kalerkantho


সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চাই আইনের কঠোর প্রয়োগ

১৯ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চাই আইনের কঠোর প্রয়োগ

ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অভিযান শুরু করেছে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কজুড়েই রয়েছে বিশৃঙ্খলা। নিয়ম মানে না গণপরিবহন। প্রতিদিন ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়ক-মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। অদক্ষ, লাইসেন্সবিহীন চালকদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে গণপরিবহন। এ অবস্থায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে করণীয় কী, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল কালের কণ্ঠ’র পাঠকদের কাছে। টেলিফোন ও ই-মেইলে পাওয়া মতামত এখানে তুলে ধরা হলো

 

► বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই চালকের অদক্ষতা, অবহেলা, বেপরোয়া গতি, যানবাহনের ত্রুটি, সড়ক-মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি, যাত্রী ও পথচারীদের অসচেতনতা সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। এ ছাড়া সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব যাদের ওপর অর্থাৎ বিআরটিএ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মালিক-শ্রমিক, দীর্ঘদিন ধরেই তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করছে না। শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সব পক্ষকেই জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

বিপ্লব বিশ্বাস

ফরিদপুর। 

 

► জীবনের তাগিদে মানুষকে ঘরের বাইরে বের হতেই হয়। যানবাহনই মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। বর্তমানে কোনো বাহনই নিরাপদ নয়। পত্রিকায় চোখ রাখলেই দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়। বিশেষ করে সড়কপথের দুর্ঘটনা মানুষকে ভীষণভাবে চিন্তিত করছে। প্রতিদিনই অহরহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। যে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে অসংখ্য তাজা প্রাণ। অনাকাঙ্ক্ষিত এই দুর্ঘটনার অনেক কারণের মধ্যে চালকের বেপরোয়া গতি ও খারাপ রাস্তা দুর্ঘটনা বাড়িয়ে দিচ্ছে। রাস্তায় গাড়ির বেপরোয়া গতি মানুষকে আতঙ্কিত করছে। এতে যেমন হারাচ্ছে তাজা প্রাণ, তেমনি হারাচ্ছে দেশের সুনাম। দেশের একেকটি প্রাণ একেকটি সম্পদ। দেশ উন্নয়নের হাতিয়ার। এভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় আর কোনো প্রাণকে হারাতে চাই না। দুর্ঘটনা এড়াতে হলে সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি চালকের প্রতি তীক্ষ দৃষ্টি দিতে হবে।

মো. আজিনুর রহমান লিমন

আছানধনী মিয়াপাড়া, ডিমলা, নীলফামারী।

 

► মানুষ বাড়ছে। বেদখল হওয়া সরকারি জায়গা উদ্ধার করে রাস্তা প্রশস্ত করতে হবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে গণসচেতনতা, কর্তৃপক্ষের বিশেষ ভূমিকা ও আন্তরিক মনোভাব জরুরি। গার্মেন্ট, কারখানা এবং লোকবল বেশি—এমন প্রতিষ্ঠানগুলো মূল শহর থেকে দূরে সরিয়ে নিতে হবে। এতে কাজ হবে মনে করি।

আবদুর রাজ্জাক ভূঁইয়া

শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ।

 

► সড়কে শৃঙ্খলা নেই। যানজট অহরহ লেগেই থাকে। ওভারব্রিজ আছে; কিন্তু এটার কোনো ব্যবহার নেই। এসবের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পথচারীদের ওভারব্রিজ ব্যবহারের সুবিধা জানাতে হবে। প্রয়োজনে জরিমানা করতে হবে। ফুটপাতে হকার বসে। তারা সড়কের শৃঙ্খলা নষ্ট করে। তাদের উচ্ছেদ করে নির্দিষ্ট স্থানে বসার ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না, সবার সদিচ্ছা এবং মনোবৃত্তি থাকতে হবে।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

► সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। আইন মানতে প্রশাসনকে বিশেষ ভূমিকা নিতে হবে বলে মনে করি।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► সবার আগে নিয়ম মানতে অভ্যস্ত হতে হবে। যাঁরা নিয়ম তৈরি করেন, তাঁদেরই প্রথমে নিয়ম মানার অভ্যাস জরুরি।

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

► মহাসড়কের রাস্তা চার লেনে উন্নীত করতে হবে। যেকোনো মূল্যে আইন মানার সংস্কৃতি চালু করতে হবে। উল্টো পথে কোনোভাবেই গাড়ি চালাতে দেওয়া যাবে না। গাড়ি চালানোর সময় ফোন ব্যবহার করা যাবে না। সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলতে হবে। অনুমতিহীন গাড়ি বন্ধ করতে হবে। চালকদের প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।

 

