kalerkantho

স্বাধীনতার স্বপ্নযাত্রায় অনেক এগিয়েছে বাংলাদেশ

২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১২ মিনিটে



স্বাধীনতার স্বপ্নযাত্রায় অনেক এগিয়েছে বাংলাদেশ

সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি শাসনের নিগড় থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে আবির্ভূত হয় ১৯৭১ সালে। স্বাধীনতা ঘোষণার ৪৮ বছর পূর্ণ হবে আগামী ২৬শে মার্চে। সার্বিক বিবেচনায় যথেষ্ট এগিয়েছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতাসীন না হলে, উন্নয়ন প্রক্রিয়া থমকে না গেলে আরো এগোনো সম্ভব হতো। কিন্তু এখনো স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণের অনেক বাকি। শিক্ষায়, উৎপাদনে, রাষ্ট্র চালনায় এবং সংস্কৃতিতে আরো অগ্রগতি দরকার। বৈষম্য কমাতে হবে—উন্নয়ন টেকসই হওয়া দরকার। বিরোধের রাজনীতির অবসান জরুরি। যথাযথ গণতান্ত্রিক চর্চা দরকার। নাগরিকের আচরণের স্বাধীনতা নিশ্চিত হতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ স্বাধীনতার লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে। টেলিফোনে ও ই-মেইলে কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা এ অভিমত জানিয়েছেন

 

► বাংলাদেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা ও বিভিন্ন দিকে এগিয়ে যাওয়ার হার সত্যিই ঈর্ষণীয়। কিন্তু কিছু জায়গার সমস্যা থেকে আমরা বের হতে পারছি না। এ সমস্যাগুলো আমাদের অভ্যন্তরীণ। যেমন— দুর্নীতি থেকে আমরা বের হয়ে আসতে পারছি না। মানুষ সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হয়, শিক্ষার ক্ষেত্রে সঠিক মানে পৌঁছাতে পারিনি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও নিয়ম-কানুনে পিছিয়ে, সঠিক নগরায়ণের ক্ষেত্রে আমাদের অপরিপক্বতা, শিল্প স্থাপনে কোনো নীতি আমরা এখনো দাঁড় করতে পারিনি, পরিবেশের উন্নয়নে কাজকে গতিশীল করতে না পারার কারণে টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যা আমাদের বেঁধে রেখেছে। স্বাধীনতার পর একটি দেশ দাঁড়াতে যে সময় লাগে, এখন সেই সময় হয়ে গেছে। কিছু কাজ যদি আরো স্বচ্ছতা ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে করা সম্ভব হয়, তবে দেশ এগিয়ে যাবে আরো গতিশীলভাবে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকে একটি মানে নিয়ে আসা, দুর্নীতি রোধ, নগরায়ণে সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশের উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষিকে সঠিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা। এ কাজগুলো আমাদের করতেই হবে সুন্দর একটি দেশের জন্য, স্বাধীনতার আসল স্বাদ প্রাপ্তির জন্য।

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমরা গৌরব বোধ করি। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি। আর শোকও পালন করি, কারণ অনেক জীবন শহীদ হয়েছে। ৭ই মার্চের ভাষণ অত্যন্ত তাৎপর্যময় এবং গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধু সেই সময়ের নানা ঘটনার নায়ক। তাঁর ডাকেই মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এখন তাঁর যোগ্য উত্তরসূরির মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে আমরা আরো এগিয়ে যাব চূড়ান্ত সাফল্যের দিকে।

কুমারেশ চন্দ্র

বাস শ্রমিক, ঝিনাইদহ।

 

► ২০২১ সালে আমরা যখন স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করব, তখন রাষ্ট্রক্ষমতায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দলই থাকবে, এটা ভালো লাগার অনুভূতি দেয়। বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে অন্ধকারাচ্ছন্ন নয়, এ দেশের সামনে অপেক্ষা করছে আলোর ঝলক। জিডিপিতে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনের সাফল্য দেখাচ্ছে যেসব দেশ, বাংলাদেশের স্থান সেই তালিকার ওপরের দিকে। স্বাধীনতার পর জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশের সেনাসংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। স্বাধীনতার আগে বাংলাদেশের মানুষ বিদেশি পুরনো পোশাকের দিকে তাকিয়ে থাকত। দেশের বেশির ভাগ মানুষের গায়ে পরার মতো কোনো পোশাক ছিল না। এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। ইউরোপ-আমেরিকার মানুষও বাংলাদেশের পোশাকের ওপর নির্ভরশীল। স্বাধীনতার আগে বাংলাদেশ ছিল ওষুধের ক্ষেত্রে প্রায় শতভাগ বিদেশনির্ভর। আজ প্রয়োজনীয় ওষুধের প্রায় শতভাগই তৈরি করছে। সিরামিক শিল্পে বাংলাদেশ এখন নন্দিত দেশ। স্বাধীনতার আগে বাংলাদেশে ছিল দুটি কাগজকল। এখন ৯০টির কাছাকাছি। সর্বশেষ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট আমরা মহাকাশে পাঠিয়েছি। চলমান কাজগুলো শতভাগ সফলতার সঙ্গে শেষ হলে আরো একধাপ এগিয়ে যাব। আর এসব অর্জন সম্ভব হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের কারণেই।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সীপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

