kalerkantho


সমন্বিত ব্যবস্থা ছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে না

২৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



সমন্বিত ব্যবস্থা ছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে না

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন হলো, তার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপদ সড়ক আইন হলো, কিন্তু দুর্ঘটনা কমছে না; সড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না। দোষটা কার? ব্যবস্থার কোথায় ত্রুটি? আসলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ, সংস্থা বা সংগঠন আন্তরিক নয়। সড়কে বিশৃঙ্খলা তাদের উপরি আয় বা বাণিজ্যের সহায়ক। কর্তৃপক্ষ ফিটনেস পরীক্ষা ও লাইসেন্স দেওয়ার কাজ ঠিকমতো করে না, পুলিশ ফিটনেসহীন গাড়ি আটকায় না বা বেপরোয়া চালকদের ধরে না। পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো আইনকে থোড়াই কেয়ার করে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় রাস্তা-সেতু সংস্কারে মনোযোগী নয়। অমান্যতা-অবহেলার এ সংস্কৃতি ক্রমে গ্রাস করে পথচারীদেরও। তারাও ট্রাফিক আইন মানতে আগ্রহ বোধ করে না। ফলে অবস্থার পরিবর্তন ঘটে না। সড়কে বিশৃঙ্খলা অনেক সমস্যার সামষ্টিক রূপ। সমন্বিত ব্যবস্থা ও ধারাবাহিক চর্চা ছাড়া এর সমাধান নেই। টেলিফোনে ও ই-মেইলে কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা এ অভিমত জানিয়েছেন

 

► সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর দাবিতে পথে নেমে শিক্ষার্থীরা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছিল। বিআরটিএ এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে যাঁরা থাকেন, তাঁরা যদি ঠিকভাবে কাজ করেন এবং পরিশুদ্ধ হন, তাহলে ৭৫ শতাংশ অনিয়ম ও দুর্ঘটনা কমে যাবে। আমাদের আইন না মানার যে অভ্যাস, তা পরিত্যাগ করতে হবে। পরিবহন খাত যারা নানাভাবে পরিচালনায় যুক্ত থাকে, তারা যদি আন্তরিক হয়, মালিক-শ্রমিক ও যাত্রীরা সচেতন হয়, তাহলে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো অসম্ভব নয়। 

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কিছু উদ্যোগ নিতে হবে এবং এর জরুরি বাস্তবায়ন দরকার। যেমন—ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়াতে হবে। ট্রাফিক আইন মানার ব্যাপারে চালক-শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ সব গাড়ি জব্দ ও বাতিল করতে হবে। কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না। দুর্ঘটনায় চালকদের শাস্তি দিতে হবে। জামিন নিয়ে যেন বেরিয়ে যেতে না পারে।

জাহাঙ্গীর কবির পলাশ

শ্রীধরপুর, মুন্সীগঞ্জ।

 

► পেশাগত দক্ষতার উন্নয়ন ছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। চালক এবং গাড়ির সহকারীদেরও প্রশিক্ষণ দিতে হবে। রাস্তার অবকাঠামো পরিবর্তন জরুরি। গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মানুষের ভেতরে সচেতনতা বাড়াতে হবে। পথচারীদের ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করতে ও  নির্দিষ্ট জায়গায় গাড়ি দাঁড় করাতে উদ্বুদ্ধ করুন। ব্যক্তিকে যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী দায়িত্ব দিলে ভালো হয়। এতে অনেক সমস্যা রোধ করা সম্ভব হবে।

আবদুল খালেক

দাসপাড়া, নরসিংদী।

 

► সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েও কাজ হচ্ছে না। সড়কে মৃত্যুর মিছিল বাড়ছেই। এ জন্য দরকার মালিক-চালকদের প্রশিক্ষণ ও দুর্ঘটনার জন্য শাস্তি নিশ্চিত করা। আইনের বাস্তবায়ন জরুরি। সড়কে সব ধরনের অব্যবস্থাপনা দূর করতে নতুন ও যোগ্য লোকবল নিয়োগ করতে হবে। না হলে মায়ের সামনে মেয়ে, মেয়ের সামনে মা-বাবা দুর্ঘটনার শিকার হবেই।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► বহু কারণেই আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে, জনসাধারণের ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা পারাপার, ফিটনেসবিহীন যানবাহন রাস্তায় চলাচল করা, হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো, সড়ক-মহাসড়কের বেহাল দশা, বেপরোয়া যান চলাচল এবং বেশির ভাগ ড্রাইভারের মাদক গ্রহণ করে গাড়ি চালানোও অন্যতম কারণ। এ ছাড়া দূর-দূরান্তের পথে যেতে গাড়িতে দুজন ড্রাইভার না থাকার ফলে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতার পাশাপাশি চালকদের প্রশিক্ষণ ও আইন মানার বিষয়টি কার্যকরে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

মো. ফখরুল ইসলাম টিপু

সেনবাগ, নোয়াখালী।

 

► প্রথমত গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং চালকদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পথচারীদের রাস্তা চলাচলের নিয়মাবলি সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। রাস্তায় পরিবেশবান্ধব নয় এমন ভাঙা ও পরিত্যক্ত গাড়ি সরাতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া লাইসেন্সবিহীন গাড়ি ও মাদক গ্রহণকারী চালকদের চিহ্নিত করা এবং মাদকসেবীদের লাইসেন্স বাতিল করে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিতকরণ এখন শুধু সময়ের দাবি। সর্বোপরি সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে চালক, সাধারণ পথচারীসহ সড়ক পরিবহনসংশ্লিষ্ট সবার সচেতনতা ও জবাবদিহির কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণই পারে আমাদের নিরাপদ সড়ক দান করে ভীতিহীন যাত্রার নিশ্চয়তা প্রদান করতে।

আতহার বাবরুল

তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ।

 

► সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে, সড়ক দুর্ঘটনা এবং রাস্তাঘাট যানজটমুক্ত করতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। ছোট রাস্তাগুলো যথাসম্ভব দীর্ঘ ও প্রশস্ত করা, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং বন্ধ, ট্রাফিক আইন আরো কার্যকর করা, ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ, ব্যস্ততম রাস্তায় রাজনৈতিক মিছিল-মিটিং বন্ধ, অপরিকল্পিত ঘরবাড়ি নির্মাণ বন্ধ, ধীরগতি ও দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা, প্রাইভেট গাড়ির বদলে পাবলিক বাসের ব্যবস্থা করা, রাস্তা থেকে অবৈধ হকারদের উচ্ছেদ করা, রেল ও নৌ যোগাযোগ উন্নতি সাধন ইত্যাদি। তা ছাড়া যাত্রী বা পথচারীদেরও আইন মেনে রাস্তায় চলাফেরা করতে হবে।

মো. মিজানুর রহমান

পাংগা, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম।

 

► সড়ক দুর্ঘটনা বর্তমানে বাংলাদেশে গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন দুর্ঘটনার শিকার হয়ে সংবাদের শিরোনাম হচ্ছে অনেক মানুষ। অথচ সড়কে চলছে নৈরাজ্য। কেউ ভাঙছে আইন, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারকে অতি শিগগিরই তৎপর হতে হবে। বেপরোয়া চালকদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ড্রাইভারদের কাউন্সেলিং করাতে হবে। পুরনো গাড়ি ডাম্পিং করতে হবে। গাড়ি চালনার আগে গাড়ির ইঞ্জিনসহ যাবতীয় ঝুঁকিপূর্ণ অংশ চেক করে নিতে হবে। পথচারীদের আইন মেনে চলতে হবে। বিভিন্ন জায়গায় ওভারপাস নির্মাণ করতে হবে।

মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম

ইলশা, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।

 

► সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে চালকদের প্রশিক্ষণ জরুরি। ট্রাফিক আইন কার্যকর ও মানুষকে সচেতন হতে হবে। মহাসড়ক চার লেন ও সড়ক সংস্কার জরুরি, তিন চাকার গাড়ি মহাসড়ক থেকে তুলে দিতে হবে। সবার আগে মানসিক পরিবর্তন দরকার।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ সদর।

