kalerkantho


মোবাইল ফোন সেবায় বিড়ম্বনা দূর হোক

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



মোবাইল ফোন সেবায় বিড়ম্বনা দূর হোক

সেলফোন বা মোবাইল ফোন ডিজিটাল যুগের স্মারক হয়ে উঠেছে। প্রতি মুহূর্তে কোথায় কী ঘটছে, নিউজ আপডেটে জানা যাচ্ছে। শুধু কথা বলার জন্যই এ যন্ত্র ব্যবহৃত হয় না, আরো অনেক কাজে এটি লাগে। এ যন্ত্রের বিপত্তিও অনেক। তার চেয়েও বেশি বিপত্তি মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর কারণে। কলড্রপ, রিচার্জের মেয়াদে নয়ছয়, জরুরি সেবার নম্বরে কল ধরায় অহেতুক বিলম্ব, অযথা প্রমোশনাল কল প্রভৃতি সমস্যা—চার্জ গ্রাহকের পকেট থেকেই যায়। বিনা নোটিশে বিজ্ঞাপনী মেসেজ, প্রচুর অফার—এসবেও চার্জ কাটা হয়। নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট অফারেও সমস্যা রয়েছে। সবই হয় অপারেটরগুলোর অতি মুনাফাখোরি মানসিকতার কারণে। এসব যন্ত্রণা থেকে গ্রাহকদের মুক্তির ব্যবস্থা সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে করতে হবে। পরিষেবা জরুরি, ব্যবসা চলুক; কিন্তু গ্রাহককে অসন্তুষ্ট করে নয়। কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা টেলিফানে ও ই-মেইলে এ অভিমত জানিয়েছেন

 

► মোবাইল ফোনের সেবার বিষয়টি নিয়ে অনেক ধরনের অভিযোগ রয়েছে। আসলে মোবাইল কম্পানিগুলো তাদের কোয়ালিটি ঠিক রাখার কাজ যতটা না করে, তার চেয়ে বেশি কাজ করে বিজ্ঞাপন নিয়ে। মধুর বিজ্ঞাপন একটি পণ্যের প্রসার বাড়াতে পারে, কিন্তু এর সঙ্গে মানহীন সেবার কারণে বিরক্তি যোগ হয়ে যে জনপ্রিয়তা হ্রাস হয়, তা কিন্তু প্রমাণিত। সিটিসেল প্রথম কম্পানি হলেও তারা এ দেশে ব্যবসা করতে পারেনি। বর্তমানে মোবাইলে শীর্ষস্থানীয় কম্পানির নেটওয়ার্কিং পরিকল্পনাটি কী আসলে তা বোঝাই দায়। কারণ কলড্রপ থেকে শুরু করে কলের অনেক ধরনের সমস্যা এখনো পরিলক্ষিত। ইন্টারনেটে ফোরজি চালু হয়েছে সেই কত দিন, এখনো এমনো কাভারেজ এরিয়া রয়েছে যেখানে থ্রিজিও পাওয়া যায় না ঠিকমতো। যারা ফোরজি কাভারেজ এলাকায় পড়েছে তাদের কাছ থেকে ইন্টারনেটের দাম যা নেওয়া হচ্ছে, যারা কাভারেজ এরিয়ায় পড়েনি তাদের কাছ থেকেও সমপরিমাণ দামই নেওয়া হচ্ছে। সরকারের দ্রুত কোয়ালিটি চেকের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি এলাকায় নির্ধারিত মানের সেবা না দিতে পারলে ওই পরিমাণ সেবার টাকা নেওয়া অবৈধ বলে মনে করি। এর সঙ্গে নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম স্থাপনে যেকোনো বিল্ডিংয়ের ওপর স্থাপনের ব্যাপারটিও ভাবার সময় এসেছে। ভাবতে হবে নেটওয়ার্কিং রেডিয়েশনের ব্যাপারগুলো নিয়েও। সব মিলিয়ে মোবাইলের সেবা নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। 

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সেবায় শুধু আমিই নই, সারা দেশের মানুষ অসন্তুষ্ট। সারা দিন ফোন আসে, এমনকি রাত ২-৩টায় বিভিন্ন অফার জানানোর জন্য ফোন আসে। এতে বিরক্তির সঙ্গে ভয়ও কাজ করে আমাদের মনে। কলরেটের কথা কী বলব! তারা তাদের মনমতো চার্জ কেটে নেয়! এমবির হিসাব-নিকাশ তো আরো ভয়ানক।

