kalerkantho


জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সর্বাত্মক কর্মসূচি দরকার

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সর্বাত্মক কর্মসূচি দরকার

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ুর পরিবর্তন প্রসঙ্গ উপেক্ষা করার উপায় আর নেই। তবু বিশ্বনেতাদের অনেকে বিষয়টি পাশে ঠেলে রাখতে চান। তাঁদের কারণে জাতিসংঘ জলবায়ু তহবিলের আকার সন্তোষজনক হচ্ছে না; জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবেলায় পর্যাপ্ত উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শঙ্কা বাংলাদেশের। তাই আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে সোচ্চার হতে হবে। দেশের ভেতরেও বিভিন্ন কর্মসূচি নিতে হবে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উন্নয়ন পবিকল্পনা থেকে বিরত থাকতে হবে। জলাধার রক্ষা করতে হবে। নদীর নাব্যতা বাড়াতে হবে, বিল-জলাশয় খনন করতে হবে। বনাঞ্চল বাড়াতে হবে। উপকূলে সবুজ বেষ্টনীর পরিসীমা বাড়াতে হবে। পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে হবে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে আন্তরিক হতে হবে। টেলিফোন ও ই-মেইলে কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা এ অভিমত জানিয়েছেন

 

► বর্জ্য অব্যবস্থাপনা, দূষণ নিয়ন্ত্রণে কোনো ধরনের উদ্যোগ সঠিকভাবে না হওয়ায় এবং অপরিকল্পিতভাবে শিল্পায়নের ফলে আজ চরম ঝুঁকির মধ্যে বাংলাদেশের পরিবেশ। পানির মতো একটি প্রাকৃতিক সম্পদ কোনো ব্যবস্থাপনা ছাড়াই ব্যবহার করা হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে। ফলে বাতাসে ছাড়ছে অনিয়মতান্ত্রিক কার্বন। কেমিক্যালের চরম ব্যবহার পানিকে করছে সর্বোচ্চ পরিমাণ দূষিত আর এর সঙ্গে লোকালয়ের বিভিন্ন ধরনের ময়লা তো আছেই। পরিবেশের সুরক্ষা না দিতে পারলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। গড় করে মৃত্যুর হার আর অর্থনৈতিক ক্ষতির যে কথা বলা হচ্ছে, তার চেয়ে বড় সমস্যার দিকে ধাবিত হচ্ছি। ঢাকার আশপাশের নদীগুলো এখন বিষের নহর। মাটির ব্যালান্সিং ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার জন্য কম্পোজিট পানিই যথেষ্ট। বিভিন্ন দূষক একত্র হয়ে মাটিকে যখন ক্ষতিগ্রস্ত করছে তখন এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানি। বাতাসের দূষণ ইটভাটার দিকে গেলেও অন্যান্য দূষণও কিন্তু আরো ৪২ শতাংশ। যখন পরিবেশের বায়ুদূষণের কথা উঠবে তখন সামগ্রিক দূষণ নিয়েই কাজ করতে হবে। আশ্চর্যজনক হারে বন ধ্বংস এবং অসাধু কর্মকর্তাদের চরম দুর্নীতির কারণে দূষণের কবলে পড়ছে মানুষ। নদী বাঁচানোর তাগিদ দেওয়ার চেয়েও নদীগুলোকে আগে থেকেই সংরক্ষণ করতে হবে। বায়োলজিক্যাল ইটিপি স্থাপনে জোর দিতে হবে।

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে কৃষি খাতে প্রভাব ফেলছে। এ জন্য যা করতে হবে : আমাদের বসতি অবকাঠামো নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। ১০০ বছরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনের ঝুঁকি মোকাবেলা দেখে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

কামরুজ্জামান

ঝিনাইদহ।

 