 

► ট্রাফিক আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ালে ও বেপরোয়া যান চলাচল বন্ধ করা গেলে সড়কে দুর্ঘটনা কমানো এবং দুর্ঘটনায় মৃত্যুসংখ্যা শূন্যের কোঠায় আনা অসম্ভব হবে না। এ সেক্টরে শৃঙ্খলা রাতারাতি বন্ধ করার উপায় আমার জানা নেই। তবে সমস্যা যত জটিলই হোক না কেন তা নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন নয়। সরকারের সদিচ্ছাতেই লুকিয়ে আছে সমাধানের উপায়। সড়কে খামখেয়ালি চালকরা যান চালিয়ে মানুষ হত্যা করবে, আর সরকারপ্রধান সমবেদনা দেখিয়ে ১০-১৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগার থেকে দান করবেন, এটা প্রত্যাশিত নয়। সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে এগোতে হবে। রেল যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। ট্রাফিক পুলিশকে উন্নত বিশ্বের আদলে প্রশিক্ষিত করতে হবে। টেলিভিশনসহ সব ধরনের সংবাদমাধ্যমে ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে ও সচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত রাখতে হবে। চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা প্রশিক্ষণ দিতে হবে। চুক্তিতে চালক নিয়োগ বাতিল করে তাদের চাকরি নিশ্চিত করতে হবে। যানবাহনের মালিকদেরও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করার ব্যবস্থা করতে হবে। ট্রাফিক কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির মধ্যে আনতে হবে। ট্রাফিক পুলিশকে দায়িত্বে অবহেলার জন্য দায়ী করা হলে, নজরদারি বাড়ানো গেলে, গাড়ির মালিক-চালক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হলে সড়ক নিরাপদ করা সম্ভব।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

► সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং রাস্তাঘাট যানজটমুক্ত করতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। ছোট রাস্তাগুলো যথাসম্ভব দীর্ঘ ও প্রশস্ত করা, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং বন্ধ, লাইসেন্সবিহীন যান চলাচল বন্ধ, ট্রাফিক আইন আরো কার্যকর করা, ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ, ব্যস্ততম রাস্তায় রাজনৈতিক মিছিল-মিটিং বন্ধ, অপরিকল্পিত বাড়িঘর নির্মাণ বন্ধ, বহু লেন করে ধীরগতির ও দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা, প্রাইভেট গাড়ির বদলে পাবলিক বাসের ব্যবস্থা, বিভাগীয় শহরগুলোতে উন্নত অবকাঠামো বিস্তৃতকরণ, ঢাকার বাইরেও নামিদামি স্কুল-কলেজ স্থাপন, বিভাগীয় শহরেও উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্র, হোটেল, রেস্তোরাঁর ব্যবস্থা, মিনিবাসের সংখ্যা কমিয়ে ডাবল ডেকার বাসের ব্যবস্থা, রাস্তায় পর্যাপ্ত ডিভাইডারের ব্যবস্থা, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, রাস্তা থেকে অবৈধ হকারদের উচ্ছেদ, রেল ও নৌ যোগাযোগের উন্নতি সাধন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির যাতায়াতে হেলিকপ্টারের ব্যবহার এবং প্রাইভেট গাড়ি কিনতে নিরুৎসাহিত করতে উচ্চহারে ভ্যাট নির্ধারণ করা দরকার।

বিলকিছ আক্তার

হরিশ্বর, কাউনিয়া, রংপুর।

 

► সড়কে যারা যানবাহন চালায় তাদের অনেকের বিবেক বলে কিছু নেই। এ জন্যই থামছে না সড়ক দুর্ঘটনা; ফিরছে না শৃঙ্খলা। চালকরা একটু সচেতন হলেই দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব। কিছু চালকের মধ্যে সচেতনতা ও মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত হয় না বলেই একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। চালকরা দেখেশুনে ধীরস্থিরভাবে যানবাহন চালালে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাও সম্ভব হবে।