মুহাম্মদ নাঈম মাহমুদ (নিহান)

দত্রা, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

 

► মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সেবায় আমি সন্তুষ্ট নই। তথ্য-প্রযুক্তির এই দিনে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর বিভিন্ন অফার তাদের ইউজারদের অনেকটা জিম্মি করে রাখছে। বলতে গেলে মোবাইল অপারেটরগুলো অনেকটা কসাইয়ের ভূমিকা পালন করছে। ফোরজি, থ্রিজির কথা বাদই দিলাম। ঠিকমতো টুজিতে কথা বলা যায় না। কলড্রপের কথা কী আর বলব। কলড্রপের যন্ত্রণা খুবই বিরক্তিকর। মোবাইল অপারেটরগুলো তাদের নেটওয়ার্ক উন্নত ও শক্তিশালী না করে চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন প্রচারে ব্যস্ত। মোবাইল অপারেটরগুলোর উচিত হবে সব ধরনের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা। কলড্রপ বন্ধ করা। সেবার মান উন্নত করা। রিচার্জ ও এমবির মেয়াদ আনলিমিটেড করা। হেল্পলাইনে টোল ফ্রি কল চালু রাখা। ডাউনলোড গতি এমবিপিএস বৃদ্ধি করা। ভ্যাট, সারচার্জ ইত্যাদিসহ সব অপারেটরে কলরেট ২৫ পয়সা থেকে ৩০ পয়সার মধ্যে রাখা। সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন কম্পানি টেলিটকের সব কার্যক্রম কেন এত পিছিয়ে? টেলিটকের সেবার মান সব অপারেটরের মধ্যে সেরা হওয়া উচিত ছিল। সরকারের বেঁধে দেওয়া কলরেটে গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা ভ্যাটসহ ২৫ থেকে ৩০ পয়সায় বিভিন্ন অফারে কথা বলতে পারতাম। এখন বাধ্য হয়ে ভ্যাটসহ ৬১ পয়সায় কথা বলতে হয়। যা খুবই দুঃখজনক। আবার সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এস এম ছাইফুল্লাহ খালেদ

কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।

 

► গত এক বছরে বহুবার বাসার ওয়াই-ফাইয়ের আওতার বাইরে গিয়ে ইন্টারনেটের জন্য টাকা দিয়েও কালের কণ্ঠ’র জন্য মতামত পাঠাতে একবারও সফল হইনি। টাকাটাই গচ্চা গেছে। প্যাকেজের ধোঁকাবাজির শিকার বহুবার হয়েছি। বাসার বিদ্যুতের বিল দিতেও বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে। অপারেটরগুলোর মধুর ব্যবহারের আড়ালে চাতুর্যপূর্ণ শোষণ থেকে রক্ষা পাওয়া খুবই কঠিন। অভিযোগ দাখিলের ফল ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রেই হতাশাজনক। তাদের চাতুরি পরিহার করে সেবার মান বাড়ানোর ব্যাপারে মনোযোগী হওয়া উচিত।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

► মানুষের জন্য মোবাইল ফোন অপরিহার্য। এটা এখন মানুষের অভ্যস্ততার অংশ হয়ে উঠেছে। সেবার মান কতটা উন্নত সেটা বড় কথা নয়, এটা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা সেবার কথা যদি বিবেচনা করি তবে সবার আগে রয়েছে গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক। এমএনপি সেবায় এগিয়ে আছে রবি। কিছুদিন ধরে দেখছি, গ্রামীণফোনের সিমে নেট প্রচণ্ড বিরক্তি সৃষ্টি করছে, নেট চালানোই দায়।

আর রবি সিম সেবা কিছুটা সন্তোষজনক থাকলেও তারা বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দিয়ে অহেতুক টাকা কেটে নিচ্ছে; এটা বিরক্তির বিষয়। জরুরি একটি সেবা মোবাইল ফোন সেবা, কিন্তু যদি সেবার মান উন্নত না হয় তাহলে তো গ্রাহক হারানোর ভয় থাকবে।

দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন মোবাইল কম্পানির কাছে সরকারের কোটি কোটি টাকা পাওনা আছে। আবার তারা হারাচ্ছে গ্রাহকের নির্ভরতা। আমি মনে করি, অসুস্থ প্রতিযোগিতায় না গিয়ে মোবাইল কম্পানির উচিত কিভাবে গ্রাহকসেবার মান উন্নত করা যায় সেদিকে নজর দেওয়া।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

► সেবার নামে প্রতারণা করাই হচ্ছে মোবাইল অপারেটরগুলোর বৈশিষ্ট্য। নিম্নমানের সেবা, অযাচিত ও অপ্রয়োজনীয় সেবা, বিরক্তিকর ভিএএস (VAS) সেবা ও আইভির (IVR) কলগুলো, প্রতারণামূলক অফার, গ্রাহকের অগোচরে নানা কার্যক্রম, অত্যধিক ইন্টারনেট কানেকশন লস ও ধীরগতি। সরকারের নিয়মবহির্ভূত কাজ, কর ফাঁকি দেওয়া এবং তাদের কৌশলের শিকার হচ্ছে প্রযুক্তিবিষয়ক স্বল্প-জ্ঞাতি জনসাধারণ। সেবার মান উন্নয়নে কাজ না করে লুকানো শর্তযুক্ত প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনে প্রচুর অর্থ ব্যয়। কল সেন্টারের কর্মীদের চিরচেনা সেই বাক্য ‘স্যার, বিষয়টির জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’ তাদের ত্রুটিপূর্ণ সেবার অভিযোগ করতে গ্রাহককে নিজের টাকা খরচ করতে হয়। অপারেটরগুলোর সামাজিক সাইটের মতামত পাতায় চোখ দিলে বোঝা যায়, কী পরিমাণ গ্রাহক তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট। এ রকম আরো অসংখ্য বিষয় কতই না বিরক্তিকর। আমার ব্যক্তিগত দিক থেকে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর প্রতি সন্তুষ্ট হওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

মুহম্মদ সাজ্জাদ হোসেন

হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

 

► সব মোবাইল ফোন অপারেটরের পর্যাপ্ত নেটওয়ার্ক শহরাঞ্চলে থাকলেও গ্রামাঞ্চলে কিন্তু খুব দুর্বল নেটওয়ার্ক। মানুষ যাতে সব অপারেটরের নেটওয়ার্ক সুবিধা পায় সেই পদক্ষেপ নিতে হবে। অপারেটরগুলোর কাছ থেকে যখন-তখন গ্রাহকের মোবাইলে বিভিন্ন অফারের সংবাদ নিয়ে কল আসাটা খুব বিরক্তিকর, এসব কলের মাত্রা কমাতে হবে। ইন্টারনেট অফারের মূল্য কমাতে হবে ও মেয়াদ বৃদ্ধি করতে হবে। কোনো মেগাবাইটের মেয়াদের শেষ সময়ের মধ্যে গ্রাহক নতুন মেগাবাইট ক্রয় করলে অবশিষ্ট মেগাবাইট পরবর্তী মেগাবাইটের সঙ্গে যোগ করে ব্যবহারের সুযোগ রাখতে হবে কলরেট সহনীয় পর্যায়ে রাখতে। কোনো বিজ্ঞপ্তি ছাড়া মাঝেমধ্যে হঠাৎ অপারেটররা সিমের নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়, গ্রাহক খুবই সমস্যার মধ্যে পড়ে যায়। পরে কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে গিয়ে আবার সিম উত্তোলন করতে হয়, এসব পদ্ধতি বন্ধ করতে হবে।

এম আনিসুর রহমান

শেখেরখিল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।

 

► মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সেবায় আমি মোটেও সন্তুষ্ট নই। কারণ তাদের কাজ অফারের নামে গ্রাহকদের রক্ত চুষে খাওয়া। যেমনটাই মানবসেবক নামে অন্যান্য সুধীসমাজের আচরণ। কয়েক দিন আগে রবি অপারেটরের অফিসে সিম চালাব না বলে চেঁচিয়ে উঠলে কর্তব্যরত কাস্টমার ম্যানেজার উত্তরে বললেন, ‘স্যার, আপনি যেকোনো সিমে এমন ধোঁকা পাবেন। এই হলো মোবাইল অপারেটরগুলোর সেবা।’