► ব্যাপক হারে বন ধ্বংস, জলাভূমি শুকিয়ে যাওয়া, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমিয়ে রাখা, ব্যাপক হারে এসি ব্যবহার, শিল্প-কারখানার নানা রকম বর্জ্য পার্শ্ববর্তী নদী বা লোকালয়ের জলাশয়ে ফেলানোর কারণে পরিবেশ ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। এই ঝুঁকিগুলো হলো স্বাস্থ্য, অভিবাসন, উৎপাদনশীলতা, সংক্রামক রোগব্যাধি, প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ দেশ নানা বিপর্যয়ের সম্মুখীন হওয়া। এতে দেশের ১৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই মহাবিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে হলে কৃষি খাতের বাইরের খাতগুলোতে কর্মসংস্থানের হার বাড়ানো, বিরান ভূমিগুলোতে পরিকল্পিতভাবে নতুন বনায়ন সৃষ্টি, জলাশয় ও জলমহালগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, দখল হওয়া খাল ও নদীগুলো উদ্ধার করে স্বাভাবিক গতিপথ সৃষ্টি, সময়মতো খাল ও নদীগুলো ড্রেজিং করে নাব্যতা বজায় রাখা, শহর ও নগরের জনজীবনের নিত্য সৃষ্টি ময়লা-আবর্জনা স্বাস্থ্যকর উপায়ে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা স্তূপাকারে দিনের পর দিন না রাখা, স্বল্প পরিসর থেকে বৃহৎ পরিসরে বাগান ও বনায়ন সৃষ্টি করা, আবাসিক ভবনগুলোতে টব-বনসাই বা অন্যান্য কৃত্রিম উপায়ে বাগান সৃষ্টি করা, আন্তর্জাতিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতি নিরসনে প্যারিস চুক্তি বিশ্বব্যাপী মেনে চলা, স্বল্প কার্বন কর্মসূচি গ্রহণ করাসহ নানা রকম সম্ভাব্য উপায়ে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে সবাইকে নিজ সামর্থ্য ও অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

► পৃথিবীর জলবায়ু যেভাবে বদলে যাচ্ছে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অবস্থা ভয়ানক রূপ নেবে। যেসব এলাকা বেশি ঝুঁকির ভেতর থাকবে, সেসব এলাকার মাথাপিছু জিডিপি এখনকার তুলনায় অনেক কমে যাবে। দেশের পাহাড়ি অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির ভেতর পড়বে।  দেশের বেশির ভাগ মানুষই জলবায়ু সম্পর্কে তেমন বেশি সচেতন না। পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পর্কে আলোচনা করার মাধ্যমে সবাই সচেতন হতে পারে। পরিবেশের সঙ্গে বায়ুদূষণ রোধ করতে হবে। ভূপৃষ্ঠ থেকে নির্গত ও বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এর সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। বন, জলাশয় সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। গ্যাস প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে। ময়লা-আবর্জনা যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা উচিত। ময়লা-আবর্জনা, কীটনাশক, সারসহ বিষাক্ত কোনো কিছু পানিতে ফেলা উচিত নয়। জমিতে প্রয়োগ করা সার জলাশয়ে পতিত হওয়ায় সমস্যা দেখা দেয়। মাটি দূষণমুক্ত রাখতে প্লাস্টিক, পলিথিন যত্রতত্র না ফেলা, বৃক্ষ কর্তন না করা এবং জলবায়ু সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে হবে।

মো. সোহেল মোল্যা

রামকান্তপুর, সালথা, ফরিদপুর।

 

► জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে বাংলাদেশের। প্রকৃতির রুদ্ররূপ এখনই দেখা যাচ্ছে—অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা, অকালবন্যা। প্রকৃতির ওপর মানুষের অত্যাচারই এর বড় কারণ। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় অসময়ে হিমালয়ের বরফ গলছে, নদী আর সাগরের জলে কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য পড়ে জল দূষিত হচ্ছে। বনাঞ্চল উজাড় হওয়া, জনবিস্ফোরণ—এসব কারণও এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। দক্ষিণাঞ্চলে প্রাকৃতিক খাল ভরাট করে মাছের চাষ করার ফলে মানুষ জলাবদ্ধতায় পড়ছে। নদী ভরাট আগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ুর প্রভাব নিয়ে এখন আর সংশয় প্রকাশ করার অবকাশ নেই। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দিন দিন বাড়ছে, বেড়ে যাচ্ছে খরাপ্রবণতা। বদলে যাচ্ছে বৃষ্টিপাতের ধরন, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস। বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এরই একটি পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংকের গবেষণা প্রতিবেদন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগ। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকার এরই মধ্যে ডেল্টা বা বদ্বীপ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। প্রয়োজন পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিরূপণ ও করণীয় নির্ধারণে অব্যাহত গবেষণা চালিয়ে যেতে হবে। নদী খননে গুরুত্ব দিতে হবে। জলাধার নির্মাণে অগ্রসর হলে দেশ খরা ও বন্যা থেকে অনেকটা অব্যাহতি পাবে। জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ অবশ্যই মোকাবেলা করতে হবে।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

