kalerkantho


সুষ্ঠু নির্বাচনের দায়িত্ব সব অংশীজনের

১০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সুষ্ঠু নির্বাচনের দায়িত্ব সব অংশীজনের

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা বছরখানেক আগেই গণসংযোগ শুরু করেছেন। বিএনপি নেতারাও সক্রিয়—শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে তাঁরা অংশ নেবেন কি না সেটা দলীয় ও জোটগত সিদ্ধান্তের বিষয়। তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থীদের গণসংযোগ আনুষ্ঠানিক হতে যাচ্ছে। তবে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে জনমনে সংশয় রয়েছে। বিরোধী দল বা জোটও বিকল্প দেখাতে পারছে না। সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিরোধী দল ও তাদের পক্ষের লোকদের জন্য স্বস্তিদায়ক। তবে নির্বাচনে না গেলে এমন স্বস্তি পাওয়ায় লাভ নেই। এখন নির্বাচন কমিশনসহ সব অংশীজনের দায়িত্ব নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। টেলিফোনে ও ই-মেইলে কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা এ অভিমত জানিয়েছেন

 

► নির্বাচনী তফসিল ঘোষিত হয়েছে। যেকোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনে পরাজিত হলে গোটা নির্বাচনব্যবস্থাকেই অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করা ঠিক হবে না। নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সহিষ্ণু হতে হবে। অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে হলে তার পূর্বশর্তগুলো সরকার ও বিরোধী দল উভয়কে মেনে চলতে হবে। সমঝোতা ছাড়া গণতন্ত্র সুনিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নির্বাচনের সবটাই তো নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নয়। কমিশনকে কার্যকর করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল উভয়কে সমঝোতার ভিত্তিতেই তা করতে হবে।

বিলকিছ আক্তার

হরিশ্বর, কাউনিয়া, রংপুর।

 

► দেশের জনসাধারণ চায় সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সুষ্ঠু নির্বাচন বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজন প্রতিটি নির্বাচনী এলাকাকে শৃঙ্খলাপূর্ণ ও জনসাধারণের জন্য সুগম করা। প্রত্যেক নির্বাচনকর্মীকে তাঁদের দক্ষতা, নিরপেক্ষতা দিয়ে দায়িত্ব পালন করা। পরিমিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োগ দেওয়া ও তাদের নিরপেক্ষতা, দক্ষতা, একাগ্রতার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করা। সব ধরনের বিশৃঙ্খলা ও নাশকতা রোধ এবং দেশের সব নাগরিকের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। অপরপক্ষে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক দলগুলোর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো একে অন্যের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধমূলক আচরণ না করা বরং রাজনৈতিক আচরণ করা। নির্বাচনের সব কার্যক্রম ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে হবে সাংবিধানিকভাবে। সব মিলিয়ে দেশের জনসাধারণের একটাই আশা, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও সফল হোক।

মুহম্মদ সাজ্জাদ হোসেন

হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

 

► স্বাধীনতার পর থেকে ১০টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে বাংলাদেশে। এখন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুরুর পথে। জনগণের কৌতূহলের শেষ নেই আসন্ন নির্বাচন সম্পর্কে। বিভিন্ন সময় নির্বাচনব্যবস্থার পরিবর্তন আনা হলেও জাতির কাঙ্ক্ষিত স্বচ্ছ নির্বাচন হয়েছে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ। স্বচ্ছতার প্রশ্নে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচন বর্জন করার ইতিহাস বাঙালিরা প্রত্যক্ষ করেছে একাধিকবার। নির্বাচনব্যবস্থার অসংগতি, অস্বচ্ছতা, পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণকে দোষারোপ করেছে বিগত নির্বাচনে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে হলে অবশ্যই সব দলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ একান্ত কাম্য। জনগণেরও চাওয়া সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে স্বচ্ছ, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। এর জন্য প্রয়োজন সব রাজনৈতিক দলের সরকারকে সহায়তা করার মতো মনোভাব সৃষ্টি করা। সরকারকেও নিশ্চিত করতে হবে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যেন সংকুচিত না হয়। পাশাপাশি নির্বাচনকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও তৎপর থাকতে হবে। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক, এটাই প্রত্যাশা।

হাবিবুর রনি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।

 