নুর মুহাম্মদ

মীরগঞ্জ, ফেনী।

 

► বিরক্তির আরেক নাম মোবাইল ফোন অপারেটর। তারা যেমন সেবা দিয়ে আমাদের জীবনকে সহজতর করছে, তেমনি ভোগান্তিও কম দিচ্ছে না। প্রতিটা দেশে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সেবার মান দিন দিন ভালো হচ্ছে, কিন্তু আমাদের বেলায় ঠিক উল্টো খারাপ হয়ে যাচ্ছে। সেকেন্ডে সেকেন্ডে অযাচিত এসএমএস। মোবাইলের ভয়েস কল ও ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য, অজান্তে ব্যালান্স কাটা, ভয়েস কলের নিম্নমান, দুর্বল নেটওয়ার্ক কাভারেজ, নেটওয়ার্ক সমস্যা, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গ্রাহকদের সেবা না দেওয়াসহ গ্রাহকের সঙ্গে প্রতিনিয়ত নানা প্রতারণা করছে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। গ্রাহকদের এই অভিযোগ আজকের নয়, প্রতিদিনের, একজনের না প্রত্যেক মানুষের। কিউওএস নীতিমালা অনুযায়ী আইনের আওতায় এনে প্রতারণার জন্য জরিমানার ব্যবস্থা করলে হয়তো গ্রাহকরা তাদের পাতানো ফাঁদ থেকে রক্ষা পাবে। এত সমস্যার পরও আমি আশাবাদী এই জন্য যে বর্তমানে অপারেটরগুলোর মধ্যেও প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। সেবার মান ভালো করতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

মোহাম্মদ নূর উদ্দীন

ঢাকা।

 

► মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমরা নানা ধরনের সুবিধা পাই। আমাদের জীবন ও চিন্তাকে সহজ করে দিয়েছে ফোন কম্পানি। কাজেই আমি ব্যক্তিগতভাবে সন্তুষ্ট।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► খুবই ভোগান্তিতে আছি। যখন-তখন কল কেটে যায়। গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকে বেশি হয়। ইন্টারনেট থাকে না, নেটওয়ার্কে সমস্যা। মানুষ তো মুখ ফিরিয়ে নেবে। গ্রামীণফোনে ১২১-এ কল করলে ১০ টাকা কাটে, পাঁচ-ছয় মিনিট পর কল রিসিভ করে; তাত্ক্ষণিকভাবে এ নম্বরের সেবা মিলছে না। গ্রাহকদের সন্তুষ্টি আদায়ের জন্য মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিত।

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

► মোবাইল ফোন সেবা মানুষের উপকারে আসছে—আমি বা আমরা উপকার পাচ্ছি। তবে এর যথাযথ ব্যবহার নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। এ যন্ত্রের মধ্যে অপকারের বিষবৃক্ষ রয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই—এসব কাজেও মোবাইল ফোন ব্যবহার করা হয়। মোবাইল ফোন সাধারণ মানুষের কাছে আতঙ্কের কারণও বটে। ফোন করে মুক্তিপণ, চাঁদা দাবি করা হয়, হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। মোবাইল পরিষেবার এসব নেতিবাচক ব্যবহার রোধ করার ব্যবস্থা করে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কমুক্ত রাখার ব্যাপারে অপারেটররা সহায়তা করতে পারে। সাধারণ মানুষ সঠিকভাবে অনেক ফোনসেট ব্যবহার করতে জানে না। যে পারদর্শী সে-ই পারে সঠিকভাবে এর ব্যবহার করতে বা অপব্যবহার করতে। এটি মোবাইল সেট ব্যবহারকারীর ওপর নির্ভর করে। মোবাইল ফোন সেবায় মানুষ সন্তুষ্ট কি না তা নির্ভর করে সেবক তথা অপারেটরের ওপর। সেবকই তার যথাযথ পরিচয় দিতে পারে।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

► দুটি কম্পানিকে আমি ধুতরা কম্পানি বলি— মোবাইল ও বিদ্যুৎ। এরা সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি সরকারের করও এরা ফাঁকি দেয় এবং সেই টাকার পরিমাণও কম নয়। তাদের সেবায় আমরা বিরক্ত, ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট। এরা কি ধরাছোঁয়ার বাইরে?

