kalerkantho


‘আমাদের কর্মীরা দলের নির্দেশ মানছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘আমাদের কর্মীরা দলের নির্দেশ মানছে’

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার নির্দেশ শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিও পালন করা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে আমাদের। এমনকি এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে গিয়েও আমাদের বহু নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে। খালেদা জিয়ার সাজা দেওয়ার আগে ও পরে মিলিয়ে চার হাজারের বেশি নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রেপ্তার হওয়া নেতাদের বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছি, জেলায়ও আমাদের নেতারা যাচ্ছেন। আমাদের ক্ষুব্ধ কর্মীরা যদি গাড়িতে ঢিল ছুড়ত, কাচ ভাঙত, তাহলে সরকারি দল বা সরকারি লোকেরা আগুন ধরিয়ে দিয়ে মানুষ মেরে আমাদের দোষ দিত। এই সুযোগটা আমরা দিতে চাইনি। এটিই ছিল নেত্রীর নির্দেশ। এত বড় ঘটনার পরও আমাদের কর্মীরা দলের নির্দেশ মানছে, এটি একটি রাজনৈতিক দলের জন্য বড় বিষয়।’

রবিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের টক শো রাজকাহনে ‘সহাবস্থানের পথ দেখা যায়?’ শীর্ষক আলোচনায় নজরুল ইসলাম খান এসব কথা বলেন। সঞ্চালনা করেন নবনীতা চৌধুরী।

নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে কী কর্মসূচি দিতে হবে সেটা খালেদা জিয়া বলে যাননি, তবে আমরা ঢাকায় নেতারা বসে যেটা ভালো মনে করছি, সেই কর্মসূচি দিচ্ছি। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গেও আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ আছে। সরকারের উচিত হবে এ ধরনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধার সৃষ্টি না করা। রাজনৈতিক বিষয়ে তো সরকারেরই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা। কিন্তু তা হচ্ছে না। আমরা বলেছি, খালেদা জিয়াকে ছাড়া আমরা নির্বাচনে যাব না। তাই বলে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চাই শুধু নির্বাচনে যাওয়ার জন্য নয়।”

আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের জন্য রাজনীতিতে নানা ধরনের শব্দ চালু আছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করলে বলব, কেন শান্তিপূর্ণ করলে, আবার সংঘাত করলে বলব, কেন সংঘাত করলে? এই পারস্পরিক দোষারোপ ও ব্লেম গেম, আমি ভালো কথা বললেও মানুষ নিজেরা ব্যাখ্যা তৈরি করে। আমি যদি বলি, বিএনপি মানুষকে মোবিলাইজ করে সেই ধরনের বড় কোনো কর্মসূচি করতে পারছে না, এটার মানে এই নয় যে আমি উস্কানির কথা বলছি। আমি যা দেখছি সেটাই বলছি। একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকাকালে দেশের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষা করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব।’ তিনি আরো বলেন, ‘২০১৪ সালে নির্বাচনে না আসা এবং বাধা দেওয়ার ঘোষণা ছিল বিএনপির ঐতিহাসিক ভুল। তারাও মনে করে ওই স্ট্র্যাটেজি ভুল ছিল। তার খেসারত তারা দিয়েছে। এবার তাদের নির্বাচনে না আসার কোনো কারণ দেখছি না।’

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, ‘দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখে মনে হয়, কোনো পক্ষই সংঘর্ষে জড়িত হতে চাচ্ছে না। তারা বুঝতে পেরেছে যে নির্বাচন ছাড়া এভাবে আন্দোলন করে সরকার পরিবর্তন সম্ভব হবে না। কাজেই তারা নির্বাচনের দিকেই যেতে চাচ্ছে, তার জন্য যতটুকু সহনীয় পরিবেশ পাওয়া দরকার, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার স্ট্র্যাটেজিতে তারা আছে। সরকারও সহনশীল আচরণ করছে বলে মনে করি।’ তিনি আরো বলেন, ‘কোনো সাংঘর্ষিক পরিবেশ সৃষ্টি করা না হলেও হওয়ার আশঙ্কা থেকেই হয়তো বিএনপির বহু নেতাকর্মীকে ধরা হয়েছে। যখন দেখবে যে বিএনপি স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড করছে তখন তাদের আস্তে আস্তে ছেড়ে দেওয়া হবে। যখন নির্বাচন আসবে তখন সেসব বিষয়ে যতটা সম্ভব একমত হয়ে নির্বাচনের দিকেই যাবে। ভালোভাবে চিন্তা করলে এভাবে যাওয়ার পথ এখন পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছি। ভবিষ্যতে কী হবে তা অনেক অনিশ্চিত, অনেক অস্বচ্ছ। তবে বিএনপি যে সাংঘর্ষিক কোনো কর্মসূচিতে যাচ্ছে না, এটা একটা শুভ সূচনা হতে পারে বলে মনে করি। সরকারও আস্তে আস্তে বিএনপির আটক নেতাকর্মীদের ছেড়ে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করবে বলে আশা করি। বিএনপি তাদের দাবি আদায়ে চাপ সৃষ্টি করবে এবং পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝেই তারা নির্বাচনে যাবে বলে আমার ধারণা।’



মন্তব্য