kalerkantho


‘রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে বিএনপির প্রতিষ্ঠা’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



‘রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে বিএনপির প্রতিষ্ঠা’

‘সত্যিকার অর্থে একটি রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণের জন্য বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যার কারণে সেই শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল। ১৯৭৫-পরবর্তী সময়ে যেসব পরিবর্তন হয়, তারপর ১৯৭৭ সালে জেনারেল জিয়ার রেফারেন্ডামের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আমাদের সামনে প্রতিভাত হয় এবং সেই প্রক্রিয়ায় আমরা জড়িত হই। উদ্দেশ্য ছিল—মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করে দেশকে আত্মনির্ভরশীল করে বিশ্বের মানচিত্রে আত্মমর্যাদাশীল একটি জাতি হিসেবে পরিচিত করা। সেই সময় কিছু কালো আইন ছিল, দেশ একদলীয় শাসনের দিকে যাচ্ছিল, সে অবস্থা থেকে জেনারেল জিয়ার রাজনীতির মাধ্যমে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা হয়। তিনি সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে উৎপাদনের রাজনীতি শুরু করতে চেয়েছিলেন এবং শুরু করেছিলেন; যার ফলে খাল খননসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। তিনি ১৯ দফা প্রণয়ন করেছিলেন।’

শনিবার রাতে নিউজ টোয়েন্টিফোরের ‘জনতন্ত্র গণতন্ত্র’ অনুষ্ঠানে ‘মাঠ দখলের রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনায় বিএনএ ও তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা এসব কথা বলেন। এটি সঞ্চালনা করেন রোবায়েত ফেরদৌস।

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বলেন, ‘সেই সময় আমরা সরকারের মধ্যে থেকে নিজেদের রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছি। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের আড়ালে আমরা দলটাকে গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। তখন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) গঠন করেছিলেন জিয়াউর রহমান।  অনেকে সেটাকে জগদ্দল পাথর বা বিভিন্নভাবে সমালোচনা করতে চাইত। তবে জিয়া নিজে জাগদলের নেতৃত্বে না এসে বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে আহ্বায়ক হিসেবে রাখলেন। তাঁরই নেতৃত্বে জাগদল বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। আমরা ভাবতাম, কোনো না কোনো সময় জেনারেল জিয়া এর নেতৃত্ব গ্রহণ করবেন, নেতাকর্মীরা এই আশায় থাকত; কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি তা করলেন না। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে চাইলেন জিয়া। এ জন্য তিনি জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট গঠন করলেন। জাগদলের নেতৃত্বে না আসার পেছনে ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও মশিউর রহমান যাদু মিয়ার পরামর্শ ছিল। তাঁরা জিয়াকে বলেছিলেন যে আপনি একটি দলের নেতৃত্বে না এসে বহু দলের একটি ঐক্য বা ফ্রন্ট করে তার নেতৃত্বে আসেন। সে জন্য জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের নেতৃত্বে এসেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করে এর চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আসেন জিয়াউর রহমান।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএনপির জন্য শুভ কামনা করছি, অভিনন্দন জানাচ্ছি। সঙ্গে সঙ্গে বলতে চাই যে বিএনপি যদি সুস্থ ধারার রাজনীতিতে ফিরে না আসে, তাহলে দলটি বিপন্ন হয়ে যাবে বলে আমার শঙ্কা। বিএনপি বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করেছে, তাতে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে পরিণত হয়েছে। অনেক লোক বিএনপি করে, নতুন প্রজন্মের অনেকে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে, তারা একটি রাজনৈতিক ধারা শুরু করেছে। তাদের আঙ্গিকে বাংলাদেশে রাজনীতি করছে, দীর্ঘদিন তারা দেশ শাসন করেছে। এ ক্ষেত্রে তাদের বিভিন্ন অর্জনও আছে। এত দিন টিকে থাকা একটি দল হিসেবে দেশের মানুষের জন্য তাদের কিছু ভূমিকা রয়েছে। ওই মানসিকতার মানুষেরা বিএনপি করে, বিএনপিকে অভিনন্দন জানায়।’

তিনি বলেন, ‘আমি একজন নাগরিক হিসেবে দেখি যে বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্নটাই ছিল বাংলাদেশের গণতন্ত্র হত্যার ধারাবাহিকতায়। শুরুতে বিএনপিতে জিয়াউর রহমান না থাকলেও সব কিছু তিনিই করেছেন বলে আমার বিশ্বাস। তিনি ইউনিফর্ম পরা একজন ব্যক্তি হিসেবে ক্ষমতায় থাকবেন কি থাকবেন না এ জন্য হ্যাঁ-না ভোট করেছেন। দেশের সবচেয়ে শৃঙ্খলিত সেনাবাহিনীর রুলস ভঙ্গ করে তিনি নিজের অবস্থান নিয়েছেন। নিজে একটি জগাখিচুড়ি রাজনীতি নিয়ে এলেন। কারণ যাঁরা চীনপন্থী রাজনীতি করতেন তাঁরা ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে সমর্থন করতেন না। তাঁদের একটি অংশ এবং জাসদের একটি অংশকে নিয়ে এলেন। যারা সরাসরি কোনো রাজনীতিতে জড়িত ছিল না তাদের নিয়ে এলেন। আওয়ামী লীগের কিছু দলছুট লোককে নিয়ে এলেন। পুরো একটি জগাখিচুড়ি রাজনীতি তাঁরা নিয়ে এলেন। সেখানে ক্ষতিটা হলো—মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ থেকে সরাসরি দূরে চলে গেলেন।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, ‘আজকে সারা বাংলাদেশ বিএনপির দখলে ছিল। যদি আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালনের অনুমতি তিন দিন আগে দেওয়া হতো, তাহলে আজকে সারা দেশ অচল হয়ে যেত। মৌখিকভাবে সীমিত আকারে অনুমতি দেওয়ার পর আজকে চট্টগ্রাম ও ঢাকা শহর মিছিলে মিছিলে ভরে যায়। ষড়যন্ত্র করে ১০টি বছর ক্ষমতার বাইরে রেখেও বিএনপি এখনো নিঃশেষ হয়নি, বরং বিএনপি আরো শক্তিশালী হয়েছে। তবে দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপনের দিনে আমরা অত্যন্ত ব্যথিত এ জন্য যে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া, যিনি ১৯৮২ সালের পর থেকে দলকে নেতৃত্বে দিয়ে আসছেন, তিনি কারাবন্দি রয়েছেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার বেনিফিশিয়ারি কারা, তা সবাই জানে।’



মন্তব্য