► নির্বাচন এলেই একদিকে আন্দোলন, অন্যদিকে নির্বাচনের চ্যালেঞ্জে দেশ যেন একটা অস্থির সময় পার করে। এমন হওয়াটা সত্যিই খুব দুর্ভাগ্যের। নির্বাচন আসবে এবং সবাই যার যার ইশতেহার প্রকাশ করবে, দেশের জন্য পরিকল্পনা করবে, সংসদ নিয়ে থাকবে আলোচনা আর থাকবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়। রাজনীতি মানেই দেশকে সামনে নিয়ে আসা, মানুষের জন্য কথা বলা। ক্ষমতা বিষয়টির চেয়েও এখানে গুরুত্বপূর্ণ হলো সবার সংসদে কথা বলার ব্যাপারটি সামনে নিয়ে আসা। যখন কোনো সরকার নির্বাচিত হয়, তখন যারা বিরোধী থাকে, তারা সরকারের ভালো-মন্দ নিয়ে আলোচনা করতে পারে। কিন্তু এখনো আমাদের দেশে কারা নির্বাচনে যাবে আর কারা যাবে না, এই সিদ্ধান্তগুলো নিয়েই বারবার আলোচনা করে। এতে বিঘ্ন হয় সামনের দিনগুলোতে করণীয় ঠিক করা নিয়ে, ঢাকা পড়ে যায় সঠিক উদ্দেশ্য। এখন সময় এসেছে পরিবর্তনের। সবাই মিলে দেশের জন্য ভেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন এবং একটি গতিশীল সংসদ উপহার দিন। তারিখ ঘোষণার পর এখন আমরা আশা করছি সবার অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রত্যেকের অংশগ্রহণই মুখ্য সব হতাশা কেটে যাওয়া এবং নির্বাচন সুন্দর হওয়া।

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► ‘বিচার মানি, তবে তালগাছ আমার, সংলাপ হবে, তবে দেব না ছাড়।’ সংলাপে কাজ না হলেও ঠিকই আগামী ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রথমত নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে নির্বাচন করার সুযোগ না দেওয়া। ঝুঁকিপূর্ণ সেন্টারসহ সব বিষয়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা, কালো টাকার খেলা যেন না হয়, সেদিকে নজর রাখা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি নিরপেক্ষভাবে কাজ করে এবং অপশক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, তাহলে জনগণ তাদের পছন্দের প্রতীকে ভোট দিতে পারবে এবং ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরে পাবে।

মোহাম্মদ নূর উদ্দীন

হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

 

► প্রধান নির্বাচন কমিশনার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন। এরই মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে আরো বেশি শক্তিশালী ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে দূরে থাকতে হবে। গত মৌসুমে জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে পারেনি। আর যাতে সেই ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেটিই রাজনৈতিক দলের কাছে আমাদের চাওয়া। তাই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর থাকতে হবে। একজনের ভোট যেন আরেকজন দিতে না পারে। আমার ভোট আমি দেব, যোগ্য প্রার্থীকে দেখে দেব।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ, জামালপুর।

 

► নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে নির্বাচন কমিশনকে আজ্ঞাবাহী হলে চলবে না। সব দলকে সমান সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। এরই মধ্যে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আর দৃঢ়চিত্তে সরকারের মন্ত্রী ও এমপিদের ব্যাপারে সতর্কতা জারি করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা পাওয়া যায়নি। তাঁরা যাতে নিজ এলাকায় পতাকাসংবলিত গাড়ি, সরকারি প্রটোকল, গেস্ট হাউস সুবিধা না পান, প্রশাসনকে ব্যবহার করতে না পারেন, তার ঘোষণা দরকার ছিল। নির্বাচন কমিশন কঠোর হলে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের নির্বাচনকালে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এটা ইতিবাচক দিক। এ নির্দেশ যদি সরকারি কর্মচারীরা মেনে চলেন তাহলে নির্বাচন কমিশন দুর্নাম থেকে বাঁচবে। যাঁরা অনিয়মের ভাগিদার হবেন তাঁদের জন্য কঠোর শাস্তির ঘোষণা সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা জাগায়। ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি মানুষ স্বাভাবিকভাবে নেবে না। বিয়ষটি নির্বাচন কমিশনকে বিবেচনায় রাখতে হবে।

মো. তাওহীদ সরদার নাঈম

মিরাপাড়া, রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ।

 

► সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য কিছু জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। কোনো পক্ষপাত ও জবরদস্তি চলবে না। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতে ইসলামীর অস্তিত্ব সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন। এরই মধ্যে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে। জামায়াতের নিবন্ধনও বাতিল করা হয়েছে। এ সবই আশার কথা। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে আরো নানা ভূমিকা রাখতে হবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বাংলাদেশি ‘আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্নদের’ দ্বারা তৈরি হয়েছে এক ধরনের রাজনৈতিক ‘ঐক্যফ্রন্ট’। তাঁরা বাংলাদেশে অপরিচিত কেউ নন। বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে লড়াই করে আসছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছে। সব দলের অংশগ্রহণে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনকে করণীয় সব পদক্ষেপ পালন করতে হবে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে। তাহলেই নির্বাচন সুন্দর হবে।