► শুধু অভিযান পরিচালনা করে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো যাবে না, কারণ দেশে আইন-শৃঙ্খলা অনেকে মানে না। তবে বেপরোয়া গাড়ি চালানোর জন্য কঠোর আইন করা উচিত।

ফোরকান আক্তার চৌধুরী

আড়জতপাড়া, তেজগাঁও, ঢাকা।

 

► শুধু আইন করে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো যাবে না। এ জন্য প্রয়োজন ট্রাফিক আইন সম্পর্কে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। মানুষকে রাস্তা পারাপারে ফুট ওভারব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারে অভ্যস্ত করতে হবে। ট্রাফিক আইন কঠোর করতে হবে। অকেজো ও অদক্ষ চালক ও গাড়ি বাদ দিতে হবে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালককে আইনের আওতায় আনতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, মুন্সীগঞ্জ।

 

► প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রতিষ্ঠান থাকা দরকার। যাতে চালক ও তার সহকারীরা সড়কে নিয়ম ও শৃঙ্খলা সম্পর্কে জানতে পারে। বিআরটিএ, ট্রাফিক এবং মন্ত্রণালয়ের কর্তারা যদি পরিশুদ্ধ হন, তাহলে সড়কে ৭৫ শতাংশ শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। বাকিটুকু যাত্রী ও পথচারীদের সচেতনতাই ফিরিয়ে আনতে পারবে।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► আমি মনে করি, সড়ক বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী বিষয়গুলো হচ্ছে চালকদের অসাবধানতা ও অদক্ষতা, ত্রুতিপূর্ণ যানবাহন, রাস্তার স্বল্পতা ও অপ্রস্ততা, প্রয়োজনীয়সংখ্যক ট্রাফিক পুলিশের অভাব, প্রয়োজনীয় ডিভাইডার না থাকা, ওভারব্রিজের স্বল্পতা, মাত্রাতিরিক্ত রিকশা ও ভ্যান তথা অযান্ত্রিক যানবাহন, সড়ক পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মচারীদের দুর্নীতি ইত্যাদি। বাংলাদেশে জনসংখ্যা যে হারে বাড়ছে, সেই হারে বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা। কিন্তু বাড়ছে না দেশের আয়তন ও রাস্তাঘাট। যার কারণে বাড়ছে যানজট। আবার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, আইন না মেনে চলা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুপস্থিতিতে আমরা আইন মানতে চাই না। সাধারণ মানুষ আইন মেনে চললে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো অনেক সহজ হতো।

মো. মিজানুর রহমান

পাংগা, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম।

 

► দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি যেন একটি  নিত্যনৈমিত্তিক ও স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন কোনো দিন নেই যেদিন দেশের কোথাও দুর্ঘটনা ঘটছে না। সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলছে। বাড়ি থেকে বের হলে আর ফেরার নিশ্চয়তা নেই। বুক খালি হচ্ছে অনেক মায়ের। পরিবারগুলো হারাচ্ছে তাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে। এ অবস্থা কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যায় না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বেপরোয়া গাড়ি চালনা বন্ধ করতে হবে। অবৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বন্ধ করে বৈধ চালককে লাইসেন্স দিতে হবে। দক্ষ চালক তৈরি করতে প্রতি উপজেলায় ড্রাইভিং প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু করতে হবে। সড়ক-মহাসড়কে সভা-সমাবেশ করা যাবে না, মহাসড়কে হাট-বাজার বসানো বন্ধ করতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। পথচারীদের সচেতন করতে হবে। রাস্তা পারপারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন প্রয়োগে কঠোর হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক হ্রাস পাবে বলে আমার বিশ্বাস।

মো. ইলিয়াছ হোসেন

মধ্য খটখটিয়া, রংপুর।

 

► অদক্ষ, আধা দক্ষ, মেজাজি, নেশাখোর, মাদক পরিবহনকারী, আনাড়ি ও দায়িত্বহীনদের খুঁজে বের করে লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। ট্রাফিক আইন মেনে চলতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প দেখি না। সড়কে এত বিপুল সংখ্যক তরতাজা প্রাণ প্রতিনিয়ত হারাতে প্রস্তুত নয় মানুষ। জনপ্রতিনিধিত্বকারীরা অনুভব করে ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

► শুধু অভিযান পরিচালনা করে সড়কের শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব নয়। বাস্তবায়নমুখী নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে। যেটা হতে হবে সচেতনতামূলক বহুমুখী কর্মকাণ্ড ও ত্রুটিমুক্ত অভিযান। অযথা হয়রানি বন্ধ করতে হবে। যথাযথ আইন প্রয়োগে অপরাধের ভিত্তিতে সবার সমশাস্তি নিশ্চিতকরণ ও তাদের বোঝাতে হবে বিশৃঙ্খলা যেমন দেশের ক্ষতি, তেমন তারও ক্ষতি অনিবার্য, এটি কাম্য নয়। সচেতন নাগরিক হিসেবে  সবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।

