kalerkantho

পুরান ঢাকা রাসায়নিক গুদাম ও কারখানামুক্ত করুন

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১২ মিনিটে



পুরান ঢাকা রাসায়নিক গুদাম ও কারখানামুক্ত করুন

রাজধানীর নিমতলীতে ২০১০ সালের অগ্নিকাণ্ডে ১১৯ জন নিহত হয়েছিল। আগুনের ভয়াবহ রূপ ধারণের কারণ আশপাশের রাসায়নিক দ্রব্যের দোকান এবং সরু রাস্তার কারণে অগ্নিনির্বাপণে সৃষ্ট বাধা। এরপর পুরান ঢাকার রাসায়নিক গুদাম ও কারখানা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও কার্যকর করা হয়নি। চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ৭০ জনের মৃত্যু ও সম্পদের ক্ষতির কারণও একই ধরনের। আগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত না হলে ভবিষ্যতেও এমন ভয়াবহ ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন, সিটি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ কেন জননিরাপত্তার অনুকূলে সক্রিয় হয় না খতিয়ে দেখা দরকার। দোকান ও বাড়ির মালিকসহ দায়ী সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। শহরাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য আধুনিক ও কার্যকর ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে। টেলিফোন ও ই-মেইলে কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা এ অভিমত জানিয়েছেন

 

► নিমতলী থেকে চকবাজার—একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল। গত এক দশকে দেশের অনেক উন্নয়ন ও অগ্রগতি হলেও মানুষ নিমতলীর ঘটনা থেকে কোনো শিক্ষা নেয়নি। যত দিন না সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মূল্যবোধের জায়গা বদলাবে, তত দিন ভালো কিছু করা সম্ভব হবে না। ভবিষ্যতেও এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে হবে। এখনই কঠিন ও কার্যকর উদ্যোগ ও ব্যবস্থা নিতে হবে। পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী ও সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

এম এ সাক্কুর আলম

 জিনজিরা, ঢাকা।

 

► আবাসিক ও ঘিঞ্জি এলাকায় দাহ্য পদার্থের কোনো দোকান করা যাবে না। উন্মুক্ত ও প্রশস্ত রাস্তার পাশে কারখানা করতে হবে। অগ্নিনির্বাপক গাড়ির সংখ্যা বাড়াতে হবে। পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করতে পুকুরের ব্যবস্থা করতে হবে। বিদ্যুতের পুরনো লাইন পরীক্ষা করে সারাতে হবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য থামাতে হবে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবির পলাশ

শ্রীধরপুর, মুন্সীগঞ্জ।

 

► গার্মেন্ট, ইন্ডাস্ট্রি ও ছোট-বড় যেকোনো ধরনের মালামাল অর্থাৎ খাওয়ার কিংবা ব্যবহারের—সব উৎপাদন কারখানা থাকতে হবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায়। শিল্প-কলকারখানা এলাকায় আবাসিক বাড়িঘর রাখা যাবে না, আর আবাসিক এলাকায় কোনো ধরনের ছোট-বড় উৎপাদন ঘর বা উৎপাদন কলকারখানা ও ইন্ডাস্ট্রি কিছুই রাখা যাবে না। জনগণের মধ্যে চাই সচেতনতা। ঢাকার অলিগলির রাস্তা দখল নিয়ে আছে নানা দ্রব্য আর কাঁচামালের দোকানপাট। আগুন জ্বালিয়ে বানাচ্ছে চা, বানাচ্ছে জিলাপি আরো কত কী। এসব হচ্ছে রাস্তা আর ফুটপাত দখল করেই। শুধু পণ্য বিক্রি আর আগুন জ্বালিয়ে চলছে বেচাকেনা। আবাসিক এলাকার রাস্তা দখল করে হাট-বাজার ও দোকানপাটের আসর বসিয়েছে দখলবাজরা। কখন যে ঘটবে অগ্নিকাণ্ড, কেউ জানে না। জনসচেতনতার বিকল্প নেই।

লিয়াকত হোসেন খোকন

রূপনগর, ঢাকা।

 

