kalerkantho


সড়কে আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



সড়কে আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি

সড়ক দুর্ঘটনা থেমে নেই। প্রতিদিন প্রাণহানি ঘটছে। সড়ক-মহাসড়কে চলছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন। বৈধ লাইসেন্সধারী চালকের সংখ্যাও কম। নিয়ম মেনে চলছে না যানবাহন। এ অবস্থায় সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল কালের কণ্ঠ’র পাঠকদের কাছে। টেলিফোন ও ই-মেইলে পাওয়া পাঠকদের মতামত এখানে তুলে ধরা হলো

 

► ‘আজরাইলের প্রতিনিধি’ চালকদের চিহ্নিত করা ও তাদের যান চালনা থেকে বিরত রাখা ছাড়া নিরাপদ সড়ক সম্ভব নয়। দিনের বেলা শহরে ট্রাক ও ভারী যান চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখতে হবে। স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চালকদের প্রশিক্ষিত করতে হবে। শহরে শিফটওয়ারি স্কুল-কলেজ পরিচালনা করে পিক আওয়ারে ট্রাফিক জ্যাম কমানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সরকার দৃঢ় থাকলে সমাধান অবশ্যই হবে।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

► প্রথম করণীয় হচ্ছে, বাস ছাড়ার আগে গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা করে দেখতে হবে এবং চালক মাদকাসক্ত কি না যাচাই করতে হবে। আর ট্রাফিক বাহিনীকে ঢেলে সাজাতে হবে। সব পক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

মো. শাহাদত হোসেন

টঙ্গী, গাজীপুর।

 

► মূল জায়গায় ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিবহন খাতের সব জায়গায় ঘুষ বন্ধ করতে হবে। বিআরটিএ এবং ট্রাফিক পুলিশের জবাবদিহি থাকতে হবে। তাহলেই অনিয়ম দূর হবে মনে করি।

চৌধুরী খায়রুল কবীর

মিরপুর, ঢাকা।

 

► সড়কে মৃত্যুর বিভীষিকা কবে থামবে? সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কারো কি কোনো উদ্যোগ আছে? আসলে কার্যকর উদ্যোগ নেই। ট্রাফিক পুলিশ, বিআরটিএ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, প্রতিটি সরকারি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নির্মম অবহেলা দেখিয়ে চলেছে। সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলো বিশেষজ্ঞরা চিহ্নিত করেছেন, সেসব কারণ কিভাবে দূর করা যায়, কী কী পদক্ষেপ নিলে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব, তা-ও তাঁরা বলেছেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেই।

সাকিব আল হাসান

রৌমারী, কুড়িগ্রাম।

 

► সড়কে নতুন করে আইন করতে হবে এবং শৃঙ্খলা নিরূপণে এর অবকাঠামো ঢেলে সাজাতে হবে। জবাবদিহি ও সচেতনতার বিকল্প নেই।

মো. মোকাদ্দেস হোসাইন

গ্রামপাঙ্গাসি, সিরাজগঞ্জ।

 

► নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, সাময়িক কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ, সময়ে সময়ে ট্রাফিক সপ্তাহ পালন বা অভিযান পরিচালনার মতো প্রতীকী ব্যবস্থার দ্বারা এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। যেহেতু সমস্যাটি জটিল ও দীর্ঘদিনের, তাই রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়। তবে সব পক্ষের ভূমিকা থাকলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এখনো আমাদের দেশে যেকোনো সড়ক দুর্ঘটনার জন্য প্রধানত চালককে দায়ী করা হয়ে থাকে। প্রতিটি দুর্ঘটনার সঠিক তদন্ত করে কারণ খুঁজে বের করতে হবে এবং দায়ী ব্যক্তিদের জন্য কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিটি জেলায় ড্রাইভিং প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে এবং চালক ও শ্রমিকদের দায়িত্বশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে।

বিপ্লব বিশ্বাস

ফরিদপুর। 

 

► সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে ফিটনেসহীন গাড়ি তুলে নিয়ে নতুন গাড়ি নামাতে হবে, অদক্ষ চালককে বাদ দিতে হবে, রাস্তাসংলগ্ন হাট-বাজার উচ্ছেদ করতে হবে, ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে, স্বল্পগতির গাড়ির জন্য মূল রাস্তার সঙ্গে যথেষ্ট ফাঁক রেখে আলাদা লেন করতে হবে, মহাসড়কগুলোকে চার লেন করতে হবে এবং বাস-ট্রাকে দুজন চালক রাখতে হবে, যাতে একজনকে টানা গাড়ি চালাতে না হয়। পরিবহন খাতের শ্রমিকদের অযৌক্তিক দাবিতে আন্দোলনে নামা উচিত নয়। সবাই মিলে চেষ্টা করলে অবশ্যই সড়ক দুর্ঘটনা রোধ হবে।