মো. তৈয়ব আলী

ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

 

► মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সেবায় আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। এদের বিভিন্ন কাজে বিড়ম্বনার শেষ নেই। কলের নেটওয়ার্ক সেবা মোটামুটি ভালো। অনেক সময় দেখা যায়, নেটের মেয়াদ এক-দুই ঘণ্টা আছে, সেই সময় কোনো কিছু ডাউনলোড দিলে নেটের গতি একেবারেরই কমে যায়। শহরে নেট সেবা ভালো হলেও গ্রামে এই আছি, এই নাই অবস্থা। আর সবচেয়ে বিরক্তির বিষয় হচ্ছে দিনের মধ্যে কমপক্ষে চার-পাঁচবার মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর মেসেজ আসা।

মাহমুদুল হাসান সোহাগ

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 

► মোবাইল অপারেটর কম্পানিগুলো এখন যা শুরু করেছে তা ছিনতাই, রাহাজানির পর্যায়ে পড়ে। ক্ষেত্রবিশেষে তা এসবের চেয়েও বড় অপরাধ। প্রায়ই হুটহাট করে ফোনে নতুন নতুন সার্ভিস চালু হয়ে যায়। মাঝেমধ্যে এটাও লক্ষ করা যায় যে ডাটা শেষ হওয়া মাত্র কোনো নোটিশ না দিয়েই টাকা কাটা শুরু হয়। আমরা গ্রাহক না পারি সইতে, না পারি কইতে; নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকতে হয়। আর নেটওয়ার্কের কথা কী বলব! এ তো আরেক যন্ত্রণা। কলড্রপ স্বাভাবিক ঘটনা। টেলিটকসহ বেশ কয়েকটি অপারেটরের নেটওয়ার্ক সমস্যা রয়েছে। এ ব্যাপারে অপারেটর কিংবা বিটিআরসিতে অভিযোগ জানিয়েও কোনো লাভ হয় না। নিশ্চুপ হয়ে সহ্য করতে হয় অপারেটরগুলোর সব যন্ত্রণা। দয়া করে থামান আপনাদের চাঁদাবাজি, আমরা অতিষ্ঠ।

ফরিদুল হক

ফুলবাড়ী, কুড়িগ্রাম।

 

► তথ্য-প্রযুক্তির এ যুগে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সেবার সীমাবদ্ধতায় আমি একা নই বরং কেউই পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারছে না। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, শহরকেন্দ্রিক সেবা। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো কথা বলার ক্ষেত্রেও নেটওয়ার্ক সমস্যা পরিলক্ষিত হয়। ইন্টারনেট ব্যবহার করার কথা বলতে গেলে বলতে হয় থ্রিজি পাওয়া দুষ্কর আর ফোরজি তো এখন পর্যন্ত সে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। ইন্টারনেট প্যাকের মূল্য ও কম মেয়াদ সেবার মানের নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ। দরকার মাসিক আনলিমিটেড ইন্টারনেট প্যাকের। শুধু শহরকেন্দ্রিক না হয়ে গ্রামেও উচ্চগতির নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করা উচিত। 

মুহাম্মদ আবু তালহা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল।

 

► মোবাইলের সেবার মান আরো বাড়াতে হবে। অনিবন্ধিত সিম বিক্রি হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে। অনেক অনিয়ম আছে, অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয় না। ভুয়া অফার আসে। এসব বন্ধ করতে হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।

 

► মোবাইল গ্রাহকরা সন্তুষ্ট নয়। যত দিন যাচ্ছে, সব অপারেটরেই নেটওয়ার্কের সমস্যা হচ্ছে। ফোন কম্পানি নানা ধরনের অফার দেয়। সেগুলো নিতে গেলেই নেটওয়ার্ক জটিলতায় পড়তে হয়। কোনো অভিযোগ করেও লাভ হয় না। নগদ টাকা নিয়ে ভোগান্তি উপহার দিতে ফোন কম্পানির জুড়ি নেই।

কুমারেশ চন্দ্র

বাস শ্রমিক, ঝিনাইদহ।



মন্তব্য