 

► দেশে যারা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। এরা তালিকাভুক্ত হয়ে অনেক সুবিধা ও সম্পদ নিয়েছে। এসব বাতিল করতে হবে। আর প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা, যাঁরা এখনো তালিকার বাইরে এবং দিনমজুরি করেন, তাঁদের সম্মান ও সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

নাদিম খান

ভাইজোরা, পিরোজপুর।

 

► স্বাধীনতার মৌলিক উদ্দেশ্য ছিল আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার, পরাধীনতা থেকে মুক্তি,  অর্থনৈতিক সংকট নিরসন, দারিদ্র্য বিমোচন, জনগণের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান সুনিশ্চিতকরণসহ জেল, জুলুম, নির্যাতন, নিপীডন, অত্যাচার থেকে দেশের জনগণকে মুক্ত করা। এ ছাড়া মানুষের পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি আনয়ন, মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাসহ জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে জনগণের জান-মাল-ইজ্জত রক্ষা করা ইত্যাদি। বাংলাদেশ এখন অনেকটাই এগিয়ে। তবে শতভাগ সাফল্যতার মুখ দেখেনি। শতভাগ সফলতার জন্য কাজ করে যেতে হবে।

মাওলানা নুর মুহাম্মদ ওবাইদি

মীরগঞ্জ, ফেনী।

 

► স্বাধীনতার ৪৮ বছরে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। স্বাধীনতার চেতনা ও স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে আমরা আরো এগিয়ে যাব বলে মনে করি।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► বঙ্গবন্ধুর যোগ্য কন্যা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। স্বপ্নযাত্রায় সফল হওয়া অনেক দূরের পথ। দেশ অনেক এগিয়েছে। দেশ আরো এগোবে। আমরা আশাবাদী।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► স্বাধীনতার স্বপ্নযাত্রায় আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। তবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এখনো পৌঁছাতে পারিনি। স্বাধীনতাসংগ্রামের অন্যতম লক্ষ ছিল মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা; জনগণের জীবনের নিরাপত্তা, বাক্স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং গণতন্ত্রের সঠিক প্রয়োগ। স্বাধীনতা অর্জন করেও কিছু ক্ষেত্রে অবনতি হয়েছে। দেশের জন্য যাঁরা যুদ্ধ করেছেন তাঁদের অনেকের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নেই। তাঁদের অনেকে এখনো অবহেলিত ও বঞ্চিত। অনেক স্বাধীনতাবিরোধী, রাজাকারের নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় রয়েছে। এখনো দেশে মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়ন হয় না। যারা দেশের জন্য নতুন কিছু করতে চায় তাদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। সৎ কর্মকর্তাদের বিভিন্ন উপায়ে হয়রানি ও বঞ্চিত করা হয়। বৈষম্য যতটুকু কমার কথা ততটুকু কমেনি। আর কত বছর লাগবে?

এস এম ছাইফুল্লাহ খালেদ

কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।

 

► মার্চ বীর বাঙালির একদিকে যেমন গৌরব আর অহংকারের মাস, অন্যদিকে স্বজনহারা অনেকের কাছে এ মাসটি করুণ আর্তনাদ ও বেদনার ইতিহাস। ১৯৭১ সালের মার্চ জাতির জন্য একটি ঘটনাবহুল মাস। এ মাসেই যেমন কালরাতের অস্তিত্ব রয়েছে, তেমনিভাবে ৭ই মার্চ, ২৬শে মার্চের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা জড়িত দিনসহ মুক্তিযোদ্ধাদের পুরো সূচনাটি মার্চকে ঘিরেই। এ মাস থেকেই রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়ে দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র সংগ্রামের পর স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে এনেছিল। সমাজে বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি ও অনুন্নয়নের কালো থাবা আছে। তবুও স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির আগে অনেক দূর এগিয়েছি। বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে অনেক দূর এগিয়ে যাব। দেশপ্রেম ও পবিত্র চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে যেসব বাঙালি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই সূর্য সন্তানদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

