kalerkantho


সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতা প্রয়োজন

২৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



পরিবহন খাত ডুবে আছে বিশৃঙ্খলায়। ক্রমাগতই ঘটে যাচ্ছে হাজারো হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা আর নিমিষেই ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। হাতেগোনা কিছু ঘটনা সবার দৃষ্টিগোচর হলেও অসংখ্য ঘটনা রয়ে যাচ্ছে চোখের আড়ালেই। সড়কের অবস্থা বেহাল, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নেই তেমন নজরদারি। ট্রাফিক আইনও অকার্যকর। আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হলে এবং মানা হলে অবশ্যই পরিবহন শৃঙ্খলা বজায় থাকবে। পরিবহন নৈরাজ্যের প্রধান কারণ সংশ্লিষ্ট সংস্থার দায়িত্ব পালনে অবহেলা। গণপরিবহনের শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার ও প্রশাসনকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। ট্রাফিক পুলিশদের যথেষ্ট আন্তরিক ও সৎ হতে হবে। ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কার্যকর ট্রাফিক আইন প্রয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। অদক্ষ সনদদাতা প্রতিষ্ঠান, ফিটনেস যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান যারা টাকার বিনিময়ে লাইসেন্স ও ছাড়পত্র প্রদান করে থাকে, সেগুলো বন্ধ বা সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ছোট রাস্তাগুলো যথাসম্ভব প্রশস্ত করতে হবে। যান্ত্রিক ত্রুটিপূর্ণ ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে হবে। লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালক নিষিদ্ধ করতে হবে, যাতে তার পরিবহন নিয়ন্ত্রণে গাফিলতির কারণে দুর্ঘটনার সম্মুখীন না হতে হয়। বেপরোয়া ড্রাইভিং বন্ধ করতে হবে। নির্দিষ্ট গতিবিধি অনুসরণ করে গাড়ি চালাতে হবে। যানবাহনের গতির ভিন্নতার ওপর ভিত্তি করে আলাদা লেনের ব্যবস্থা করতে হবে।ওভারটেকিং বন্ধ করতে হবে। উল্টোপথে গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে। গাড়ির মালিকদের মধ্যে শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তুলতে হবে। নিরাপদ চলাচলে ফুট ওভারব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা নিতে হবে। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং বন্ধ করতে হবে। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে স্পিড ব্রেকারের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রাইভেট গাড়ির সংখ্যা কমানো এবং রাস্তা থেকে অবৈধ হকার উচ্ছেদ করতে হবে। মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী বহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে। চাঁদাবাজি, অশুভ শক্তির প্রয়োগ ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করতে হবে। সর্বোপরি জনসাধারণের সার্বিক সহযোগিতা এবং সচেতনতারও প্রয়োজন।

তামান্না ইসলাম

বাঁকা চড়াইল, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।



মন্তব্য