► জলবায়ু পরিবর্তন কখনোই কোনো দেশ বা জাতির জন্য সুখকর হবে না। তবে এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য পরিবেশবান্ধব গাছ লাগানোর বিকল্প কিছু হতে পারে না। পরিবেশবান্ধব কলকারখানার নগরী গড়ে তুলতে হবে। ময়লা-আবর্জনা রিসাইকেল করে ব্যবহার করার ব্যবস্থা যত দ্রুত করা যাবে দেশ ও জাতির জন্য তত মঙ্গল হবে। পানিদূষণ, বায়ুদূষণ, মাটিদূষণ, অযথা কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে হবে। তাই দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে সরকারকে অবশ্যই জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবেলা করার চেয়ে জলবায়ুর পরিবর্তন যেন না হয় সে জন্য যথাযথ উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে হবে।

হোসাইন শাহাদাত

নোয়াখালী।

 

► জলবায়ুর পরিবর্তন রোধে প্রথম কাজ হলো বনায়ন। এখন আমাদের বন আছে মাত্র ৮ শতাংশ এলাকায়। এটাকে বাড়িয়ে কমপক্ষে ২৫ শতাংশ করতে হবে। নদীগুলোর নাব্যতা বাড়াতে হবে। ঝিল, জলাধার, পুকুর, নদী যেগুলো হারিয়ে গেছে সেগুলো উদ্ধার করা এখন খুবই জরুরি। প্রথম কাজ হচ্ছে কোন গাছ কাটা যাবে না সেটা ঠিক করা। সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস রোধ করতে উপকূল বরাবর চার মাইল গভীর বন সৃষ্টি করতে হবে। সেই বনে কোনো মানুষ স্থায়ীভাবে বাস করতে পারবে না। গভীর নলকূপ থেকে পানি নিয়ে যথেচ্ছ ব্যবহার অচিরেই বন্ধ করতে হবে এবং নদী থেকে পানি এনে চাষের কাজ করতে হবে।

মুস্তাকিম মাশুক

হাউজিং, কুষ্টিয়া।

 

► জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে, এটা গবেষণায় আসতে পারে। তবে আমি বিশ্বাস করি না যে এতে কোনো ক্ষতি হবে। ভবিষ্যদ্বাণী করে কোনো কাজ হয় না। আগেও ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল পৃথিবী ধ্বংসের ব্যাপারে; কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। প্রকৃতিগত কারণে হয়তো পৃথিবী ধ্বংস হবে; কিন্তু এভাবে ঘোষণা দিয়ে কিছু হবে না।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ এত দিন এ ব্যাপারে তেমন মাথা ঘামায়নি। কিন্তু আজ প্রকৃতি তাদের ওপরও রুদ্ররূপ ধারণ করেছে। শিল্প-কারখানায় উৎপাদন সীমার মধ্যে রাখতে হবে। বল্গাহীন উন্নয়ন বিশ্বের তথা নিজ স্বার্থেই আর কাম্য নয়। কার্বন নিঃসরণ কমাতে হবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে তা ‘জিরো’ প্রবৃদ্ধিতে নামিয়ে আনতে হবে আজকের মাত্রাকে ভিত্তি ধরে। তাদের অমানবিক আচরণ করা উচিত নয়। ‘শুধু আমরা আর মামারা বিশ্বে ফুলে-ফেঁপে থাকি, বাকিরা মরুক বা বাঁচুক, তাতে আমাদের কিছু যায়-আসে না।’ এই চণ্ডাল নীতি থেকে বিরত থাকতে হবে। বর্তমানে জলবায়ুর যে হাল, তা আর এক শতাব্দী চললে পৃথিবীতে ধনীরাও বাঁচতে পারবে না।