এ কে এম আলমগীর

ও আর নিজাম রোড (আবাসিক এলাকা), চট্টগ্রাম।

 

► সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। ক্ষমতাসীন দলের অধীনে নির্বাচন হলেও নির্বাচন কমিশনের ওপর কোনো চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন থাকতে হবে এবং শুধু সংবিধান ও আইনের অধীনে হতে হবে। নির্বাচনের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের আরো অনেক প্রতিষ্ঠান জড়িত। তারা নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে এবং সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবে। নির্বাচন কমিশন সংবিধান পরিপন্থী কোনো কাজ করবে না। সবার সার্বিক সহযোগিতা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও ভোটাররা নিরাপদে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে।

এম আনিসুর রহমান

শেখেরখিল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।

 

► নির্বাচন কমিশনকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন করতে হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। এ জন্য যা যা করণীয় তা ইসিকে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। সব দলের সমান সুযোগ ও পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► অনেক দ্বিধাবিভক্তির পর তফসিল ঘোষিত হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী পরিবেশ ও নিয়ম বজায় থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে সংশয় আছে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই আমাদের কাম্য। কিন্তু সেটা নিশ্চিত করতে ইসিকে কাজ করতে হবে নিরপেক্ষ ও জোরালো ভূমিকা নিয়ে। ফলে ইসির জন্য এই নির্বাচন চ্যালেঞ্জের। কারণ বিগত নির্বাচনের নেতিবাচক অস্বস্তি নতুনভাবে দেখতে চাই না। বৃহত্তর বিরোধী দল যদি নির্বাচনে কোনো কারণে না আসতে পারে বা অংশ নিতে না পারে, তাহলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এতে ব্যাহত হবে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মানুষ বঞ্চিত হবে তাদের অধিকার থেকে।

এম এ সাক্কুর আলম

জিনজিরা, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

 

► নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে করণীয় হচ্ছে—সব নির্বাচনকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করতে হবে। প্রার্থী ও প্রার্থীদের এজেন্টদের ওপর কোনো বাধা দেওয়া যাবে না বা তাদের বের করে দেওয়া যাবে না। সব এজেন্টকে নিরাপদে ঢুকতে দিতে হবে। কোনো কেন্দ্রে সমস্যা হলে তদন্ত করে দেখতে হবে। ঝামেলা মিটিয়ে ফেলতে হবে। বেশি সমস্যা হলে ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দিতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, মুন্সীগঞ্জ।

 

► রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো জটিল বিষয়েও ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করি। এ জন্য দরকার আন্তরিক ইচ্ছা ও রাজনৈতিক সমঝোতা। নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। দায়িত্বশীল সবাইকে নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে কাজ করতে হবে।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।

 

► ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি।’ এই ফুল হচ্ছে বাংলাদেশ। এই ফুলের পাপড়িতে যেন আঘাত না পড়ে, ফুলের সৌন্দর্য যেন নষ্ট না হয়, ফুলের গন্ধের পরিবর্তে যেন দুর্গন্ধ না ছড়ায়। নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে দায়িত্বের পরিচয় দিতে হবে ক্ষমতাসীন দলসহ সব রাজনৈতিক দলের। পরিচ্ছন্ন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির প্রথম দায়িত্ব হবে আত্মতুষ্টিতে সন্তুষ্ট হয়ে বসে না থেকে বসতঘরে বিষধর সাপ আছে কি না সেটা তন্ন তন্ন করে দেখা এবং উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া, কোনো শৈথিল্য কাম্য নয়। সুধীসমাজ আর প্রগতিশীল মনোভাবাপন্ন রাজনৈতিক নেতাদের এসব বিশেষভাবে অনুধাবন করতে হবে। সুষ্ঠু ভোট প্রজাতন্ত্রের জনসাধারণকে উপহার দিতে সর্বপ্রথম শুরু হোক অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, কঠোর হস্তে সন্ত্রাস দমন, সজাগ দৃষ্টি রাখা হোক মুখরোচক, ধূর্তবাজ মিষ্টভাষী নেপথ্যের নায়কদের, যারা ভোট বানচাল করতে তৎপর। নির্বাচনী তফসিল ঘোষিত হলেও আলোচনার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়নি। নির্বাচন কমিশনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা নিতে হবে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে, যাতে তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

► নির্বাচন সফল করতে নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু ও অবাধ হতে হবে। বিরোধী দলের লোকদের বিরুদ্ধে অকারণে মামলা ও গ্রেপ্তার বন্ধ করতে হবে। সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে হবে, গতবারের মতো জোড়াতালি দেওয়া নির্বাচন করা যাবে না। এ জন্য ইসিকে শক্ত ভূমিকা নিতে হবে। মানুষের ভোটের অধিকার ও প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সংলাপ হয়েছে, তফসিল ঘোষিত হয়েছে, নির্বাচনের তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন দরকার সরকারের সদিচ্ছা ও আন্তরিকতার প্রকাশ। কোনো রকম জবরদস্তি ও প্রভাব যেন দেখা না যায়। তাহলেই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

