kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

পানিতে রয়েছে সঞ্জীবনী শক্তি

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



পানিতে রয়েছে সঞ্জীবনী শক্তি

৬৫. আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন। তা দিয়ে জমিনকে তার মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবিত করেন। নিশ্চয়ই এতে তাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে, যারা কথা শোনে। (সুরা : নাহল, আয়াত : ৬৫)

তাফসির : আগের কয়েকটি আয়াতে জান্নাত, জাহান্নাম, নবী প্রেরণ ও কোরআন অবতরণ প্রসঙ্গে বর্ণনা করা হয়েছিল। এসব বিষয়ে অবিশ্বাসীদের সন্দেহের অন্ত নেই। এর কারণ হলো, তারা আল্লাহর মহাশক্তি সম্পর্কে অজ্ঞ ও উদাসীন। তাই আলোচ্য আয়াতে মহান আল্লাহর কুদরতের একটি প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে।

এখানে বলা হয়েছে, আকাশ থেকে অবতীর্ণ হওয়া বৃষ্টি রহমতস্বরূপ। এর মধ্যে রয়েছে সঞ্জীবনী শক্তি।

নারী ও পুরুষের পবিত্র সম্পর্কের মাধ্যমে মানববংশের বিস্তারপ্রক্রিয়ার মূলেও রয়েছে বিশেষ ধরনের পানি। এই পানি থেকে মানবসন্তানের জন্ম হয়।

এ আয়াতে বলা হয়েছে, মহান আল্লাহ বৃষ্টি বর্ষণের মাধ্যমে মৃতপ্রায় ভূমিকে পুনরুজ্জীবিত করেন। পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হওয়াও আকাশ থেকে (রহমতের) বৃষ্টি বর্ষণের মতোই। বৃষ্টি মৃত ভূমিকে উর্বর ও সতেজ করে তোলে, তেমনি পবিত্র কোরআন মৃত অন্তরকে জাগ্রত ও আলোকিত করে তোলে।

জীবনের জন্য পানি অপরিহার্য উপাদান। পানি ছাড়া কোনো উদ্ভিদ ও প্রাণী বেঁচে থাকতে পারে না। মাটি থেকে পানি ও পুষ্টি উপাদান শোষণ করে উদ্ভিদ বেঁচে থাকে। অন্যদিকে প্রাণী উদ্ভিদের মতো নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না। এরা উদ্ভিদের ফল, পাতা ও শস্যদানা খাবার হিসেবে গ্রহণ করে। প্রাণীর খাদ্য সরবরাহের জন্য পানি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। মানবদেহের সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখতেও পানি প্রয়োজন। পানি ছাড়া উদ্ভিদ ও প্রাণীর কোষ নির্জীব হয়ে পড়ে। পানি না থাকলে পৃথিবীতে উদ্ভিদ ও প্রাণীর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেত।

পানি মেঘ থেকে বৃষ্টির মাধ্যমে মাটিতে শোষিত হয় বা নদীতে গড়িয়ে পড়ে। মাটিতে শোষিত পানি ভূগর্ভস্থ পানি হিসেবে জমা হয়। এসব নদী, সাগরের পানি সূর্যের তাপে বাষ্পীভূত হয়ে ওপরে উঠে যায়। এই বাষ্পীভূত পানি আবার ঘনীভূত হয়ে মেঘের রূপ ধারণ করে।

ভূপৃষ্ঠের পানি সূর্যের তাপে বাষ্প হয়ে ওপরে ওঠে। পৃথিবীর বেশির ভাগ পানির অবস্থান হচ্ছে সমুদ্র। আর সমুদ্রের পানি খুবই লবণাক্ত হওয়ার কথা। অথচ জলীয় বাষ্পে কোনো লবণই নেই! কারণ পানি বাষ্প হওয়ার সময় লবণসহ যাবতীয় জৈব, অজৈব পদার্থ ও রোগজীবাণু—সব কিছু রেখে দিয়ে শুধু পরিশোধিত ও বিশুদ্ধ পানি বাষ্প হয়। এই জলীয় বাষ্প ওপরে উঠে ঠাণ্ডা বাতাসের সংস্পর্শে ঘনীভূত হয়ে বিন্দু জলকণায় পরিণত হয়। ঠাণ্ডার কারণে এই পানি আর ওপরে উঠতে পারে না। পরে তা পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের টানে বৃষ্টির আকারে আবার পৃথিবীতে নেমে আসে। বৃষ্টির পানি পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা, খাল-বিল ও উচ্চশৃঙ্গে জমে। এতে ভূপৃষ্ঠে নানা রকম উদ্ভিদ জন্ম হয়, আর উদ্ভিদের ফলমূল খেয়েই প্রাণীরা বেঁচে আছে। বৃষ্টির পানি মেরুদ্বয়ে, পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ও পাহাড়-পর্বতে বরফ সৃষ্টি করে। বরফ গলে বৃষ্টিহীন সময়ও পানির সরবরাহ অব্যাহত রাখে। গলিত বরফ দিনের বেলায় সূর্যের তাপকে শুষে নিয়ে পৃথিবীর তাপমাত্রা রক্ষা করে। আর কিছু অংশ বরফ হিসেবেই থেকে যায়, যা ভবিষ্যতে আবার বৃষ্টির পানিকে বরফ করতে সাহায্য করে।

পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব লাভের বহু আগে মহান আল্লাহ সঞ্জীবনী শক্তিসম্পন্ন পানি সৃষ্টি করে রেখেছেন।

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ



মন্তব্য