বিলকিছ আক্তার

হরিশ্বর, কাউনিয়া, রংপুর।

 

► জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা দিন দিন বেড়ে চলেছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষরাই। সমাধান একটাই। বৃক্ষরোপণ এবং বৃক্ষ নিধনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলা। বৃক্ষ জীবকুলকে ছায়া দিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। বৃক্ষের ছায়া মাটির পানিকে সহজে বাষ্পে পরিণত হতে দেয় না। বিস্তৃত বনাঞ্চলের বৃক্ষ জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ুকে ঘনীভূত করে বৃষ্টিপাত ঘটায়। বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস গ্রহণ করে বৃক্ষ অক্সিজেন গ্যাস ছেড়ে দেয়, যা মানুষ ও অন্যান্য প্রাণিকুল শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য গ্রহণ করে। এ ছাড়া বৃক্ষের প্রস্বেদনের জন্য পরিমাণমতো বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়।

সোলায়মান শিপন

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

 

► বাংলাদেশে কার্বন শোষণের জন্য প্রচুর পরিমাণ গাছ লাগাতে হবে। সাধারণ নিয়মে দেশের ২৫ শতাংশ ভূমিতে বনায়ন থাকতে হবে। সমুদ্র এলাকার পাশে যে খাসজমি আছে, তা পুরোটাই বনায়নে আনতে হবে। এটি শুধু সরকারি উদ্যোগে সম্ভব নয়। স্থানীয় লোকের সহযোগিতায় এ বনায়ন করতে হবে। সরকার ভূমি ও চারা দেবে, আর স্থানীয় জনগণকে অংশীদার করে এর বপন ও পরিচর্যা এবং দেখাশোনার কাজ করবে। পরিবেশ রক্ষায় এর চেয়ে স্বল্প খরচে আর কোনো ব্যবস্থা নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের আগ্রাসনে বাংলাদেশ আজ বিপর্যস্ত। এ বছর জুলাই-আগস্ট মাসে যে বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা নজিরবিহীন। আজ প্রকৃতি উন্নত দেশের ওপরও রুদ্ররূপ ধারণ করেছে। তাই আগের কথা ভুলে গিয়ে শিল্প-কারখানার উৎপাদন সীমার মধ্যে রাখতে হবে। বল্গাহীন উন্নয়ন বিশ্বের তথা নিজ স্বার্থে আর কাম্য নয়। 

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

 

► মানবসৃষ্ট কারণে পৃথিবীর জলবায়ু হাজার বছর ধরে পরিবর্তিত হয়ে আসছে। এই পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে এত দিন তেমন কোনো ধারণা ছিল না। হিমালয়, উত্তর মেরুসহ পৃথিবীর সর্বত্র কমবেশি আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে উষ্ণতা বেড়ে চলেছে অব্যাহতভাবে। ভূমিকম্প, ঝড়-তুফানে আক্রান্ত হয়ে আমরা যে অসহায়ত্ব অনুভব করি, তার চেয়েও হাজার গুণ ভয়াবহতার কথা বলা হয়েছে। পরিবার, সমাজ, গ্রাম, শহর, জেলা, দেশ, মহাদেশ সর্বত্র সচেতনতা বাড়াতে সম্মিলিত পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ অনিবার্য হয়ে পড়েছে। জলবায়ু অনুকূলে রাখার জন্য যা করা দরকার তার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। উষ্ণতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের মানবসৃষ্ট কারণগুলো যদি দূর করা যায় বা এসবের মাত্রা কমানো যায়, তবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিপদ থেকে আমরা রক্ষা পাব।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

► প্রতিবছর বলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমরা নানা দুর্যোগ ও অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। বিগত বছরে আইলা, নার্গিসের মতো দুর্যোগে কষ্ট পেয়েছি। এ জন্য যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, তা কাজে আসেনি। যা করণীয় তা হচ্ছে—এ ব্যাপারে বিশ্বকে এগিয়ে আসতে হবে। প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে।

