আমাদের সামান্য ভুলত্রুটি থাকবে না, এটা তো ঠিক নয়। রাজনীতিতে ভুলত্রুটি থাকবে, এটাকে যত দ্রুত সমাধান করে সামনের দিকে যাওয়া যায়—এটাই হলো চলমান রাজনীতি। ইস্যুভিত্তিক বিভিন্ন আন্দোলন হয়েছে, সরকার সেগুলো সুন্দরভাবে মোকাবেলা করেছে। দাবি-সমস্যার সমাধান করেছে। এ রকম আরো অনেক ঘটনা রাষ্ট্রীয় জীবনে ঘটছে, তার সমাধান করছে সরকার। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ঐক্যের যে প্রশ্নটি এখন এসেছে, প্রধানমন্ত্রী তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। ৭০ বছরের পুরনো দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এ দেশে স্বাধীনতা সংগ্রামসহ অনেক কিছু হয়েছে।’

সাবেক ডাকসু ভিপি আরো বলেন, ‘সব সময় আমরা দেখেছি, আওয়ামী লীগ আর অ্যান্টি আওয়ামী লীগ। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ ছাড়া যত দল হয়েছে তাদের স্বতন্ত্র কোনো পরিচয় নেই, তাদের আওয়ামী লীগবিরোধী হিসেবেই লক্ষ করেছি। এখন স্পষ্ট একটি পরিচয়ে যদি আওয়ামী লীগবিরোধী একটি জোট তৈরি হয়, তাহলে তো ভালো কথা। বিএনপির সঙ্গে জামায়াত থাকলে ঐক্য হবে না বলেও জোরালো কথা শুনছি। এটা তো ভালো খবর। কারণ স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি দেশ চালাচ্ছে, আর স্বাধীনতার পক্ষের একটি বিরোধী দল তৈরি হচ্ছে। রাজনীতি একটি সুন্দর জায়গায় যাবে এবং সেটিকে আমরা স্বাগত জানাই।’

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘ঐক্য প্রক্রিয়া অনেক দিন আগে থেকেই চলছিল। পাঁচ বছর আগে বিনা ভোটের একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা যাচ্ছেতাই শাসন করে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকারের কিছু নির্বাচন হয়েছে, ইচ্ছামতো হাইজ্যাক করে নিয়ে গেছে। তাই সবাই অনুভব করছিল যে নির্বাচনটাকে রক্ষা করা দরকার, গণতন্ত্রটাকে রক্ষা করা দরকার। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর বড় দল হিসেবে তাদের জাতীয় ঐক্যের বিষয়টি অনুভূত হয়েছে। সম্প্রতি আরো বড় দুটি ঘটনা ঘটেছে—কোটাবিরোধী আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে কিশোর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। একেবারেই অরাজনৈতিক এ দুটি আন্দোলনকে সরকার এত নির্মমভাবে দমন করেছে যে অনেক অভিভাবক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলেছেন, আপনারা একটা গণতন্ত্রের লড়াই ঐক্যবদ্ধভাবে করার চেষ্টা করেন। বলা যেতে পারে যে তারই ফসল হিসেবে এই ঐক্যটা ধীরে ধীরে রূপ পাচ্ছে। তা ছাড়া সামনে নির্বাচন। সরকার আগের মতো করেই এই নির্বাচনটাও পার করে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। এই নির্বাচনও যদি পার করে নিয়ে যায়, তাহলে কেমনে হবে? তাহলে সেটাকে প্রতিরোধ করার জন্য হলেও ঐক্যবদ্ধ হই। সব কিছু মিলেই এই ঐক্য প্রক্রিয়া চলছে।’

মান্না আরো বলেন, এটাকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচনী ঐক্য বলা যাবে না। সবাই জাতীয় ঐক্য বলছেন। সবাই গ্রহণযোগ্য অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চান। সে জন্য দরকার দলীয় সরকারের পরিবর্তে একটি নির্বাচনকালীন সরকার, সংসদ বাতিল করে দেওয়া, নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করা এবং নির্বাচন যাতে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকতে পারে তার ব্যবস্থা করা। এসব নিয়েই আন্দোলন। নির্বাচনের জন্যই আন্দোলন। গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন মানে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আন্দোলন। তার মধ্যে নির্বাচনের প্রশ্ন, নির্বাচনী ঐক্যের প্রশ্নও আসছে। কিন্তু যে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলা দরকার সেটা এখনো পরিপূর্ণ রূপ পায়নি।

 

 

 



মন্তব্য