kalerkantho

ব্যক্তিত্ব

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ব্যক্তিত্ব

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস

আধুনিক বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম কুশীলব আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাদের পৈতৃক বাড়ি বগুড়ায়। বাবা বদিউজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস, মা মরিয়ম। বাবা ছিলেন মুসলিম লীগের পূর্ববঙ্গ প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য (১৯৪৭-৫৩) এবং মুসলিম লীগের পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি।

ইলিয়াস বগুড়া জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক ও ঢাকা কলেজ থেকে আইএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৫ সালে জগন্নাথ কলেজের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত সেখানে অধ্যাপনা করেন। এরপর তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক, সংগীত মহাবিদ্যালয়ের উপাধ্যক্ষ, মফিজউদ্দীন শিক্ষা কমিশনের বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা কলেজে অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। প্রগতিশীল, মানবতাবাদী, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল। তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে ধরা পড়ে। নিজস্ব বর্ণনারীতি ও সংলাপে কথ্য ভাষার ব্যবহার তাঁর রচনার বিশেষ দিক। তাঁর রচনার মধ্যে আছে গল্পগ্রন্থ : ‘অন্যঘরে অন্যস্বর’, ‘খোঁয়ারি’, ‘দুধভাতে উৎপাত’, ‘দোজখের ওম’; উপন্যাস : ‘চিলেকোঠার সেপাই’ ও ‘খোয়াবনামা’ এবং প্রবন্ধগ্রন্থ : ‘সংস্কৃতির ভাঙা সেতু’। তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, সা’দত আলী আখন্দ পুরস্কার ও কলকাতার আনন্দ পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁর রচনা কয়েকটি ভারতীয় ভাষাসহ অন্যান্য ভাষায় অনূদিত হয়েছে। তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায় মারা যান।

[বাংলাপিডিয়া অবলম্বনে]


মন্তব্য