kalerkantho


সংসদ সদস্যদের জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



►নতুন সংসদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। এর মধ্যে অন্যতম হলো দুর্নীতির মূলোৎপাটন করা। এরই মধ্যে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন দুর্নীতির মূলোৎপাটনে জিরো টলারেন্স দেখাবেন। দুদককে এ ব্যাপারে দিকনিদের্শনাও দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক সংসদ সদস্য নিজেরা দুর্নীতিমুক্ত থাকবেন এবং সরকারকে দুর্নীতি প্রতিরোধে আপাদমস্তক সহযোগিতা করবেন—দেশবাসী তাই আশা করে। প্রতিটি সংসদীয় এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, নতুন নতুন ও বিকল্প রাস্তা তৈরি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে গুরুত্বসহকারে কাজ করে যাবেন বর্তমান সংসদ সদস্যরা। এটা সবার নৈতিক দায়িত্ব। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন ও অব্যাহত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নতুন সরকারকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন ও আন্তরিক হতে হবে। মানবাধিকার এবং সমাজের সর্বস্তরে প্রত্যক্ষ জনসম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন এখন বর্তমান সংসদের প্রধান কাজ। সংসদে বিরোধী দলকে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরার জন্য সমান সুযোগ দিতে হবে। আইনপ্রণেতা হিসেবে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে যাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের ওপর গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়। সমালোচনা সহ্য করতে হবে। বিরোধী দলের সমালোচনায় বাধা দেওয়া হবে না বলে সংসদ নেত্রী যে ঘোষণা দিয়েছেন তার বাস্তবতায় প্রমাণ দেখতে চায় দেশবাসী। তাহলেই শুধু সংসদ অধিকতর কার্যকর হবে। এ সংসদে যুদ্ধাপরাধী ও স্বাধীনতাবিরোধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের আইন করার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। এটা নতুন প্রজন্মের প্রাণের দাবি। তা বাস্তবায়নে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে হবে। সংসদে যাঁরা স্বতন্ত্র সদস্য আছেন, তাঁদেরও কথা বলা ও কাজ করার সুষ্ঠু পরিবেশ দিতে হবে। দল-মত-পথের পার্থক্য ভুলে জাতির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ত্বরান্বিত করার একমাত্র পথই হলো সংসদ। বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ একটি সফল সরকারের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে বলে আমরা আশা করি। সংসদ সদস্যদের জবাবদিহির বিষয়ে বর্তমান সংসদকে আইন প্রণয়ন করে দেশ ও জাতির স্বার্থে সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে হবে, নতুবা দেশবাসীর স্বপ্ন ভঙ্গ হবে এবং এর জন্য একদিন কঠিন পরিণতির শিকার হতে হবে।

মোহা. আব্দুল হান্নান

মানপুর, লাখাই, হবিগঞ্জ।



মন্তব্য