kalerkantho

দুর্ঘটনার কারণ খুবই স্পষ্ট, এখন ব্যবস্থা নেওয়ার সময়

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১২ মিনিটে



দুর্ঘটনার কারণ খুবই স্পষ্ট, এখন ব্যবস্থা নেওয়ার সময়

সড়ক দুর্ঘটনার কারণ এখন প্রায় সবার জানা—ফিটনেসবিহীন গাড়ি, মাদকাসক্ত পরিবহন স্টাফ, চলন্ত অবস্থায় চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার, ট্রাফিক আইন বা সিগন্যাল না মানা, সচেতনতার অভাব, অত্যধিক যাত্রী বহন, পাল্লা দিয়ে গাড়ি চালানো, স্টপেজ ছাড়া গাড়ি থামানো, ভাঙাচোরা সড়ক-মহাসড়ক, মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা ও তিন চাকার গাড়ি চালনা প্রভৃতি। এসব সমস্যা দূর করার জন্য তিন পক্ষের ভূমিকা দরকার—এক. যান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএকে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে; দুই. দায়িত্বে নিয়োজিত ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশকেও একই কাজ করতে হবে এবং তিন. মালিক ও শ্রমিকদের বাধ্যবাধকতার আওতায় আনতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের তথা রাজনৈতিক নেতৃত্বের সহায়ক ভূমিকা জরুরি। কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা এ অভিমত জানিয়েছেন

 

► যানবাহন চলাচলে আমাদের যে নিয়ম আছে, তা যথেষ্ট। আমরা কেউ কিছুই মানছি না। চালক, পুলিশ বা জনসাধারণ বলেন, কেউই আইন বা নিয়ম মানি না। মাথার ওপর ফুট ওভারব্রিজ, অথচ আমরা ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হই, পুলিশ দেখলেও কিছু বলে না। পুলিশকে কঠোর হতে হবে। যে ভুল করবে তার শাস্তি শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। সে যে-ই হোক না কেন ভুল করলে তাকে শাস্তি দিতেই হবে। দেশের মেট্রো যানবাহনগুলোর মালিকদের সরকারি নিয়ম অনুসারে দৈনিক টাকার পরিমাণ ধার্য করে দিতে হবে, যেন চালকরা বাড়তি আয়ের জন্য প্রতিযোগিতা না করে।

ফোরকান উদ্দীন

বনশ্রী, রামপুরা, ঢাকা।

 

► সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারকে বিশেষ বিবেচনা নিয়ে সব বাহিনীকে বা সেনাবাহিনীকে অন্তত ছয় মাসের দায়িত্ব দিতে হবে। যৌথভাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে কাজ করতে হবে। সব অবকাঠামো ঢেলে সাজাতে হবে।

টিটু রহমান

রাধানগর, পাবনা।

 

► জনসচেতনতা, বিআরটিএ এবং পুলিশ প্রশাসন চাইলে অনেক কিছু করতে পারে। কিন্তু তারা করে না। কেন করে না, জানি না। আমাদের সদিচ্ছার অভাব। এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতার বিকল্প নেই।

মো. তৈয়ব আলী

ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

 

► সড়কে নৈরাজ্য চলছেই। বিচার হয় না বলেই একের পর এক পথচারী চাকার তলে পিষ্ট হচ্ছে। হত্যাকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে ইচ্ছা করেই। গণপরিবহনের চালকরা কি পারেন না সাবধানতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে? গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামলে তাদের মনে হয় তারাই রাস্তার রাজা। রাস্তার স্বৈরাচার তাদেরই কেউ কেউ। তারা মানুষ হত্যা করছে দিনের পর দিন। তাই দুর্ঘটনাকে আর দুর্ঘটনা বলতে চাই না। হত্যাকারী চালকদের দ্রুত বিচার করা হোক। তাহলে সড়কে নৈরাজ্য বন্ধ করা সম্ভব।

লিয়াকত হোসেন খোকন

রূপনগর, ঢাকা।

 

