kalerkantho


‘গ্যাসের দাম সামান্যই বেড়েছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



‘গ্যাসের দাম সামান্যই বেড়েছে’

গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে সামান্য; তাও বাড়বে দুই ধাপে। এই দাম বৃদ্ধিতে জনগণের কোনো সমস্যা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এমপি।

তিনি বলেছেন, গৃহস্থালি ও শিল্প খাতে দুই ধাপে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে ব্যবসা বাড়বে। তবে এর ফলে স্থানীয় উদ্যোক্তারা আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার ক্ষেত্রে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। কারণ দাম বাড়ানোর আগে গ্যাসের বিভিন্ন স্তরের ব্যবহারকারীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হয়েছে। গ্যাসের চাহিদা বেশি, কিন্তু জোগান কম। এই পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার দাম বাড়িয়ে সেবা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার দাম বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেবার মানও বাড়াবে। দাম না বাড়লে সেভাবে সেবা দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। কাউকে যাতে গ্যাসের ব্যবহার করতে গিয়ে কোনো ভুয়া বিল-ভাউচারের মুখোমুখি হতে না হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে।

শনিবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে পর্যালোচনাভিত্তিক টক শো পাওয়ার টক অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিক মুন্নী সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

আলোচনার শুরুতে সঞ্চালক বলেন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অনেকে অনেক সমালোচনা করছে। অনেকে বলছে, অনিশ্চিত সরবরাহের মধ্যেই সব ক্ষেত্রে গ্যাসের দর বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে ও সাধারণ জনগণ ভোগান্তির শিকার হবে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ফলে রপ্তানি খাতের সার্বিক উৎপাদন খরচের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে। উৎপাদন ব্যয় অবশ্যই বেড়ে যাবে। সর্বোপরি রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জন আরো কষ্টসাধ্য হবে। প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে পিছিয়ে পড়বে রপ্তানি খাত এবং সক্ষমতা হারাতে থাকবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সার্বিক রপ্তানি খাতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমর্থ হবে না। কিভাবে বিশ্লেষণ করবেন।

জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বৃহস্পতিবার বিকেলে ২২.৭ শতাংশ হারে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করে। আগামী ১ মার্চ এবং ১ জুন দুই ধাপে গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন দাম গ্রাহককে পরিশোধ করতে হবে। এই বৃদ্ধিকে নেতিবাচক হিসেবে দেখলে হবে না। আগে দেখতে হবে কতভাগ বেড়েছে। মাত্র ০.২৫ শতাংশ বেড়েছে। তাহলে এ নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনা কেন। যারা এ বিষয়ে হরতালও ডেকেছে তারা সঠিক কাজটি করেনি।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, কমিশন এবার আবাসিক খাতে সবচেয়ে বেশি ৪৬ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়িয়েছে। অতীতে কোনো দিনই গৃহস্থালিতে এ বিপুল পরিমাণ গ্যাসের দর একবারে বাড়েনি। অনেকে বলছে, আসলে এটা ঠিক নয়। আগের সরকারের আমলে আরো বেশিসংখ্যক হারে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। তখন এভাবে কেউ হরতাল করেনি। মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণার আগে কমিশন চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম এ মূল্যবৃদ্ধিকে ন্যায্যতার ভিত্তিতেই করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। তাঁর মতে, তিনি যখন গ্রামে থাকতেন, তখন রান্নার জন্য তিন হাজার টাকার কাঠ প্রয়োজন হতো। আবার একজন এলপিজি গ্রাহক প্রতি মাসে রান্নার জন্যই আড়াই হাজার টাকা ব্যয় করে। সেখানে এই স্বল্প দামে গ্যাস ব্যবহার করা গ্রাহকদের এখনো ভাগ্যবান বলেই মনে করছেন কমিশন চেয়ারম্যান।

নসরুল হামিদ বিপু বলেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বছরে অন্তত চার হাজার ১৮৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় হবে। এ রাজস্বের ৮১ শতাংশই সরকারি কোষাগারে জমা হবে। বাকি ১৯ শতাংশ যাবে বিতরণ কম্পানি পেট্রোবাংলা এবং উৎপাদনকারীদের পকেটে। এর আগে কমিশন দাম বৃদ্ধির সময় বিদ্যুৎ খাতকে বাইরে রেখেছিল। এবার দাম বৃদ্ধিতে বিদ্যুৎ খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন অন্তত ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বিরাট এ অংশ দাম বৃদ্ধির বাইরে থেকে গেলে সার্বিকভাবে রাজস্ব আদায় কমে যাবে।


মন্তব্য