মো. ইলিয়াছ হোসেন

মধ্য খটখটিয়া, রংপুর।

 

► মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ করে। মার্চ মাস এলেই সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যায়। স্বাধীনতা আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে সাহস জোগায়। আমাদের দেশ দ্রুত উন্নত হচ্ছে। আমরা এখন একটি উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক। আমি বিশ্বাস করি, বিশ্বের দরবারে আমাদের দেশ একদিন নেতৃত্ব দেবে। বিজয়ের পতাকা আমাদের সব সময় উড়বে।

সাকিব আল হাসান

রৌমারী, কুড়িগ্রাম।

 

► স্বাধীনতার পরই আমরা একটি সংবিধান পেয়েছি। সংবিধান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গণতান্ত্রিক সরকার। ধাপে ধাপে শিক্ষাব্যবস্থা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা ও যোগাযোগসহ প্রতিটি সেক্টরে ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। ঠাণ্ডা মাথায় হিসাব কষলেই আমরা বুঝতে পারব, বাস্তবে আমাদের ব্যর্থতাও অনেক। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও করতে পারিনি, এমন অনেক কিছু আছে। নির্বাচন কমিশন, পিএসসি এবং দুদকের ওপর জনগণের আস্থা এখনো পর্যাপ্ত নয়। কেউ আট টাকার একটি ডিম চুরির জন্য জেলে যায়। পিএসসি পরীক্ষা থেকে শুরু করে সব পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়। ঘুষ দিতে না পারলে চাকরি পাওয়া কঠিন। এসব দূর করতে হবে।

মোহাম্মদ নূর উদ্দীন

কাটিরহাট, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

 

► জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চেয়েছিলেন সোনার বাংলা গড়তে। দেশ স্বাধীনের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তিনি বেঁচে থাকলে দেশ এগিয়ে যেত। এত দিনে উন্নয়নের শীর্ষ শিখরেও পৌঁছে যেত। কিন্তু তাঁকে নির্মমভাবে হত্যার পর দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি চরমভাবে ব্যাহত হয়। বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছেন। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার দিকে অধিকতর দৃষ্টি দিলে দেশ আরো দ্রুত এগিয়ে যাবে।

লিয়াকত হোসেন খোকন 

রূপনগর, ঢাকা।

 

► তলাবিহীন রাষ্ট্রীয় গ্লানি মোচন করে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। কলহ-বিবাদের পথ রুদ্ধ করে দিয়ে ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির দেশ গড়ায় আত্মনিয়োগ করেছি। রোহিঙ্গাদের দুর্দিনে মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে আজ বিশ্বদরবারে মানবতাবাদী রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জন করেছি। দেশের সব মানুষের মানবিক মৌলিক চাহিদাগুলো নিশ্চিতকরণে আত্মনিয়োজিত আছি। বেকার হাতকে কর্মীর হাতে রূপ দেওয়ার কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলেছি। আমাদের বাংলা ভাষা ও কৃষ্টিতে আজ বিশ্ব আকৃষ্ট হয়েছে। বাংলা ভাষা বিশ্বের মধুরতম ভাষা বলেও স্বীকৃত হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নে বিশ্বে সুনাম অর্জন করে চলেছি। দুর্নীতি দমনে, মাদকমুক্ত দেশ গড়ায়, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে সুখ ও শান্তিময় জীবনের অনুকূল রাষ্ট্র বিনির্মাণের নৌকায় পাল তুলে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে বলে আমি মনে করি।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

► মানুষের জীবনমান বেড়েছে। আয় বেড়েছে। দেশের নানা খাতে উন্নয়ন ও অগ্রগতি হয়েছে। উন্নয়নের পথেই দেশ চলমান আছে। ভবিষ্যতে আরো উন্নয়ন ঘটবে, দেশ এগিয়ে যাবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।

 

► স্বাধীনতাকামী মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা মায়ের ভাষায় কথা বলি আর স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে চলতে পারি। এই অগ্নিঝরা মাসে আমরা আশা করব, বাঙালির অনেক স্বপ্ন ও রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে; আমাদের অনেক স্বপ্ন ছিল; সেই স্বপ্নগুলোর অনেকটা বাস্তবায়িত হয়েছে। ভালোবাসা, পরিশ্রম ও পরিকল্পনা দিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা দিয়ে বাকি স্বপ্ন পূরণ করে দেশকে আরো এগিয়ে নিতে হবে। এটাই অগ্নিঝরা মাসে আমাদের প্রত্যাশা