► কোনো কিছুর সমাধান করতে হলে মূলে হাত দিতে হবে। বিআরটিএ, ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যদি পরিশুদ্ধ হয়, তাহলে চালক, সহকারী ও মালিক—সবাই নিয়ম মানতে বাধ্য হবে। আর দরকার জনসচেতনতা।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► ট্রাফিক ও চালকদের মানসিকতা বদলাতে হবে। দুর্ঘটনাকবলিত জায়গায় ট্রাফিক বাড়াতে হবে।

মোহনলাল দাস

কুলিয়ারচর, কিশোরগঞ্জ।

 

► সড়ক নৈরাজ্য বন্ধ করতে করণীয়—সড়ক আইনের সংস্কার। কঠোর সড়ক আইন প্রণয়ন। আইনের যথাযথ প্রয়োগ। সড়কে কোন গাড়ি কোনদিকে চলবে তা ঠিক করা। ছাত্রদের প্রদর্শিত পদ্ধতিতে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভালো হয়। যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করা, লাইসেন্সবিহীন কোনো ড্রাইভার ও গাড়ি যেন সড়কে নামতে না পারে তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ; মালিক ও গাড়িচালক সমিতিকে আইনের আওতায় আনা; পথচারীদের জন্য ফুট ওভারব্রিজ করা; জেব্রাক্রসিং ছাড়া সড়ক পার না হওয়া; সবাইকে আরো বেশি সচেতন হওয়া; সড়কে প্রতিযোগিতায় না নামা; অতিরিক্ত যাত্রী না নেওয়া—যার যার স্থান থেকে আরো দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে।

এস এম ছাইফুল্লাহ খালেদ

কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।

 

► ফিটনেসবিহীন লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি, মাদকাসক্ত পরিবহন স্টাফ, চলন্ত অবস্থায় চালকের মোবাইল ফোন ব্যবহার, ট্রাফিক আইন বা সিগন্যাল না মানা, সচেতনতার অভাব, অত্যধিক যাত্রী বহন, পাল্লা দিয়ে গাড়ি চালানো, স্টপেজ ছাড়া গাড়ি থামানো, সড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা ইত্যাদি সড়ক দুর্ঘটনার কারণ। মহাসড়কে তিন চাকার গাড়ি বন্ধ করতে হবে, সড়ক-মহাসড়ক নিয়মিত সংস্কার করতে হবে, রেল ও নৌ-পরিবহন বাড়াতে হবে, মালিক-শ্রমিকদের আন্তরিকতা থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়াতে হবে এবং আইন লঙ্ঘন হলে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ সদর।

 

► সড়কে নৈরাজ্য বন্ধে সরকারকে কঠোর হতে হবে। জনগণকেও সচেতন হতে হবে। আইন ভঙ্গকারীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ডা. সৈয়দ আজিজুল হক

স্টেডিয়ামপাড়া, মাগুরা।

 

► সড়কে নৈরাজ্য বন্ধ করতে আইনের বিধান যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে; ফিটনেসবিহীন গাড়ির চলাচল বন্ধ ও অবৈধ লাইসেন্স বাতিল করতে হবে; বিআরটিএ এবং ট্রাফিক পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত ও সংখ্যা বাড়াতে হবে; চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে এবং তদন্ত করে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী ব্যক্তি বা চালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী, মুন্সীগঞ্জ।

 

► সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে গাড়িগুলোর অতিরিক্ত গতি ও ওভারটেকিংকে দায়ী করা হয়। অতিরিক্ত গতি ও চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানো এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ আইন অমান্য করা। রিকশাচালক ট্রাফিক আইন ও নিয়ম সম্পর্কে অজ্ঞ। দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। আধুনিক যুগ সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর। এই প্রযুক্তির ব্যবহার না করলে অনেক সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যায়। গাড়ির চালকরা গাড়ি চালানোর সময় ফোনে কথা বলে, গান শোনে। ফলে অসতর্ক হয়ে পড়ে। এতে গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক ইত্যাদি কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়ক দুর্ঘটনা জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। দুর্ঘটনা অনেককে চিরদিনের জন্য পঙ্গু করে দেয়। সড়ক দুর্ঘটনা আমাদের দেশের স্বাভাবিক ঘটনা। আমাদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক বিশ্বের খুব কম দেশেই আছে।

