kalerkantho


এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের দায়মোচন

১৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা ইতিহাসের একটি নিকৃষ্ট নজির। এটা ছিল দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায়ই এ জঘন্য হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এ ভয়ংকর অপরাধে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্তদের বিচারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। কিন্তু কেন? উপরন্তু এর দায় বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ওপরই চাপিয়ে দেওয়ার ঘৃণ্য কৌশল গ্রহণ করা হয়। অগণিত মানুষের বিবেক যন্ত্রণায় দগ্ধ হয়েছে। কিন্তু গত বুধবার ২১ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায় বিশেষ জজ আদালত দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভার প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনের ফাঁসির আদেশ হয়েছে। হাওয়া ভবনের সে সময়কার প্রাণপুরুষ তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে বিএনপির শাসনামলে এমন নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে, তাদের নেতাদের এখনো এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই, নেই আত্মসমালোচনা। ভ্রান্ত কানাগলির পথ থেকে বের হওয়ার সামান্যতম চেষ্টাও আমরা দেখি না। আদালতের রায়ের দিনই বিএনপির প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, এ রায় ‘ফরমায়েশি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। তারা এ রায়ের প্রতিবাদে সাত দিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে। বিভিন্ন সময়ে সহিংস আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটাতে তাদের চেষ্টা আমরা দেখেছি। এ অবস্থান রাজনৈতিক হিসেবে আমরা ধরে নিতে পারি। কিন্তু জাতীয় ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়ের দায় কেন তারা কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলে দেবে না, সেটা শুভবুদ্ধিসম্পন্ন কোনো মানুষের কাছেই বোধগম্য হবে না। ২১ আগস্টের নৃশংসতার অপরাধে বিশেষ জজ আদালতে বিচার হয়েছে। আমাদের সবার আশা, উচ্চ আদালতে দ্রুত এর নিষ্পত্তি ঘটবে। এ ধরনের বর্বরতা থেকে আমাদের দেশকে মুক্ত রাখার পথ একটিই, গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক সহিষ্ণুতার ধারায় দেশকে পরিচালিত করায় সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিকতা। রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে সক্রিয় সবাই চলুক শুভবুদ্ধির পথে—এটাই কামনা করি।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।



মন্তব্য