► চকবাজারের দুর্ঘটনার দায় সরকার এবং এলাকাবাসী কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। এ ক্ষেত্রে সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই। রাসায়নিক দ্রব্যাদি আবাসিক এলাকায় না রাখার শক্ত আইন করা গেলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► ২০১০ সালে নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডে ১২৪ জন নিহত হয়েছিল। কেমিক্যাল গুদামের কারণেই পুরো এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই ঘটনার পর তালিকা করে ৮০০ রাসায়নিক গুদাম, কারখানা সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল; কিন্তু দীর্ঘ আট বছরেও তা সম্ভব হয়নি। পুরান ঢাকার পথঘাট সরু হওয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢুকতে পারে না। ফলে ঠিকমতো আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করা সম্ভব হয় না। প্রতিষ্ঠানগুলোতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কি না তা নিয়মিত তদারকি করতে হবে। মাসে অন্তত একবার মার্কেটের ব্যবসায়ী-কর্মচারীদের জন্য অগ্নিনির্বাপণ রিহার্সেলের ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু কেমিক্যাল নয়, ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকা রাজধানীর তলদেশে থাকা গ্যাস পাইপলাইনের কথা চিন্তা করে আবাসিক গ্যাস সংযোগে অটো সেন্সর বসাতে হবে। দ্রুত অগ্নিনির্বাপণের জন্য হাইড্রেন্ট পয়েন্ট বসাতে হবে।

মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া

লাকসাম, কুমিল্লা।

 

► প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণে এসব ঘটনা ঘটছে। পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম সরানোর ব্যাপারে আদালতের নির্দেশ মানা হচ্ছে না। এ দেশে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া কিছু হয় না। এসব কেন? প্রশাসন কেন কিছু করতে পারে না। পুরান ঢাকা থেকে সব রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম সরিয়ে কেরানীগঞ্জে নিন।

তৈয়ব আলী

ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

 

► অগ্নিকাণ্ড এখন সড়ক দুর্ঘটনার মতো নিত্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রতিরোধে সরকার ও জনগণকে সচেতন হতে হবে। নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণের আগে অগ্নিনিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করতে হবে। প্রত্যেক স্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। সরকারকে শিল্প-কারখানার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শহর এলাকার বেশির ভাগ সড়ক অপ্রশস্ত ও ভাঙাচোরা। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারে না। বিকল্প হিসেবে ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপন করা জরুরি।

মুহম্মদ সাজ্জাদ হোসেন

হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

 

► কেমিক্যাল গুদাম অন্যত্র স্থানান্তর খরচ, সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। সরকার ব্যবসায়ীদের সময় বেঁধে দিক। মনিটরিং করুক। সময়সীমার পরও যারা অন্যত্র গুদাম সরাবে না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তবু চকবাজারে যে মৃত্যুকূপ এখনো আছে তা সরানো হোক। আর কাউকে যেন স্বজন হারাতে না হয়।

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

বানারীপাড়া, বরিশাল।

 

► অগ্নিকাণ্ড রুখতে হলে কারখানা আইন, পরিবেশ আইন এবং বিস্ফোরকদ্রব্য আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। ব্যবসায়ীরা এসব আইনের তোয়াক্কা করে না। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে আইনের প্রয়োগও সঠিকভাবে হয় না। বিধিসিদ্ধ না হওয়ার পরও পুরান ঢাকার বাড়িওয়ালারা কায়দাকানুন করে রাসায়নিক গুদামের জন্য বাড়ি ভাড়া দেয়। আবাসিক এলাকায় রাসায়নিক কারখানা ও গুদামের কারণে নিমতলী ও চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সরু রাস্তার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দ্রুত পৌঁছতে পারেনি, তাই অনেক বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার ধকল সামলাতে সবাইকে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ সদর।

 

► সংবাদমাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখতে হবে। গ্যাস সিলিন্ডার, গ্যাসের চুলা, বিদ্যুতের শর্টসার্কিট ইত্যাদি থেকে আগুনের সূত্রপাত যাতে ভবিষ্যতে না হতে পারে, সে জন্য জনগণকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। গ্যাস সিলিন্ডার, গ্যাসের চুলা ও ইলেকট্রিসিটি থেকে আগুনের সূত্রপাত আমরা সচেতন হলে বন্ধ করা সম্ভব। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে জনবহুল এলাকায় আগুনের উৎসগুলো নিরাপদ পর্যায়ে আছে কি না তা সংশ্লিষ্ট দপ্তর কর্তৃক মাঝেমধ্যে পরিদর্শন করা যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ বন্ধ করে পরিকল্পিত নগরায়ণ করতে হবে, যাতে অগ্নির ভয়াবহতা না ঘটে। অপরিকল্পিত স্থাপনা করা থেকে জনগণকে বিরত রাখতে হবে। সাবোডাইস কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সরকারকে অধিকতর সতর্কতাসহ জিরো টলারেন্স নীতিতে এগোতে হবে। উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার স্বার্থে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাও জোরদার করতে হবে।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

► চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের চিত্র দেখলাম টেলিভিশনের পর্দায়, অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার। এর পরও কর্তৃপক্ষের টনক নড়েছে কি না বলা মুশকিল। প্রশ্ন হলো, ঘনবসতি এলাকায় কেন কেমিক্যালের গুদাম থাকবে? কলকারখানাও লোকবসতিতে থাকা উচিত নয়। এসবের জন্য আলাদা জায়গা থাকতে হবে। এসব ব্যাপারে সরকারকে লক্ষ রাখতে হবে, জনগণকেও সচেতন হতে হবে। বাড়ি করার সময় রাস্তার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয় না। সব জায়গায় রাস্তা প্রশস্ত হওয়া চাই, যাতে দুর্ঘটনার স্থানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি বা অন্যান্য সরঞ্জামের গাড়ি অনায়াসে ঢুকতে পারে।

ফোরকান আক্তার চৌধুরী

আড়জতপাড়া, তেজগাঁও, ঢাকা।

 

► কী বলব, ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। নিমতলীর ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত ছিল। তাহলে বারবার এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা দেখতে হতো না। যখনই কোনো ঘটনা ঘটে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। পুরান ঢাকার অলিগলি একেকটা মৃত্যুকূপ। মানুষ জীবিকার জন্য সেখানে বাস করে জীবন হাতে নিয়ে। আগেও কত প্রাণহানি ঘটেছে, এসবের পর কেমিক্যালের দোকান সরিয়ে নেওয়া উচিত ছিল। সেটা করা হলে আর কোনো স্বজনের আহাজারি শুনতে হতো না। এ দায় কার? কিছুটা ক্ষতিপূরণ হয়তো মিলবে, কিন্তু সারা জীবন স্বজন হারানোর কষ্ট কী করে দূর হবে?

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

► চকবাজারের আগুনে ৭৬ জন লোক মারা গেছে, যা জাতির জন্য বেদনাদায়ক। আমরা তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। আসুন সেসব মানুষের পাশে দাঁড়াই, যারা তাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন ও স্বজন হারিয়েছে। যারা এখনো মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে তাদের সরকারের পক্ষ থেকে বিনা পয়সায় চিকিৎসা দেওয়া উচিত। ভবিষ্যতে যাতে আর এ ধরনের ঘটনা না ঘটে তার ব্যবস্থা করতে হবে।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ, জামালপুর।

 

► নিমতলীর পর আবারও পুরান ঢাকার চকবাজারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটল। সারা দেশের মানুষ মর্মাহত। ওই এলাকা এত ঘিঞ্জি ও ঘনবসতিপূর্ণ যে আগুন লাগলেও দমকল বাহিনী বা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা পৌঁছাতে পারেন না। এসব অব্যবস্থাপনা দূর করে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► জরুরি অবস্থা-ব্যবস্থার কোনো ধারণাই গড়ে ওঠেনি ভবন নির্মাণসহ অগ্নিনির্বাপণ কিংবা অন্যবিধ দুর্ঘটনা মোকাবেলায়। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রশিক্ষণও নেই বললেই চলে। এ অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো জরুরি। আইনের যথাযথ প্রয়োগ ঘটানো এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর পদক্ষেপও নিতে হবে। আবাসিক এলাকা থেকে রাসায়নিকের গুদাম স্থানান্তর বাধ্যতামূলক করাসহ বাসাবাড়ি, অফিস, সব ক্ষেত্রে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রবাদ আছে, চোরে নিলে তবু বেড়া থাকে, আগুনে নিলে কিছুই থাকে না। প্রতিবছরই আগুনে প্রাণহানি ও সম্পদহানি ঘটে থাকে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। চকবাজারের মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমাদের নেই। অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধে সবাই আরো সচেতন ও সতর্ক হবেন।

বিলকিছ আক্তার

সরকারি ম্যাটস, টাঙ্গাইল।

 

► কেমিক্যাল কারখানা কোনোভাবেই আবাসিক এলাকায় রাখা যাবে না। গাড়িতে পেট্রল ও ডিজেলের ব্যবস্থা করে সিলিন্ডার বন্ধ করতে হবে। বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মার মোড়ে মোড়ে না বসিয়ে নির্দিষ্ট এলাকায় বসালে ভালো হয়।

শহিদুল ইসলাম

নারিন্দা, ঢাকা।

 