কে এম আলমগীর

ও আর নিজাম রোড আবাসিক এলাকা, চট্টগ্রাম।

 

► প্রতিদিন গণমাধ্যমে আমরা দেখতে পাচ্ছি সড়ক দুর্ঘটনার অসংখ্য বীভৎস ছবি, দেখতে পাই স্বজন হারানোদের আহাজারি। দেশের আন্তজেলা মহাসড়কগুলোয় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, যেখানে যানবাহন খুব দ্রুতবেগে চলাচল করে। এসব সড়কে মুখোমুখি যানবাহন চলাচল করলেও সড়কগুলো বেশ চওড়া নয় এবং কোনো ডিভাইডার নেই। যার ফলে যানবাহনগুলো যখন পাশাপাশি চলে, নিরাপদ দূরত্ব না থাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। আর নিরাপদ দূরত্ব রাখতে হলে রাস্তা ছেড়ে যানবাহন নিচে নেমে আসে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। পুরনো যানবাহনগুলো সরিয়ে নিতে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছিল, কিন্তু এটি সরকার বাস্তবায়ন করেছে কি না, তা আমরা দেখিনি। তবে ঢাকার বাইরে অসংখ্য পুরনো ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলছে, যেগুলো দুর্ঘটনা ঘটানোর অন্যতম কারণ। রাস্তাঘাটে যেসব অবৈধ চালক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আটক করেন তার বেশির ভাগই অর্থের বিনিময়ে বৈধ হয়ে যায় বা মামলা কাগজ-কলমেই থাকে। এসবের সঠিক প্রয়োগ চাই।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ, জামালপুর।

 

► সড়ক দুর্ঘটনার নেপথ্যে পরিবহন খাতে অনিয়ম ও উচ্ছৃঙ্খলতাই ব্যাপকভাবে দায়ী। এখনো চলছে ফিটনেসবিহীন গাড়ি, লাইসেন্সবিহীন অবৈধ চালক, লাগামহীন ভাড়া, যাত্রী হয়রানিসহ নানা অসংগতি। এসব কারণেই অহরহ ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। আমরা শান্তি ও স্বস্তিতে থাকতে চাই, নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে চাই। সড়ক পরিবহনে অনিশ্চিত দুর্ঘটনা ঝুঁকি  থেকে পরিত্রাণ চাই। সরকারকে কঠোর হতে হবে, প্রশাসনকে সৎ ও সততার সঙ্গে সরকারের নির্দেশমতো পরিবহন আইন বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে হবে। পরিবহন খাতে রাঘব বোয়ালদের মুখোশ উন্মোচন করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। চাঁদাবাজি, অবৈধ চালক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি—সমূলে উচ্ছেদ করতে হবে। সাধারণ জনগণের মধ্যে সড়কের নিরাপত্তাবিষয়ক ক্যাম্পেইন করা যেতে পারে। পরিবহন সেক্টর কোনো অশুভ শক্তির কাছে বরাবরই জিম্মি। হাজারো অনিয়ম, দুর্নীতি পরিবহন সেক্টরের চিত্র। গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলতা হাঁপিয়ে তুলেছে আমাদের। রাস্তায় বের হলেই শঙ্কা তাড়া করে ফেরে। সরকারের কাছে অনতিবিলম্বে পরিবহন সেক্টরের শৃঙ্খলা ফেরত চাই।

মাজহারুল ইসলাম লালন

নকলা, শেরপুর।

 

► সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশের বিশেষ ভূমিকা আছে। কিন্তু তারা নানাভাবে পয়সা খাওয়ার চেষ্টায় থাকে। অবৈধ লাইলেন্স বা অনুমতি নেই, এমন চালক ও গাড়ি বন্ধ করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি।

নাদিম খান

ভাইজোরা, পিরোজপুর।

 

► প্রথমে প্রশাসনকেই বড় ভূমিকা নিতে হবে। আগেও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন হয়েছে এবং ১০ দফা দাবি ছিল, মাত্র দুটি দাবি মানা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ দিয়ে নৈরাজ্য বন্ধ হবে না। সরকার ও প্রশাসন আন্তরিক না হলে সড়কে নৈরাজ্য বন্ধ করা যাবে না।