► সরকারের সঙ্গে দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ কিছুটা আশা দেখাচ্ছে। বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে এসেছে। প্রশ্ন হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্দলীয় সরকারের মধ্যে পার্থক্য কী? আওয়ামী লীগ সংবিধানের দোহাই দিয়ে তার অবস্থানেই আছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্দলীয় সরকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ, সবার সমান সুযোগ, নাগরিকরা যাতে নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে নির্বাচন কমিশনের প্রতি জনগণের আস্থা সৃষ্টি হবে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।

মো. আল আমিন ইসলাম

হরিশ্বর, কাউনিয়া, রংপুর।

 

► আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ করার জন্য পুলিশ যেন বিনা ওয়ারেন্টে কাউকে গ্রেপ্তার থেকে নিবৃত্ত থাকে; গায়েবি মামলা থেকে বিরত থাকে; নির্বাচনকে সামনে রেখে অহেতুক গ্রেপ্তার বাণিজ্য করে প্যানিক সৃষ্টি না করে; বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার প্রতিরোধ করে; অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কড়া তৎপরতা পরিচালনা করে আর ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোয় অস্ত্রধারী পুলিশ ও আনসারের সংখ্যা বাড়ানো; চিহ্নিত প্রার্থীদের প্রতি নজর দেওয়া এবং যেকোনো ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক আক্রমণ ও মিথ্যা প্রপাগান্ডা যেন না হয় সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। পাশাপাশি সরকারি দল ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনগুলো যেন কথায় কথায় পুলিশি দায়িত্ব পালন না করে, আইনকে নিজের হাতে তুলে না নেয়, যার কাজ তাকে করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

► নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ভূমিকা নিতে হবে ইসিকে। কারণ তিনি এ নির্বাচনকে পরিচালনার বড় একটি দায়িত্বে আছেন। তিনি ক্ষমতা ও বিচক্ষণতা প্রয়োগ করে একটি ভালো নির্বাচন উপহার দেবেন বলে আশা করি।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল ও জোট তফসিল ঘোষণাকে পূর্ণ সমর্থন করেছে। এটা আশার কথা। নির্বাচন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন প্রতিরোধের নামে যেন কোনো হরতাল-অবরোধের ঘটনা না ঘটে। জনগণ যেন সহিংসতার শিকার না হয়। অন্য দলগুলো যদি এ তফসিল মানতে না পারে তবে আলোচনায় বসতে পারে। তফসিল ঘোষণা মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়। আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে হয়তো সমাধান বেরিয়ে আসবে। আশা করি সব রাজনৈতিক দল সদিচ্ছা ও সুবিবেচনার পরিচয় দেবে। নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের ভূমিকায় রাখতে হবে।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

► নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্রে প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে সব দলেরই একজন করে এজেন্ট থাকার কথা, যাতে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়। অথচ বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই এজেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়াটিই সুষ্ঠু নির্বাচনের বড় বাধা। ক্ষমতাসীন দলই শুধু এর সুবিধা নিচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। গ্রামাঞ্চলে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী ও কর্মীরা অন্য দলের এজেন্টদের ওপর শারীরিক নির্যাতন করতেও দ্বিধা করে না—এমন অভিযোগও আছে। এদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।

সোলায়মান শিপন

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

 

► নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে মনোনয়নের লক্ষ্যে তৃণমূল থেকে প্যানেল তৈরির আইনি বিধান আরো কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। হলফনামায় প্রদত্ত তথ্য কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করে অসমাপ্ত হলফনামা প্রদানকারী, তথ্য গোপনকারী ও ভুল তথ্য প্রদানকারীর প্রার্থিতা বাতিল করতে হবে। নির্বাচনী বিরোধের দ্রুত মীমাংসা করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন করতে হবে, যাতে ভুয়া ও অসত্য সংবাদ প্রচার, যা নির্বাচন প্রভাবিত হতে পারে, সেসব সংবাদ প্রচার না হয়। নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই সবার আস্থা অর্জন করতে হবে এবং নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

তামান্না ইসলাম

বাঁকা চড়াইল, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

 

► আমরা সব দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন চাই। আর এই নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে সরকারি দলকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি বন্ধ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিবেশ তৈরি করতে হবে সরকারকেই। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশনকে নিয়ামক ভূমিকা রাখতে হবে।

মাজহারুল ইসলাম লালন

নকলা, শেরপুর।



মন্তব্য