kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

অঙ্গীকার পূরণ সামাজিক ইবাদত

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অঙ্গীকার পূরণ সামাজিক ইবাদত

৯৪. পরস্পরকে প্রবঞ্চনা করার উদ্দেশ্যে তোমাদের শপথকে ব্যবহার কোরো না, যার ফলে পা স্থিরভাবে প্রোথিত হওয়ার পর তা পিছলে যাবে এবং আল্লাহর পথে বাধা দেওয়ার কারণে তোমাদের শাস্তির আস্বাদ করতে হবে। আর তোমাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।

৯৫. তোমরা আল্লাহর সঙ্গে করা অঙ্গীকার তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি কোরো না। আল্লাহর কাছে যা (পুরস্কার) আছে, তা-ই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে। (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯৪-৯৫)

তাফসির : আগের কয়েকটি আয়াতের ধারাবাহিকতায় এই আয়াতেও শপথ রক্ষার গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে। প্রথম আয়াতের মূল কথা হলো, দুনিয়াবি স্বার্থ হাসিলের কাজে শপথের মতো পবিত্র বিষয়ের অপব্যবহার করা যাবে না। কেননা এর ফলে নিজেও পদস্খলিত হওয়ার আশঙ্কা আছে। পাশাপাশি এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ধর্ম ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সম্পর্কে খারাপ বার্তা পৌঁছে। ফলে কেউ কেউ সঠিক পথ থেকে দূরে সরে যেতে পারে। এমন গর্হিত কাজ করলে দুনিয়ায় শাস্তি আসতে পারে। আর পরকালে ওই ব্যক্তি কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হবে।

দ্বিতীয় আয়াতের মূল কথা হলো, দুনিয়ার হীন স্বার্থে মানুষ অঙ্গীকার ভঙ্গ করে; কিন্তু অঙ্গীকার রক্ষা করলে পরকালে যে প্রাপ্তি রয়েছে, তা দুনিয়াবি স্বার্থের তুলনায় অনেক বেশি উত্তম। কেননা দুনিয়ার সুখ ও সুখের উপকরণ সীমিত সময়ের জন্য। পক্ষান্তরে পরকালের সুখ ও সুখের উপকরণ অনন্তকালের জন্য।

অঙ্গীকার ভঙ্গ করা এক ধরনের মুনাফিকি। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘মুনাফিকের নিদর্শন তিনটি : (১) মিথ্যা কথা বলা, (২) আমানতের খেয়ানত করা, (৩) ওয়াদা বা অঙ্গীকার ভঙ্গ করা। (বুখারি)

মুনাফিকরা খুবই ধূর্ত, প্রতারক ও ধোঁকাবাজ। আল্লাহ ও মুমিনদের সঙ্গে তারা প্রতারণা করে। তারা মনে করে যে এতে তারা সফল হয়, আসলে তারাই প্রতারিত ও প্রবঞ্চিত হয়। তারা সত্য পথ থেকে দূরে গিয়ে পথভ্রষ্ট হয় এবং তিলে তিলে ধ্বংসের দিকে অগ্রসর হয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ ও ঈমানদারদের তারা ধোঁকা দিতে চায়, আসলে তারা অন্য কাউকে ধোঁকা দিচ্ছে না; বরং নিজেদেরই প্রতারিত করছে, অথচ তাদের সেই অনুভূতি নেই।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৯)

মুনাফিক শব্দটি ‘নিফাক’ শব্দমূল থেকে এসেছে, যার অর্থ কোনো কিছুকে গোপন রেখে এর বিপরীত কথা বা কাজ প্রকাশ করা। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় মুনাফিক বলা হয় ওই ব্যক্তিকে, যে অন্তরে কুফরি রেখে মুখে ইসলাম প্রকাশ করে ও মুসলমান হওয়ার দাবি করে। মুনাফিকি দুই ধরনের—এক. বিশ্বাসগত মুনাফিকি, দুই. কর্মগত মুনাফিকি। বিশ্বাসগত মুনাফিকি হলো, অন্তরে কুফরি রেখে নিজেকে মুসলমান বলে দাবি করা। এ ধরনের মুনাফিকির মাধ্যমে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়। আর কর্মগত মুনাফিকি যেমন—আমানতের খিয়ানত করা, মিথ্যা বলা, অঙ্গীকার ভঙ্গ করা, গালাগাল করা ইত্যাদি। এসব কর্ম মুনাফিকি হলেও এসবের মাধ্যমে কেউ ইসলাম ধর্ম থেকে বের হয়ে যায় না।

অঙ্গীকার পূরণ সামাজিক ইবাদত। এটা ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় জীবনের স্থিতিশীলতার ভিত রচনা করে। অঙ্গীকার পালন করা না হলে সমাজ থেকে স্থিতিশীলতা ও আস্থা চিরতরে হারিয়ে যায়, পরস্পরের বন্ধন ও সম্পর্ক নড়বড়ে হয়ে যায়।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ



মন্তব্য