কুমারেশ চন্দ্র

ঝিনাইদহ।

 

► নিকট-অতীতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে পরিবহন মালিকপক্ষ কিছু তৎপরতা দেখিয়েছিল। কিছুদিন যেতে না যেতেই আগের অবস্থায় ফিরে গেছে সড়ক-মহাসড়ক। গাড়ির মালিকের চাপ থাকে হেলপার-ড্রাইভারের প্রতি পরিবহনে যাত্রী ভর্তি করার জন্য। দূরপাল্লার গাড়িতে গন্তব্যে পৌঁছার আগে যাত্রী ওঠানো হয়। এতে অনেক সময় যাত্রীবেশে ছিনতাইকারী, ডাকাত গাড়িতে আরোহণের ফলে যাত্রীসাধারণ ডাকাতের কবলে পড়ে। সড়ক দুর্ঘটনার নামে চলছে নৃশংস হত্যাকাণ্ড। চোখের জল ঝরে আমাদের। বিবেক দংশিত হয় না চালক ও হেলপারদের। আরবারের নামে ফুট ওভারব্রিজ করলে কি রাতের আঁধারে পুলিশ থাকবে? সড়ক নৈরাজ্য বন্ধ করতে চায় ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিষয়ে কঠিন পর্যবেক্ষণ, অর্থাৎ উপযুক্ত প্রশিক্ষণ পেয়ে গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া হলো কি না, অন্যথায় উপযুক্ত নেতৃত্বে দেশব্যাপী ছাত্র-জনতার রাজপথে বজ্র শপথ নৈতিক আন্দোলন।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

► ঘাতক চালকদের বিচার হচ্ছে না, বাসের রুট পারমিট নেই—এসব দেখবে কে? বিআরটিএতে দুর্নীতি, অনিয়ম যেন নিয়ম। ফিটনেসবিহীন বাস চলে কিভাবে? সড়কে নিয়ম-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রয়োজনে সরকারকে হার্ডলাইনে যেতে হবে। ছাড় দেওয়া যাবে না; হোক সে যত প্রভাবশালী। এ জন্য আমরাও কম দায়ী নই।

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

মিরপুর, ঢাকা।

 

► নাজুক গণপরিবহন ব্যবস্থায় নগরবাসীর দুর্ভোগের অন্ত নেই। ঢাকা মানেই যানজট, সড়কে মৃত্যু আর দূষণ। এই নৈরাজ্য বন্ধ করার দায়িত্ব সমাজ ও রাষ্ট্রের এবং আমাদেরও।

সাকিব আল হাসান

রৌমারী, কুড়িগ্রাম।  

 

► সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকার বিভিন্ন প্রস্তুতি নিলেও কাজের অগ্রগতি খুব বেশি হয়নি। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ফুট ওভারব্রিজ কিংবা আন্ডারপাস নির্মাণ করার কথা থাকলেও কাজের অগ্রগতি নেই। সড়কে নৈরাজ্য ঠেকাতে সরকার, বাস মালিক, সাধারণ মানুষ—সবাইকে একাত্ম হয়ে কাজ করতে হবে। কলেজের সামনে জেব্রা ক্রসিং দিতে হবে এবং কলেজের কিংবা জনবহুল স্থানে ট্রাফিক পুলিশ ও ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট দিতে হবে। ট্রাফিক নিয়ম মেনে গাড়ি চালালে এবং পথ চললে সড়কে বিশৃঙ্খলা কমানো সম্ভব।

ফরিদুল হক

ফুলবাড়ী সদর, কুড়িগ্রাম।     

 

► ট্রাফিক আইন ঠিকমতো মানতে এবং প্রয়োগ করতে হবে; ফিটনেসবিহীন গাড়ি তুলে নিতে হবে; বিআরটিএকে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে, চুক্তিতে গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে।

রাশেদুল ইসলাম লাকিটি

রূপসীবাজার, ভাঙ্গুরা, পাবনা।

 

