kalerkantho


‘ক্ষমতার ভারসাম্য থাকতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



‘ক্ষমতার ভারসাম্য থাকতে হবে’

‘আমরা বৃহত্তর ঐক্য করতে চাই। আমরা মনে করি, যারা ক্ষমতায় আছে তারা খুব বেশি কর্তৃত্বপূর্ণ। এক ধরনের স্বেচ্ছাচার চলছে দেশে। গণতন্ত্র, নির্বাচন—এগুলোকে কুক্ষিগত করে ফেলা হয়েছে। এটার বিরুদ্ধে সমগ্র জাতির ঐক্য দরকার। কতটুকু ঐক্য হবে সেটা অন্য আলোচনার বিষয়। আমরা ঐক্য করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং অনেক দূর এগিয়েছি। আমরা এক দিনের ভোট বা গণতন্ত্র চাচ্ছি না। আমরা চাচ্ছি যে ক্ষমতার ভারসাম্য থাকতে হবে। প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একটা ভাগ হওয়া উচিত। প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ হওয়া উচিত। সব কিছু মিলেই একটা ঐক্যের উদ্যোগ। আমরা একসাথে নির্বাচন করতেই পারি। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্যই তো আমরা আন্দোলন করছি। ক্ষমতাকে এমনভাবে শেয়ার করতে হবে, যাতে স্বৈরাচার আসার মতো সুযোগ না থাকে। এর ফর্মুলায় একেকজন একেক কথা বলছেন। আমারও একটা প্রস্তাব আছে। এটা এখনো আলোচনার টেবিলে আসেনি। সেটা হচ্ছে, দুই বছর আমরা দেশ পরিচালনা করব, বাকি সময় তারা (বিএনপি) করবে। এই দুই বছরের মধ্যেই সুশাসন, দুর্নীতি দমন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সব ক্ষেত্রে আমরা উদাহরণমূলক কিছু করব।’

রবিবার রাতে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ‘আজকের বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে ‘রাজনীতির বোঝাপড়া’ শীর্ষক আলোচনায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এ কথা বলেন।

মান্না বলেন, বিএনপির মূল সমস্যা হলো, তাদের মূল নেতৃত্ব বাইরে নেই। জাতীয় ঐক্য নিয়ে কিছু বললে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে, স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা করে, হয়তো জেলখানা কিংবা বাইরেও তারা কথা বলে। মির্জা ফখরুলের বক্তব্য শুনে মনে হয়—তাঁরা কথা বলেই মনে করেছেন যে ঐক্যটা তাঁদের জন্য বেশি প্রয়োজন। এ জন্য তাঁরা বেশির ভাগ ছাড় দেবেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে নিয়ে যেসব কথা বলেছেন তা সিরিয়াস হিসেবে নিচ্ছি না, হালকাভাবে দেখছি। তিনি ছড়া কেটে কথা বলেছেন। আমি যখন আওয়ামী লীগে ছিলাম তখন আওয়ামী লীগের পক্ষেই লিখেছি, যেগুলো পক্ষে লেখার মতো ছিল। কিন্তু ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির পর আওয়ামী লীগ এমন কোনো কাজ করেনি, যার পক্ষে লেখা যায়। আর এখন তো বিরোধী দলে। এখন পক্ষে লেখার সুযোগ নেই। বরং আমি সমালোচনাই করব বেশি। সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবেই নেওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী যদি কষ্টের সঙ্গে আমাকে নিয়ে কথা বলেন তাহলে সেটা আমার জন্যও কষ্টের কারণ। আর যদি রসিকতা করে বলে থাকেন তাহলে এটা রসিকতা করেই চলে যাক, আমি ছেড়ে দিচ্ছি।’

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কার্যকরী সভাপতি মাঈনুদ্দিন খান বাদল বলেন, ‘৬২ থেকে ৭০ আসন কে কাকে দিচ্ছে তা জানি না। এটা হলো বাক্যবিলাসের দেশ। যার যা খুশি তাই বলে যাচ্ছে। কে কোত্থেকে দিল তাও জানি না, এটা নিয়ে মন্তব্য করারও কিছু নেই। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল ১৪ দলে ছিল, এটি ভাগ হয়ে গেছে। দুটি অংশই ১৪ দলে আছে। নির্বাচনের আগে এই দুই দলের (অংশের) মধ্যে ঐক্য হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।’ তিনি বলেন, বিএনপি ছোট দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গঠন করতে চাচ্ছে এ জন্য যে মাহমুদুর রহমান মান্নাদের কোনো না কোনো গ্রহণযোগ্যতা আছে। তাদের ছোট দল বলে তুচ্ছ করার কোনো সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে জাতীয় ঐক্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন, মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রস্তাব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আসেনি। যখন আসবে তখন সেটা নিয়ে আলোচনা হবে। বিকল্পধারা বাংলাদেশ যে ১৫০ আসন চেয়েছে সে বিষয়েও বিএনপি মহাসচিব একই কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা জাতীয় ঐক্যটা আগে চাই। আওয়ামী লীগের বাইরে সব গণতান্ত্রিক দল যাতে একই মঞ্চে উঠতে পারে সেই প্রচেষ্টা আমরা চালাচ্ছি।’ এখন পর্যন্ত বিএনপি মহাসচিব যেটা বলেছেন, তা কারারুদ্ধ চেয়ারপারসনের সঙ্গে আলোচনা করেই বলেছেন বলে মনে হয়। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গেও তাঁদের যোগাযোগ হচ্ছে। মির্জা ফখরুল দায়িত্ব নিয়েই বলেছেন, ছাড় দিয়ে হলেও জাতীয় ঐক্য তাঁরা চান। ২০ দলের বৈঠকেও সেটি বলা হয়েছে—সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে হলেও বৃহত্তর ঐক্য করা যেতে পারে। কারণ নিরপেক্ষ নির্বাচনসহ ২০ দলের যেসব দাবি রয়েছে, সেসবের সঙ্গে এসব দল প্রায় একমত। সে জন্য তাদের সঙ্গে ঐক্য হতে পারে।



মন্তব্য