► আমরা অগ্নিকাণ্ড থেকে শিক্ষা নিতে পারছি না। একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে কেন? অগ্নিনির্বাপণে সহজ ব্যবস্থা নেই কেন? বিল্ডিং কোড মেনে বিল্ডিং তৈরি করার প্রতি নজর দিচ্ছি না কেন? বহুতল ভবনে, আর যদি তা হয় মার্কেটপ্লেস, তাহলে অবশ্যই ইমার্জেন্সি এক্সিট সিস্টেম থাকতে হবে। অগ্নিনির্বাপণের জন্য সরঞ্জাম থাকা জরুরি। বিপণিভবনে স্প্রিংকলার ও ফায়ার হাইড্রেন্টসহ আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার দরকার। বাংলাদেশে অনেক সরু গলিতে পাঁচ-সাত তলা বিল্ডিং আছে; কিন্তু সেখানে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নেই। অন্যান্য দেশে ফায়ার হাইড্রেন্টের ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশে নেই। এমন ভয়ংকর ঘটনা এড়াতে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।

মুহসিন মুন্সী

দৌলতপুর, খুলনা।

 

► জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং সরকারের উচিত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা জোরদার করা।

মোহনলাল দাস

কিশোরগঞ্জ।

 

► কেমিক্যাল গুদাম সরানোর ব্যাপারে কথা হচ্ছে নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে, কিন্তু আজও হলো না কেন? ১২ ফুটের রাস্তার ওপরের দিকে তাকালে আকাশটাকে মনে হবে ধানক্ষেতের আলের মতো চিকন একটি পথ। আর তা বিদ্যুতের তার দিয়ে পরিপূর্ণ।  কেমিক্যালের বেশির ভাগই দাহ্য পদার্থ। আমরা কোনো পরিকল্পনা করতে পারিনি এ বিষয়ে। অনুগ্রহ করে আর এ বিষয়ে কিছু চাইব না কারো কাছে। আইন কঠোর করে যেকোনোভাবে এই কেমিক্যাল গুদাম সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিতে হবে। বাড়িতে, হাসপাতালে, স্কুলে, হোটেলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যুগোপযোগী করতে হবে। ইলেকট্রিক লাইন প্রয়োজনে মাটির নিচ দিয়ে নিতে হবে। রাস্তার পাশে হোটেলগুলোর রান্নার ব্যবস্থা আধুনিক করতে হবে। প্রতিটি দালানে বাধ্যতামূলকভাবে রিজার্ভ ট্যাংক রাখতে হবে। পরিকল্পিত নগর ও পরিবেশের বিষয়কে সবার আগে গুরুত্ব দিতে হবে।

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► নিমতলী ও চকবাজারের মতো ঘটনা এড়াতে হলে রাসায়নিকের কারখানা ও গুদাম সরাতে হবে, সরু রাস্তা চওড়া করতে হবে। প্রত্যেক এলাকায় নির্দিষ্ট দূরত্বে ফায়ার হাইড্রেন্ট বসাতে হবে। প্রশাসনকে যথাসময়ে যথাব্যবস্থা নিতে হবে। সার্বিকভাবে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাশেদুল ইসলাম লাকিটি

ভাঙ্গুরা, পাবনা।

 

► দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ আগুনের স্পর্শে এলে কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, সেই অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। ২০১০ সালে নিমতলী অগ্নিকাণ্ডের পর পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিকের গুদামগুলো সরিয়ে ফেলার দাবি উঠেছিল খুব জোরেশোরে। কিন্তু কাজটি সম্পন্ন হয়নি আজও। এরই পরিণতিতে চকবাজারের অগ্নিকাণ্ড ঘটল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলাই এর জন্য দায়ী। নিমতলী ট্র্যাজেডির প্রতিটি বর্ষপূর্তিতে মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে বলা হয়, আর কয়টি অগ্নিকাণ্ডের পর কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে? পুরান ঢাকাবাসীকে এই ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করতে হবে আর কত দিন? আমরা আশা করব, চুড়িহাট্টার মর্মান্তিক ঘটনার মধ্য দিয়ে টনক নড়বে কর্তৃপক্ষের।  সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করি। অগ্নিকাণ্ড যেকোনো সময় ঘটতে পারে। সে জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে, প্রতিটি ভবনে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন। চকবাজারের ঘটনায় শুধু শোক নয়, শিক্ষা গ্রহণ জরুরি।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

 

► নিমতলীর ঘটনার পর শিক্ষা নেওয়া হয়নি। কেন রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম সরানো হলো না? যেকোনো শহরে দুর্যোগ মোকাবেলার বিষয়ে পৌর মেয়রের কার্যকর উদ্যোগ থাকা দরকার। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকেও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

টিটো রহমান

রাধানগর, পাবনা।

মন্তব্য