► সড়কে নৈরাজ্যের কারণ শুধু যাত্রীদের অসচেতনতা নয়, যাত্রীদের ২০ শতাংশ নৈরাজ্যের কারণ থাকলেও ৮০ শতাংশ কারণ চালকদের। তারা ট্রাফিক আইন মেনে চলে না মোটেও, ওভারটেক করার প্রতিযোগিতায় সদা মত্ত থাকে, তাদের অনেকেই হয় ড্রাইভিং মিশনে অনভিজ্ঞ, ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই বেশির ভাগের। এ ছাড়া ঘুমে ঝিমুনিতে, কখনো আবার নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালায়। সড়ক দুর্ঘটনা, বিশৃঙ্খলা আর নৈরাজ্যে সবার সচেতন হতে হবে।

নুর মুহাম্মদ ওবাইদী

মীরগঞ্জ, ফেনী।

 

► ট্রাফিক আইন শক্তভাবে প্রয়োগ করতে হবে। ট্রাক দেখলে মানুষ ভয় পেত, এখন বাস দেখলেও মানুষ ভয় পায়। অবস্থা এমন। সবার সচেতনতা জরুরি। দায়িত্বশীলদের আন্তরিকতা ও সচেতনতা চাই।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► সড়ক দুর্ঘটনায় অকালে ঝরছে প্রাণ। প্রিয়জন হারানোর কান্নায় বাতাস ভারী হচ্ছে প্রতিদিন। রাষ্ট্রেরও প্রচুর ক্ষতি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের কাছে আমাদের প্রশ্ন, এর কি কোনো প্রতিকার নেই? বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালনা বন্ধ করতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রাস্তা থেকে ত্রুটিপূর্ণ যান অপসারণ করতে হবে। চালকদের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষার মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে। সড়কে লাশের মিছিল কেউ দেখতে চায় না। সচেতনতা জরুরি। সংশ্লিষ্টদের বিবেক জাগ্রত হওয়া দরকার। সরকার-জনগণ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ দুর্ঘটনা কমাতে ভূমিকা রাখবে।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সীপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

 

► অনেকে হেল্পার থেকে ড্রাইভার হয়েছে। কোনোভাবে হয়তো লাইসেন্সের ব্যবস্থা করেছে। বেশির ভাগই আনাড়ি। তারা নিজেরাও মরছে, অন্যদেরও মারছে। অনেক মা-বাবা সন্তানদের হাতে গাড়ি বা বাইক তুলে দেন। তাঁদের কারণেও দুর্ঘটনা ঘটছে। রং সাইডে গাড়ি চালানো অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। পথচারী চলছে, পেছন থেকে রং সাইডের গাড়ি তাকে আঘাত করছে। এভাবে অনেকে আহত বা নিহত হয়েছেন। অনেকে গাড়ি ড্রাইভ করেন এক হাতে, অন্য হাতে মোবাইলে কথা বলেন। এতেও দুর্ঘটনা ঘটে। অনেক ড্রাইভার নেশাগ্রস্ত, অসুস্থ বা ক্লান্ত অবস্থায় ড্রাইভিং করেন। সড়ক দুর্ঘটনার এটাও একটি কারণ। যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং করলে বা গাড়ি ঘোরালে ড্রাইভারের বিরুদ্ধে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। হাইওয়ে পুলিশকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দুর্ঘটনা বন্ধের আরো অনেক পথ আছে।

শুভ্র ঘোষ

নতুন বাজার, কলকলিয়াপাড়া, মাগুরা।

 

► সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে যাচ্ছে নিষ্পাপ ফুলের মতো প্রাণ। বাড়ছে জনগণের আতঙ্ক। শহরের স্কুলপড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীর মা-বাবা, অভিভাবকদের প্রতিটি ক্ষণ টেনশনে থাকতে হয় ছেলে-মেয়েদের বাসায় না ফেরা পর্যন্ত। চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানো, যত্রতত্র গাড়ি থামানো ও যাত্রী ওঠানামা করানো, চলন্ত অবস্থায় যাত্রী ওঠানো-নামানো বন্ধ করতে হবে। ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলতে হবে, আইন ভঙ্গকারী চালকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আর চাই গণসচেতনতা।

আনিক রায়

হাতীবান্ধা, লালমনিরহাট।

মন্তব্য