kalerkantho


স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদের কৌশল প্রয়োজন

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



সুচিন্তিত কিছু স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদের কৌশল বাস্তবায়নে প্রকল্প হাতে নিতে হবে। একজন ড্রাইভার কিভাবে আজকে ড্রাইভার হয়ে ওঠে আমরা কি কখনো তা জানতে চেয়েছি? নিদারুণ খিদে নিয়ে যে শিশুটি শুধুই খেতে পাওয়ার গ্যারান্টিতে কোনো এক গ্যারেজের অমানবিক নোংরা পরিবেশে ততোধিক অস্বাস্থ্যকর আর ভারী কাজ নিয়ে জীবন শুরু করে, সে-ই কালক্রমে হেল্পার থেকে ড্রাইভার হয়। বেশির ভাগ ড্রাইভারের কাহিনিই এমন। এই ড্রাইভার যে পরিবেশে কাজ করে  সে সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি? ঘুষ, চাঁদা দেওয়া ছাড়াও চড়-থাপ্পড়, লাথি-লাঠির বাড়ি আর গালাগাল খাওয়া যাদের কাছে নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার, তাদের কাছে মানবিকতা বোধের কিছু কি অবশিষ্ট থাকে? আমরা যার কাছ থেকে দায়িত্বশীলতা আশা করি, তার কাছে শব্দগুলো তাই ভীষণ গোলমেলে। প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে সব উপজেলায় ড্রাইভিং প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু করা, কাজের পরিবেশের মান উন্নয়ন, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা ইত্যাদি। চাঁদাবাজ, ঘুষখোরদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে। দীর্ঘ মেয়াদে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বয় করে মেট্রো জেলা আর মহাসড়কে পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে করণীয়—বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিং নিষিদ্ধকরণ। আর এ জন্য গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা বেঁধে দেওয়া। ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা। লাইসেন্স প্রদানে জালিয়াতি প্রতিরোধ। চালকের দক্ষতা ও যোগ্যতা যাচাই। ফিটনেস ও সার্টিফিকেট বিহীন গাড়ি রাস্তায় নামানো প্রতিরোধ করতে হবে। পথচারীকে সতর্কভাবে চলাফেরা করা। মহাসড়কের পাশে হাট-বাজার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা। সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট আইনের ভূমিকা আরো বেশি সক্রিয় করা। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে যানবাহনের ত্রুটিবিচ্যুতি পরীক্ষা করা। সর্বোপরি সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবহন মালিক, পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, গাড়ি চালক সমিতি এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

এ কে এম আলমগীর

ওআর নিজাম রোড আ/এ, চট্টগ্রাম।



মন্তব্য