কুমারেশ চন্দ্র

ঝিনাইদহ বাস টার্মিনাল।

 

► সরকারের ইতিবাচক নির্দেশনা থাকলে সড়ক দুর্ঘটনা অবশ্যই কমবে, নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসন ও পুলিশকে কাজ করতে হবে। সরকার সন্ত্রাস, মাদকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে, সড়ক দুর্ঘটনাও কমাতে পারবে। ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়াতে হবে। সড়ক আইনের কঠোর প্রয়োগ ঘটাতে হবে, যাচাই করে লাইসেন্স দিতে হবে, নিয়মিত তদারক করতে হবে, রাস্তাঘাটে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। এসব উদ্যোগ নিলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে।

আবদুল খালেক

দাসপাড়া, নরসিংদী সদর।

 

► জেলাভিত্তিক গাড়ি চালনা প্রশিক্ষণকেন্দ্র দরকার, যাতে চালকরা দক্ষতা অর্জন করতে পারে, সচেতন হতে পারে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ফি দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা হওয়া উচিত। মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে। ঘাটে ঘাটে ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। দুর্ঘটনার দায় চালক, মালিক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ—সবাইকে নিতে হবে।

তৈয়ব আলী

ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

 

► আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় অহরহ অমূল্য জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে। স্বজন হারানোর বেদনা কী কষ্টের, যার যায় সে-ই বোঝে। এই মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচার জন্য সবাইকে সতর্ক হতে হবে। পথচারীদের যখন-তখন রাস্তা পারাপার হওয়া ঠিক নয়। যেমন আমরা দেখি গাড়ির সামনে দিয়ে পার হতে গিয়ে দুঘর্টনার শিকার হয় অনেকে। এ জন্য ট্রাফিক আইনের কড়াকড়ি থাকতে হবে, যাতে পথচারীরা জেব্রা ক্রসিং দিয়ে অথবা ওভারব্রিজ দিয়ে রাস্তা পারাপার হয়। অন্যদিকে গাড়িচালকদের উচিত বিশেষ বিশেষ স্থানে ধীরগতিতে গাড়ি চালানো; যেমন—রাস্তার মোড়গুলোতে, স্কুল-কলেজের সামনে বা হাসপাতালের সামনে। এ ছাড়া মোটর বাইকগুলো যখন-তখন অন্যান্য যানবাহনের সামনে চলে আসে, যত আগে যেতে পারে এটাই থাকে তাদের চেষ্টা, এতেও অনেক অঘটন ঘটে। এ জন্য শাস্তির বিধান থাকতে হবে। লাইসেন্সবিহীন চালক বা অদক্ষ চালকরা যেন কখনো গাড়ি না চালায়।

ফোরকান আক্তার চৌধুরী

আরজতপাড়া, তেজগাঁও, ঢাকা।

 

► প্রতিদিন দৈনিক পত্রিকা মেললেই চোখে পড়ছে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের খবর। শুধু যে তাদের জীবন অকালে ঝরে যাচ্ছে তা নয়, ভেঙে যাচ্ছে তাদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষের স্বপ্নও। এটা যেন ষড়ঋতুর দেশের প্রাকৃতিক নিয়ম। যারা সড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে রয়েছে, তাদের কেউ তো চাঁদা তুলে অবৈধকে বৈধ করছে, ঘুষ নিয়ে আইন ভঙ্গকারীকে ছেড়ে দিচ্ছে, আবার একজন ট্রাফিক পুলিশ তো উল্টোপথে বাইক চালাতে বাধা দেওয়ায় সরকারি কর্মকর্তার হাতে মারও খায়। টানা এক সপ্তাহ রোদে পুড়ে আন্দোলন, ট্রাফিক পুলিশ সপ্তাহ পালন করেও দৃশ্যমান কোনো ফলাফল হলো না। তবে সময় এখন কিছু করে দেখানোর। পরিকল্পনাগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার। অন্য দেশগুলো যেখানে দ্রুতগতির ম্যাগনেট ট্রেন, হাইপারপুল, আন্ডারগ্রাউন্ড, মানব বহনযোগ্য ড্রোন নিয়ে গবেষণা করছে, আমরা সেখানে দুর্ঘটনায় আহতদের উন্নত চিকিৎসাসেবাও দিতে পারছি না। এখনই ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

দিদার মাহমুদ উৎস

ঢাকা।

 