লিয়াকত হোসেন খোকন

রূপনগর, ঢাকা।

 

► শুরু হয়েছে জাবালে নূরের মালিকসহ ছয়জনের বিচারকাজ। তবে শুধু বিচার বিভাগ ও সরকারি প্রশাসনের ওপর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি ছেড়ে দিলে হবে না। সড়কে বিশৃঙ্খলা একটি জাতীয় সমস্যা। সবার মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো না গেলে স্থায়ী সমাধান আসবে না। গণসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি ‘নিষিদ্ধ’ গাড়ির চলাচল বন্ধ করে দিতে হবে। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছু যানকে বৈধতা দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। নিষিদ্ধ ইজি বাইক সড়কে সচল করার নেপথ্যে রয়েছে একটি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতিক থেকে এমপি পর্যন্ত জড়িত। ব্যাটারিচালিত ইজি বাইক ও রিকশার বৈধতা দিলে সড়কে দুর্ঘটনার হার অনেক বেড়ে যাবে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সচেষ্ট হলে, গাড়িচালক, যাত্রী ও পথচারী নিয়ম মানতে উৎসাহী হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে।

সোলায়মান শিপন

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

 

► দুর্ঘটনার মূল কারণ বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিং। ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়িয়ে এবং চালকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে অবকাঠামো বদলাতে হবে। আইন মানার ব্যাপারে মানুষকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

মো. মোকাদ্দেস হোসাইন

রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ।

 

► সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে প্রকৌশলগত নিরাপত্তা, শিক্ষা নিরাপত্তা ও আইনের প্রয়োগ বিষয়ে নিরাপত্তা দিতে হয়। কিন্তু আমাদের দেশে আইনের প্রয়োগ ও শিক্ষার জায়গাটা প্রায় শূন্যের কোঠায়, প্রকৌশলগত ত্রুটি মজ্জাগত। দুর্ঘটনা রোধে উন্নত দেশগুলোতে নগর পর্যায়ে গতিসীমা ৫০ কিলোমিটার এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করলে আরো কমাতে পারে। অথচ আমাদের দেশে যানবাহনের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণে জাতীয় পর্যায়ে আইন থাকলেও শহরে সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করা নেই। গাড়ি চালানোর সময় সিটবেল্ট ব্যবহারের বিষয়ে এবং মুঠোফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো আইন নেই। অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর জন্য ৫৩ শতাংশ, চালকের বেপরোয়া মনোভাব ও ওভারটেকিং করার জন্য ৩৭ শতাংশ এবং পরিবেশ-পরিস্থিতিসহ অন্যান্য কারণে ঘটে ১০ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনার কারণগুলো খতিয়ে দেখে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিলে সড়ক দুর্ঘটনা থেকে দেশ ও জাতি অনেকাংশে নিস্তার পাবে।

ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

► দুর্বল সড়কব্যবস্থা ও উপযুক্ত শিক্ষার অভাব থাকায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলছে। দেশের উন্নয়নে যোগাযোগব্যবস্থা অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হবে। রোধ করতে হবে সড়ক দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন পরিকল্পনামাফিক সড়ক নির্মাণ, সংকীর্ণ সড়কের প্রশস্তকরণ, চালকের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং বেশি বেশি জনসচেতনতা বাড়ানো। কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে এবং দুর্নীতি রোধ করতে হবে।

মুহম্মদ সাজ্জাদ হোসেন

মির্জাপুর, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

 

► সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, গাড়ির বৈধ চালক নিশ্চিতকরণ, সড়ক-মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, দুর্ঘটনা সৃষ্টিকারী চালকের বিচার এবং শাস্তি কার্যকর, ওভারস্পিড, ওভারটেকিং, যান্ত্রিক ও রাস্তার ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে পদক্ষেপ গ্রহণ, চালকের লাইসেন্স প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে যানবাহনের ফিটনেস সনদ, গাড়ির অনুমোদনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত, ফুটপাত, জেব্রা ক্রসিং, আন্ডারপাস, ওভারপাস নির্মাণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করে জনসাধারণের সময় বাঁচাতে ঝুঁকি না নিয়ে সাবধানতা অবলম্বন করলেই সড়ক-মহাসড়কে চলতে থাকা মৃত্যুর বিভীষিকা কমাতে পারে।

মো. আল-আমিন ইসলাম

হরিশ্বর, কাউনিয়া, রংপুর।

 

► সড়ক পরিবহনব্যবস্থা উন্নত করতে হলে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদের কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। চালকরা যে পরিবেশে কাজ করে সে সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি? জায়গায় জায়গায় ঘুষ, চাঁদা দেওয়া ছাড়াও চড়-থাপ্পড়-লাথি, লাঠির বাড়ি আর গালি খাওয়া তাদের নিয়তি। আমরা যাদের কাছ থেকে দায়িত্বশীলতা আশা করি, তাদের কাছে শব্দগুলো ভীষণ গোলমেলে। চালকদের জন্য স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ এবং পারফরম্যান্স অনুযায়ী পুরস্কার-তিরস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে। জনসাধারণের প্রত্যাশার কথা তাদের বোঝাতে হবে। মধ্যমেয়াদে সব উপজেলায় ড্রাইভিং প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু করা, কাজের পরিবেশের মান উন্নয়ন ও ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে; চাঁদাবাজ, ঘুষখোরদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে। 

মুহাম্মাদ আহসানুল করিম

সিইপিজেড, চট্টগ্রাম।

 

► সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ফিটনিসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আর ট্রাফিক আইনের ১৩৮ ধারায় বলা আছে, লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো কোনো ব্যক্তি ৩ ধারা (১) উপধারা লঙ্ঘন করে (লাইসেন্স ছাড়া) কোনো গাড়ি চালালে সর্বোচ্চ চার মাসের কারাদণ্ড অথবা ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয়বিধ শাস্তি হতে পারে। এই শাস্তির পরিমাণ অপরাধের তুলনায় সামান্য। দুর্ঘটনা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। সারা দেশের সড়কগুলো রাখতে হবে নিরাপদ। যাতে করে অকালেই প্রাণ ঝরে পড়তে না হয়। সরকারের উচিত হবে কোনো চালক যাতে কোনোক্রমেই লাইন্সেসবিহীন গাড়ি চালাতে না পারে সেদিকে নজর দেওয়া। ট্রাফিক আইন ও সাইন মেনে চলতে বাধ্য করা। সারা দেশের সড়ক হোক নিরাপদ। মানুষ দুর্ঘটনা থেকে নিরাপদে চলাচল করুক।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ, জামালপুর।

 

► শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরও সড়ক দুর্ঘটনা কমেনি, বরং বেড়েছে। চালক বা পথচারী কেউ আইন মানে না। সমাজে মান্য লোকজনও নিয়ম ভেঙে গাড়ি চালায়। রাস্তায় অননুমোদিত গাড়ি চলে। বাইকচালকরা ও পেছনের আরোহীরা হেলমেট পরতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও আইন মানে না। সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ করতে হলে, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে হলে আগে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে ঠিক করতে হবে।

নাদিম খান

ভাইজোড়া, পিরোজপুর।

 

► সড়ক দুর্ঘটনা নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনার শিকার পরিবারের সদস্যরাই মর্মান্তিক ঘটনার জ্বালা বুঝতে পারে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অনেক পরিবার পথে বসেছে। এসবে ভ্রুক্ষেপ নেই মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর। গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম-হাটহাজারী মহাসড়কে তাণ্ডব চালায় পরিবহন শ্রমিকরা। লাখো যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে পরিবহন চালিয়ে যাওয়া, লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেওয়া আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞা। প্রশাসনকে কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে। পরিবহন আইন অবশ্যই মেনে চলতে হবে। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের হুমকির কাছে মাথানত করলে বেপরোয়া গাড়িচালকরাই উৎসাহিত হবে। প্রতিবছর ঈদ উৎসবের আগে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে প্রশাসনের আলোচনা প্রয়োজন। শুধু সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নয়, আলোচনা চালাতে হবে নৌপরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গেও। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে সরকার ও প্রশাসনের নীতিতে অবিচল থাকা জরুরি।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

► সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ গাড়ির অতিরিক্ত গতি ও ওভারটেকিং। ট্রাফিক আইন অমান্য করাও সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এক জরিপে দেখা যায়, ৯১ শতাংশ চালক জেব্রা ক্রসিং আমলেই নেয় না; ৮৫ শতাংশ পথচারী নিয়ম ভেঙে রাস্তা পার হয়। আরেক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ৮৪ শতাংশ রিকশাচালক ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞ। ফলে দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক, সড়কের ওপর হাটবাজার, অবৈধ স্থাপনা, বিকল্প রাস্তা না করে যখন-তখন রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, রাস্তায় ডিভাইডার না থাকা প্রভৃতি কারণেও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে করণীয়—বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিং নিষিদ্ধকরণ, সর্বোচ্চ গতিসীমা বেঁধে দেওয়া; ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও আইন লঙ্ঘনকারীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া; লাইসেন্স-জালিয়াতি রোধ করা; লাইসেন্স দেওয়ার আগে চালকের দক্ষতা ও যোগ্যতা যাচাই করা; ফিটনেসহীন গাড়ি রাস্তায় নামাতে না দেওয়া; পথচারীদের চলাফেরায় সতর্ক থাকা; অতিরিক্ত যাত্রী ও মাল বহন করতে না দেওয়া; মহাসড়কের পাশে হাট-বাজার ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা এবং প্রতি মাসে মহাসড়কে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে যানবাহনের ত্রুটি-বিচ্যুতি পরীক্ষা করা।

এ কে এম আলমগীর

ও আর নিজাম রোড আবাসিক এলাকা, চট্টগ্রাম।

 

► সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে যেখানে-সেখানে রাস্তা পারাপার বন্ধ করতে হবে। পাবলিক ট্রান্সপোর্টে ওঠানামার নিরাপদ পন্থা মানতে হবে। অনিয়মের কারণে আমরাই আমাদের সময় নষ্ট করছি ট্রাফিক জ্যামে বসে; দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছি। সড়ক নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা নিয়োজিত তাদের নির্দেশ বা অনুরোধ শুনছি না আমরা। যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং করলে বা গাড়ি থামালে এবং যাত্রী ওঠানামা করালে প্রথম দুইবার তাৎক্ষণিক জেল ও জরিমানা এবং তৃতীয়বার একই অন্যায় করলে গাড়ি জব্দ এবং চালকের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। এ রকম কঠোর থাকলে সড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে মনে করি। আইনের পাশাপাশি সুষ্ঠু পরিকল্পনা দরকার। সড়কব্যবস্থা এমন হতে হবে, যেন কেউ সড়ক আইন অমান্য করতে চাইলেও না পারে।

আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ যুবায়ের

কল্যাণপুর, ঢাকা।

 

► অদক্ষ, আধাদক্ষ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের দিয়ে গাড়ি পরিচালনা করা যাবে না। অনেক মালিক বেশিক্ষণ গাড়ি চালানোর জন্য চালককে বাধ্য করে। বাড়তি চাপের কারণে অনেক চালক দুর্ঘটনায় পড়েন।  চালকদের কাছে অনুরোধ, আপনারা গাড়ি চালাতে চালাতে হেডফোনে গান শুনবেন না, গাড়িতে যখন উঠবেন তখন মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখবেন না। মেয়াদোত্তীর্ণ, কাঠামো পরিবর্তিত ও অবৈধ গাড়ি চালনা থেকে বিরত থাকবেন।

মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া

লাকসাম, কুমিল্লা।



মন্তব্য