সোলেমান আহমেদ

জকিগঞ্জ, সিলেট।

 

► শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীরা বেশ কিছুদিন আগে আমাদের রাজপথ কাঁপিয়ে দিয়েছিল। তারা নিরাপদ সড়কের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল। তারা মন্ত্রী-পুলিশের গাড়ি আটকে লাইসেন্স-ফিটনেস পরীক্ষা করতেও ভয় পায়নি! এখন প্রশ্ন হলো—এ অবস্থাদৃষ্টে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। এ জন্য প্রচলিত আইন মেনে দ্রুত প্রয়োজনীয় নীতি তৈরি ও বাস্তবায়ন করা জরুরি। প্রয়োজন একটি সুষ্ঠু শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। প্রয়োজন আধুনিক সিগন্যাল ও বাসগুলোতে সিরিয়াল নম্বর টাঙানো।

বিলকিছ আক্তার

সরকারি ম্যাটস ও ট্রেনিং স্কুল, টাঙ্গাইল।

 

► ট্রাফিক বিভাগের উন্নত প্রশিক্ষণ ও লোকবল বাড়াতে হবে। সড়ক প্রশস্ত করতে হবে। সড়কে ছোট গাড়ি কমিয়ে বড় গাড়ি বাড়াতে হবে। পরামর্শকদেরও প্রশিক্ষণ জরুরি। মানুষকে সচেতন করতে হবে এবং আইন মানতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সর্বোপরি সরকারের সদিচ্ছা দরকার।

আবদুল খালেক

দাসপাড়া, নরসিংদী।

 

► গণপরিবহন-সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নামে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সরকারের পূর্ণ কর্তৃত্বের মধ্যে আনতে হবে। কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। স্বল্প যাত্রার পথে গাড়ির হেলপারদের অমানবিক আচরণ যাত্রীসাধারণকে নীরবে হজম করতে হয়। বাস শ্রমিকরা অনেক সময় বাস টার্মিনালে বা পথিমধ্যে একতাবদ্ধ হয়ে যাত্রীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।  অনিয়ন্ত্রিত, স্বেচ্ছাচারী ঘটনা প্রতিদিন ঘটে চলেছে। সাধারণ মানুষ রাস্তা পারাপারে শৃঙ্খলা মেনে চলে না। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ না নিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স যেন কোনো অবস্থায়ই অনভিজ্ঞ চালকের হাতে তুলে দেওয়া না হয়, সে ব্যাপারে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই, এটা সত্য। আবার সব দুর্ঘটনাই দুর্ঘটনা নয়। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সব পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

► আমাদের দেশে ট্রাফিক অভিযান কিংবা ট্রাফিক সপ্তাহসহ যেকোনো দিবস উদ্‌যাপন আনুষ্ঠানিকতায় পর্যবসিত হয়েছে। ফলে এর থেকে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ বাতুলতা মাত্র। যদি নিতান্তই অভিযান পরিচালনা করতে হয়, ঢাকার দক্ষিণে সদরঘাটকে ধরে উত্তরে মহাখালী পর্যন্ত প্রতিটি লেন-বাইলেন, ফুটপাত, সদর রাস্তাসহ সদরঘাট, চকবাবাজার, ইসলামপুর, গুলিস্তান, বঙ্গবাজার, মতিঝিল, পল্টন, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, নিউ মার্কেট, আজিমপুর, ফার্মগেট, মহাখালী এলাকাসহ রাস্তার সব শাখা-প্রশাখায় স্কাউটস, বিএনসিসি, লিও, বিভিন্ন এনজিও ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নিবেদিতকর্মী ও সদস্য এবং পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সদস্য ও কর্মকর্তাদের নিয়ে কোনো অবস্থায়ই বার্ষিক নয়; বরং প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর অভিযান পরিচালনা করলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসতে বাধ্য।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

