kalerkantho


অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্য চাই

২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



বঙ্গবন্ধুর ডাকেই বাংলার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সাড়া দিয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে জীবন দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট নির্মম হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য ধ্বংস করা হয়। ১৫ই আগস্ট ও ২১শে আগস্টের ভয়াবহ ঘটনার সঙ্গে যারা পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত, যারা মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যারা ধর্মীয় রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাসী, তারা এখন পর্যন্ত অ্যান্টি-আওয়ামী লীগ রাজনীতির জোটে সক্রিয় রয়েছে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, গণতন্ত্র, সুশাসন ও সহনশীল রাজনীতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা এই অপরাজনীতি। তাদের সঙ্গে নিয়েই তথাকথিত ‘জাতীয় ঐক্য’ গড়ার চেষ্টা চলছে। জাতীয় ঐক্যের উদ্যোক্তাদের দ্বারা প্রকৃত জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। জাতির ক্রান্তিকালে এই নেতাদের জাতীয় ঐক্যের ডাক দিতে শোনা যায়নি বা তাঁদের জাতির পাশে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাসী নয়, এমন একটি গ্রুপকেও ‘জাতীয় ঐক্য’ প্রক্রিয়ার সঙ্গে দেখা যাচ্ছে। তাদের সবার অতীত ‘রাজনীতি’ ও ‘কর্মকাণ্ড’ সম্পর্কে দেশবাসী সচেতন রয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ড ও তৎপরতা অনেক সময়ই অগণতান্ত্রিক শক্তিকে উৎসাহ জুগিয়েছে। কাজেই ঐক্যের নামে দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে কি না, তা অবশ্যই ভেবে দেখতে হবে। নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিচার করলে দেশের সার্বিক অবস্থা খুব ভালো না হলেও স্বাধীনতা-পরবর্তী ৪৭ বছরে এমন উন্নয়ন ও স্থিতি এর আগে কখনো দেখা যায়নি। জঙ্গিবাদকে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে, তা সারা বিশ্বেই প্রশংসিত হচ্ছে। প্রায় ৩০টি টেলিভিশন চ্যানেলে টক শোতে দল-মত-নির্বিশেষে বক্তারা সরকারের পক্ষে-বিপক্ষে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছেন, সরকারের সমালোচনাও করা যাচ্ছে। এমন বাক্স্বাধীনতা আর কোনো সরকারের আমলেই ছিল না। দেশে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই দেশের উন্নয়ন হচ্ছে, স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও নির্বাচন পদ্ধতিতে অনেক দুর্বলতা রয়েছে, তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। দেশে দুর্নীতি, সুশাসনের অভাবসহ অনেক সমস্যাই রয়েছে। ভবিষ্যতে কিভাবে এবং কার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে তা সবাইকেই ভেবে দেখতে হবে। কোনো পক্ষেরই ক্ষমতার লোভে দেশ ও জাতির সর্বনাশ করা উচিত হবে না, কারণ ক্ষমতার চেয়েও দেশ বড়। আশা করি গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে সমগ্র জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী নির্বাচনে অপশক্তির বিরুদ্ধে রায় দেবে। এভাবেই জাতীয় মহাঐক্য গড়ে উঠবে। জাতীয় রাজনীতিতে মানবকল্যাণ ও উন্নয়নই হোক মূলমন্ত্র।

বিপ্লব বিশ্বাস

ফরিদপুর।



মন্তব্য