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

► মার্চ আমাদের অহংকার। কারণ এ মার্চেই ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। সেই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। স্বপ্ন ছিল সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ পাওয়ার। কিন্তু হয়নি। একসময় রাজাকার-আলবদরদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা চলে গিয়েছিল। সাধারণ মানুষের ভাগ্যের উন্নতি হয়নি। তার পরও স্বাধীনতা পেয়ে আমরা গর্বিত—একটি দেশ, একটি মানচিত্র ও লাল-সবুজ পতাকা পেয়েছি। সুখের কথা, দেশে যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে। আমরা মধ্যম আয়ের দেশ হয়েছি। শিক্ষা, কৃষি ও অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়েছে এবং হচ্ছে। আশা করি এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। তাহলে স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণ হয়ে সত্যিকারের সোনার বাংলা গড়ে উঠবে।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী মুন্সীগঞ্জ।

 

► ৯ মাস যুদ্ধের পর স্বাধীন হয় বাংলাদেশ, শুরু হয় স্বপ্নযাত্রা। একসময় হেনরি কিসিঞ্জার আখ্যায়িত তলাবিহীন ঝুড়ি এখন আর তলাবিহীন নেই। ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে দেশ, বাড়ছে জীবনযাত্রার মান। বাংলাদেশ উন্নীত হয়েছে মধ্যম আয়ের দেশে। আজ বিশ্বের চোখ বাংলাদেশের দিকে। উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে দেশ, অবকাঠামোয় এসেছে অভাবনীয় উন্নতি। আরো আগে তা হতে পারত, কিন্তু হয়নি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির অপতৎপরতার কারণে। এগিয়ে যাক বাংলাদেশ, রূপান্তরিত হোক স্বপ্নের দেশে।

মুহম্মদ সাজ্জাদ হোসেন

হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

 

► ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর স্বাধীনতা অর্জন করে বিশ্বমঞ্চে আবির্ভূত হয় বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। বাঙালি বীরের জাতি, বাঙালি লড়াকু জাতি। উপযুক্ত নেতৃত্বে উন্নয়নের পথে অগ্রসরমান। আজ সারা বিশ্ব তাকিয়ে দেখছে বাংলাদেশকে। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী টানেল, মেট্রো রেল, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাঙালি সেনাদের সুনাম, অবকাঠামোর উন্নয়ন—অনেক কিছুই হয়েছে। এখানেই থেমে নেই। মানবতার হাত প্রসারিত হয়েছে, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের পথে ধাবিত। উন্নয়নের ধারা কেউ থামাতে পারবে না।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

► দেশ অনেক এগিয়েছে। তবে স্বাধীনতার সব স্বপ্ন আজও পূরণ হলো না। খুন-খারাবি বন্ধ হলো না দেশে, আজও মা-বোনের কান্না থামেনি। আমাদের শুধু এটুকুই সান্ত্বনা যে বিশ্বের দরবারে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি। আসুন হিংসা-বিদ্বেষ ত্যাগ করে সবাই হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করি। মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক। তবেই স্বাধীনতা সার্থক হবে।

ফোরকান আক্তার চৌধুরী

আরজতপাড়া, তেজগাঁও, ঢাকা।

 

► স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও কাঙ্ক্ষিত মাত্রার চেয়ে পিছিয়ে আছি আমরা। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ার অবস্থা বাংলাদেশের মতোই ছিল। তারা অনেক এগিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে লোকজন কর্মসংস্থানের জন্য মালয়েশিয়া যাচ্ছে। স্বাধীনতার ৪৮তম বছরে আমাদের প্রত্যাশা ন্যায়বিচার, জনগণের স্বাধীন চলাফেরা, মতামত প্রকাশের অধিকার। আমাদের প্রত্যাশা স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক দেশ, যাতে সবাই মিলেমিশে থাকতে পারি। বাংলাদেশ যাতে সোনার বাংলা হয়, সেটাই কামনা।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ, জামালপুর।

 

► স্বাধীনতার স্বপ্নযাত্রায় আমরা এগিয়ে চলেছি। সাফল্য আসছে। বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল। গ্রামে শহরের সুবিধাপ্রাপ্তি বাড়ছে। এই মার্চে আমাদের কামনা, বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাক।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

মন্তব্য