► নো হেলমেট, নো ফুয়েল একটি চমৎকার ব্যবস্থা। এর প্রয়োগে মোটরসাইকেল অরোহীরা হেলমেট ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। এভাবে যদি প্রতিটি জ্বালানি স্টেশনে সব গাড়ির জন্য নো লাইসেন্স, নো ফুয়েল চালু করা হয়, তাহলে রাস্তায় কোনো লাইসেন্সবিহীন চালক ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি থাকবে না। রাস্তাগুলো গাড়ির সংখ্যার তুলনায় তুলনামূলক ছোট। রাস্তাগুলো আরো ছোট হয়ে যায় পার্কিংয়ের জন্য। পার্কিং ছাড়া শপিং সেন্টার, ভবন, দোকানের অনুমতি দেওয়া বন্ধ করতে হবে। মনে রাখতে হবে যে ট্রাফিক পুলিশ যদি অসাধু হয়, তাহলে কখনো সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে না। চট্টগ্রামসহ অনেক শহরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ২৫ বছরের পুরনো টেম্পো, টমটম ও রিকশা। শহরজুড়ে ছোট যানের রাজত্ব। এসব ছোট যানের কারণে একদিকে মানুষের সময় ও অর্থ বেশি অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বাড়ছে। তা ছাড়া জনবহুল সড়কগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে নিয়ম ভঙ্গকারীকে জরিমানা ও শাস্তির আওতায় আনলে আশা করি সড়কে শৃঙ্খলা শতভাগ ফিরে আসবে।

মোহাম্মদ নূর উদ্দীন

কাটিরহাট, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

 

► যেকোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাই হোক তাঁদের নিয়ম মানতে বাধ্য করতে হবে। বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর জন্য কিংবা আমাদের শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্যই দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা বাদে অন্যান্য শহরেও নিয়ম ছাড়া ফুটপাতে অস্থায়ী দোকান দিচ্ছে কিছু নেতা প্রভাব খাটিয়ে। এগুলো উচ্ছেদের ব্যবস্থা নিলে ফুটপাত চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে। আর যেখানে-সেখানে অপরিকল্পিতভাবে গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা করা হচ্ছে দুর্ভোগের কারণ। এসব অপরিকল্পিত ব্যবস্থার কারণে সড়ক বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ছে।

মুহসিন মুন্সী

দৌলতপুর, খুলনা।

 

► শুধু আইন করে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হবে না। এ জন্য দরকার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। ছোট ও অবৈধ গাড়ি নিষিদ্ধ করতে হবে। মানুষকে নিয়ম মানার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে হবে। আইন অমান্যকারীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।

কুমারেশ চন্দ্র

বাস শ্রমিক, ঝিনাইদহ।

 

► সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অদক্ষ, অপরিণত বয়সের চালককে রুখতে হবে। নেশাখোর ও অনৈতিক মনোভাবের গোষ্ঠীকে আগে বাগে আনতে হবে। ছয় মাস পর পর ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করতে হবে। ড্রাইভিং লাইসেন্সের ব্যাপারে শক্ত অবস্থানে যেতে হবে। নৈতিক শিক্ষা খুব বেশি প্রয়োজন এবং অপরাধের দ্রুত বিচার হতে হবে। অপরাধ বিবেচনায় বিচার দ্রুত হতে হবে। রাস্তা পারাপার ও চলায় এয়ারফোন ব্যবহার বন্ধ, ড্রাইভিং করার সময় মোবাইল ফোন চালানো বন্ধ এবং দৌড়ে গাড়িতে ওঠানামা বন্ধ করতে হবে।

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অভিযান চালানোর পাশাপাশি সড়কের পথচারীদের সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে বেপরোয়া গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে। গাড়ির চালককেও এ বিষয়টির প্রতি সচেতন থাকতে হবে। নাগরিকদের দায়িত্ববান হতে হবে এবং সবার সহযোগিতাও জরুরি।

মো. তারিফ হাসান

কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী।

 

► চালকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা  জাগ্রত হওয়া জরুরি। তারা ঠাণ্ডা মাথায় দেখেশুনে যানবাহন চালালে দুর্ঘটনা জিরোতে নিয়ে আসা সম্ভব। যানবাহন চালক এবং যাত্রী, পথচারী—সবার মধ্যে সচেতনতা এলেই সড়কে ফিরবে শৃঙ্খলা।

লিয়াকত হোসেন খোকন

রূপনগর, ঢাকা।

 

► মালিক, চালক ও শ্রমিকদের পাশাপাশি যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যেও বেপরোয়া মনোভাব লক্ষ করা যায়। আইন ও নিয়ম-নীতি অমান্য করার এই সংস্কৃতি থেকে সব পক্ষকেই বিরত থাকতে হবে। এ ছাড়া জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সারা দেশে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে এবং দেশের গণমাধ্যমকেও এ ব্যাপারে দায়িত্ব নিতে হবে। সরকার সমস্যা সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

নীলিমা সেন

ঢাকা।

 

►সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা যদি সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকেন এবং আন্তরিক হন, তাহলে শুধু সড়কে নয়, দেশের সব ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরতে সময় লাগবে মাত্র ২৪ ঘণ্টা।

শহিদুল মোড়ল

ইলিয়ান, দাকোপ, খুলনা।



মন্তব্য