► সড়ক দুর্ঘটনায় অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধে করণীয় নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে, সিদ্ধান্তও হয়েছে। আমরা আর গবেষণায় থাকতে চাই না। চাই সরকারি কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পদক্ষেপ। গত কিছুদিন আগে ঢাকার কুর্মিটোলায় বেপরোয়া গাড়ি চালকের কারণে ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে সারা দেশে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীরা রাস্তায় নেমে পড়ে এবং গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষাসহ যানজট নিরসনে নিজেরাই সুন্দরভাবে সামাজিক দায়িত্ব পালন করে। ওই ড্রাইভারের গ্রেপ্তার ও আন্দোলনে সরকার গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণ ও হত্যার কারণে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো বাস্তব কোনো পদক্ষেপ দেখাতে পারেনি। এতে দেশবাসী হতাশ হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন বেপরোয়া গাড়ি চালনার কারণে ১০-১২ জনের মৃত্যু হচ্ছে। সারা দেশে একই অবস্থা বিরাজ করছে। এতে ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক মহল তথা দেশবাসী চরম ভীতির মধ্যে দিনাতিপাত করছে। জনগণের জান-মাল নিরাপত্তার বিষয়টি সংবিধান স্বীকৃত। পথচারী হত্যার জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান বাস্তবায়ন ও গাড়িচালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা একান্ত প্রয়োজন।

মুহা. আব্দুল হান্নান

মানপুর, লাখাই, হবিগঞ্জ।

 

► বিআরটিএ, ট্রাফিক ও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা যদি বিবেচনায় পরিশুদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করেন, তবে অবশ্যই সড়কে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে। বাদবাকি যাত্রী, পথচারী এবং পরিবহন শ্রমিকরা যদি সচেতন হয়, তাহলে সড়কে অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের সঠিক প্রশিক্ষণ দিতে হবে। অতি দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো, ওভারটেক করলে প্রয়োজনে ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিলসহ কঠিন শাস্তির বিধান করতে হবে। সড়ক-মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। ওভারস্পিড, ওভারটেকিং, যান্ত্রিক ও রাস্তার ত্রুটি সারাতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস না পাওয়ার পেছনে রয়েছে চালকের লাইসেন্স প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে যানবাহনের ফিটনেস সনদ, গাড়ির অনুমোদন, সড়কের ত্রুটি, সঠিক তদারকির অভাবসহ সব ক্ষেত্রেই গলদ। এসব ক্ষেত্রে কেন গলদ তা সরকারকে খতিয়ে দেখতে হবে এবং দুর্নীতি বা দুর্বলতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

এম আনিসুর রহমান

শেখেরখিল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।

 

► সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন মৃত্যু সংবাদে আমরা আতঙ্কিত। এ ব্যাপারে করণীয় কী—সরকারকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ছাত্র-ছাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব একমাত্র সরকারের। পুলিশের ট্রাফিক বিভাগকে ঢেলে সাজাতে হবে, হাইওয়ে পুলিশের জনবল ও সুযোগ-সুবিধা আরো বাড়াতে হবে। পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। আমরা ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিদিন জীবন বাজি রেখে নিজ নিজ বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করি। তটস্থ অবস্থায় আমাদের লেখাপড়া করতে হয়। আমরা স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তা চাই।

সুলতানা জাহান রুমি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 

► আন্তজেলা মহাসড়কগুলোতে বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, যেখানে যানবাহন খুব দ্রুতবেগে চলাচল করে। সড়কগুলো বেশ চওড়া নয় এবং কোনো ডিভাইডার নেই। ফলে প্রায়ই মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়েও দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকার বাইরে অসংখ্য পুরনো ও ফিটনেসহীন গাড়ি চলছে, যেগুলো দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। মহাসড়ক হতে হবে যুগোপযোগী, টেকসই; উন্নতমানের যান চলাচলের উপযোগী। কিন্তু আমাদের দেশে বেশির ভাগ রাস্তা জোড়াতালি দিয়ে তৈরি করার ছয় মাসের মধ্যেই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে। যেকোনো ধরনের সড়ক নির্মাণে যত্নবান হতে হবে। সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারের নজরদারি আরো বাড়ানো প্রয়োজন। বেশির ভাগ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী অদক্ষ চালক। দুর্ঘটনার পরও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। আবার চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার মতো অবকাঠামো নেই। ট্রাফিক সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন প্রয়োজন। গতি পরিমাপক, ওজন পরিমাপক, জিপিএস প্রযুক্তি ইত্যাদির ব্যবহার আবশ্যক হয়ে পড়েছে। সড়কপথের বিকল্প হিসেবে রেলপথ ও নৌপথ এবং সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ, জামালপুর।

 

► চালকের লাইসেন্স ঠিক আছে কি না এবং তা সঠিক কি না ভালোভাবে যাচাই করে দেখতে হবে। চালকই যেন গাড়ি চালায়, হেলপার বা সহকারী নয়—এটা নিশ্চিত করতে হবে।

