kalerkantho

চাই জনসচেতনতা ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



► ঢাকা বসবাসের অনুপযোগী ও আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ নগরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান শীর্ষে। চকবাজার দুর্ঘটনায় আবারও প্রাণহানি ঘটেছে। এ ছাড়া কিছুদিন পরপরই নগরীর বিভিন্ন বস্তিতেও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটছে। অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ঘটে থাকে, তবে একটি ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে, যাতে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়। কিন্তু আমাদের দেশে যেকোনো ঘটনা ঘটলে তাত্ক্ষণিকভাবে অনেক হৈচৈ, আলোচনা-সমালোচনা ও পরিকল্পনার কথা শোনা যায়। কিন্তু  কোনো পরিকল্পনাই বাস্তবায়িত হতে দেখা যায় না। পুরান ঢাকার অগ্নিকাণ্ডের কারণগুলো প্রায় সবারই জানা। দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অসংখ্য অতিদাহ্য প্লাস্টিক কারখানা ও রাসায়নিকের গুদাম রয়েছে। সবার জানা থাকা সত্ত্বেও এই প্লাস্টিক কারখানা, রাসায়নিকের গুদামসহ অতিদাহ্য পদার্থের ব্যবসা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। দীর্ঘদিনের অবহেলা, অব্যবস্থাপনা ও ব্যাপক দুর্নীতির কারণে সব নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে সম্পূর্ণ অপরিকল্পিতভাবেই বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা মহানগরী দিন দিন বিস্তারলাভ করছে। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করেই ঢাকাকে সব রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কল-কারখানার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হয়েছে। আধুনিক শিক্ষা ও চিকিৎসাব্যবস্থার সব ধরনের উন্নত ও আধুনিক অবকাঠামোও ঢাকা শহরেই গড়ে উঠেছে। যে কারণে সারা দেশের মানুষকে বাধ্য হয়েই ঢাকায় আসতে হচ্ছে। চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডই শেষ দুর্ঘটনা নয়। এমন আরো অনেক দুর্ঘটনাই হয়তো আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে এবং একই সঙ্গে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিরও আশঙ্কা রয়েছে।  দুর্ঘটনার আশঙ্কা একেবারে দূর করা সম্ভব নয়, কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও কমিয়ে আনা সম্ভব। এর জন্য অবশ্যই স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা যেমন প্রয়োজন, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগও প্রয়োজন। জনসংখ্যার অস্বাভাবিক চাপ ঢাকা শহরের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। জনসচেতনতা ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের বিকল্প দেখছি না।

বিপ্লব বিশ্বাস

ফরিদপুর। 

মন্তব্য