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

► সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে যা করণীয় : অতিরিক্ত যাত্রী তোলা যাবে না, ভুয়া লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ করতে হবে, মেয়াদহীন বা ফিটনেসহীন গাড়ি রাস্তায় চলতে দেওয়া যাবে না। প্রচারের বিভিন্ন মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী মুন্সীগঞ্জ।

 

► দেশের কোথাও না কোথাও প্রত্যহ ঘটছে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। পরিবার, সমাজ ও দেশ হারাচ্ছে অনেক সম্ভাবনাময় ব্যক্তিকে। সড়ক দুর্ঘটনায় মায়ের কোল যেমন খালি হচ্ছে, তেমনি দেশ ও জাতি ভবিষ্যৎ কর্ণধারদের অনেককেও হারাচ্ছে। সড়কে নিরাপত্তার দাবিতে বহু দিন ধরে আন্দোলন চলছে। কিছুদিন আগে ঢাকার এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশ তোলপাড় হয়েছে নিরাপদ সড়ক দাবির আন্দোলনে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ট্রাফিক সপ্তাহ হয়। কিন্তু বাস্তব চিত্রে বদল ঘটে না। এমন পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যায় না। আমরা যদি একটু সচেতন ও সতর্ক হই, তবে দুর্ঘটনার হার আমরা নিজেরাই কমাতে পারি। অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানো যাবে না; চালককে সাবধানে গাড়ি চালাতে হবে; পথচারীদের ফুটপাত দিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চলতে হবে এবং প্রশাসনের উচিত সড়কের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

ইলিয়াছ হোসেন

খটখটিয়া, পরশুরাম, রংপুর।

 

► সরকারি-বেসরকারিভাবে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। সড়ক দুর্ঘটনার কারণ অদক্ষ চালক দিয়ে গাড়ি চালানো, মাত্রাতিরিক্ত গতি, সংকীর্ণ রাস্তায় ওভারটেকিং, সড়কের ও যন্ত্রের ত্রুটি এবং পথচারীদের অসচেতনতা। দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হচ্ছে প্রতিদিন। এশিয়া মহাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। দুর্ঘটনা রোধে চালক ও  জনগণের সচেতন হওয়া জরুরি। অদক্ষ চালকের সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না। বিআরটিএর অব্যবস্থাপনা এ জন্য দায়ী। যানবাহনের ফিটনেস না থাকার ফলেও অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। বিআরটিএ থেকে ফিটনেস নিবন্ধনের জন্য নিয়ম মানা হয় না। সড়ক অব্যবস্থাপনাও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। সড়কের যেখানে যা প্রয়োজন তা সঠিকভাবে করা হয় না। ফুটপাতজুড়ে দোকানপাট, এ কারণে ফুটপাত ছেড়ে সড়ক দিয়ে হেঁটে যায় মানুষ। আইনের সঠিক ব্যবহারে ঘাটতি ছাড়াও সচেতনতার অভাব রয়েছে।  অনেক ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাজনৈতিক প্রভাবে রাস্তায় নামছে। এসব সমস্যার সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

মুহসিন মুন্সী

দৌলতপুর, খুলনা।

 

► সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেই চলছে। কঠিন আইন নেই বলে দায়ী চালকদের বিচার হয় না। জনগণের বহু দিনের দাবি নিরাপদ সড়ক চাই। দায়ী চালকদের ব্যাপারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চার্জশিট প্রদান ও সাত দিনের মধ্যে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার ব্যবস্থা হলে জনগণ খুশি হবে। তারা পাবে নিরাপদ সড়ক।  চালকরাও সচেতন হবে। ফেসবুকে বলাবলি হচ্ছে, কোনো কোনো মন্ত্রীর ড্রাইভারের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। এটা লজ্জাজনক ব্যাপার নয় কি? যাঁরা সংসদে বসে আইন পাস করবেন তাঁদের ড্রাইভারের লাইসেন্স যদি না থাকে তাহলে তাঁদের কাছ থেকে জাতি কী আশা করতে পারে? তারা সড়কে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে মানুষ হত্যা করে যাবে, জনগণ তা আর দেখতে চায় না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন, রুট পারমিটবিহীন যান চলতে দেওয়া হবে না।

লিয়াকত হোসেন খোকন

রূপনগর, ঢাকা।

 

► চালকদের প্রশিক্ষণ, জনসচেতনতা, মালিক ও শ্রমিক ঐক্যবদ্ধ কমিটি এবং নতুন সিদ্ধান্ত জরুরি। আর জরুরিভাবে সড়ক সংস্কার করতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলে কথা বলা বন্ধ করতে হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।



মন্তব্য