ফারুক আহমেদ

বাগমারা, রাজশাহী।

 

► জলবায়ুর পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব রোধকল্পে এখনই কার্যকরী উদ্যোগ না নিলে ২০৫০ সাল নাগাদ ১৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ক্ষতির মুখে পড়বে। উপকূলীয় অঞ্চলগুলোই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্যারিসে ১০২টি দেশের প্রতিনিধি নিয়ে একটি সম্মেলন হয়েছিল। সেখানে যেসব স্বল্পোন্নত দেশ তাদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ব্যাপারে বিশ্বনেতাদের আরো ভূমিকা দরকার। দেশীয় বিভিন্ন উদ্যোগও থাকতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চলে বৃক্ষরোপণ বাড়াতে হবে। নগরায়ণ পরিকল্পিত হতে হবে। বনাঞ্চল বাড়াতে হবে। কৃষিকে রক্ষার উপযোগী ব্যবস্থা নিতে হবে।

মো. তাওহীদ সরদার নাঈম

মিরাপাড়া, রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ।

 

► বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০৫০ সাল নাগাদ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে—এ ধারণা যৌক্তিক। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা, জমির লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাবে। ফলে কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হবে। গাছপালা ও প্রাণী ধ্বংস হয়ে যাবে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও নিচে নেমে যাবে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য ১. নদী খনন করে নাব্যতা বাড়াতে হবে; ২. গাছপালা কাটা বন্ধ করতে হবে; ৩. বৃক্ষ রোপণ করতে হবে; ৪. পরিবেশদূষণের কারণ রোধ করতে হবে এবং ৫. ইটভাটার কালো ধোঁয়া বন্ধের ব্যবস্থা করতে হবে।

জাহাঙ্গীর কবীর পলাশ

শ্রীধরপুর, বাড়ৈখালী, মুন্সীগঞ্জ।

 

► জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য মূলত মানুষ দায়ী। দেশে-বিদেশে নগরায়ণ ও শিল্পায়নের নামে ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে গাছপালা, জলাশয়, নদী-নালা, খাল-বিল। বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়ত নগরায়ণে ও শিল্পায়নে ধ্বংস করা হচ্ছে প্রকৃতির বৈচিত্র্যময়তা। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সাল নয়, তার আগেই মানুষ বিপর্যয়ে পড়বে। এই যে ঢাকা নগরী দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে, তার জন্য ধ্বংস হচ্ছে গাছপালা, কৃষিজমি, জলাশয় আর জীববৈচিত্র্য। এসব কারণেই জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে চলছে। জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবেলার ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছি। জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে এখনই অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্ধ করে দিতে হবে। গাছপালা, জলাশয়, নদী-নালা, খাল-বিল যা কিছু আছে ঠিক রাখতে হবে। জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে পারলে জলবায়ু ঠিক রাখা সম্ভব হবে। না হলে অনাগত দিনগুলো পৃথিবীর মানুষের জন্য ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভরসা করে যে শিল্পযুগের সৃষ্টি হয়েছে, তার দ্বারা সৃষ্ট উষ্ণায়ন জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য কম দায়ী নয়। তাই উষ্ণায়ন মোকাবেলায় বেশি দায়িত্ব পালন করতে হবে উন্নত দেশগুলোকে। গত ২০০ বছরে ওই দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি দূষণ ছড়িয়েছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে। অ্যান্টার্কটিকায় হিমবাহের স্তর গলছে, বাড়ছে সমুদ্রের পানির স্তর। পরিবেশবিদরা জানাচ্ছেন, জলবায়ুর এই খামখেয়ালির পেছনে রয়েছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপারে প্যারিসে ১৯৬টি দেশ সমবেত হয়ে একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছিল। এতে বলা হয়েছিল, পৃথিবীর তাপমাত্রা যেন বর্তমানের চেয়ে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না বাড়ে। সেটা নিশ্চিত করাই হোক বিশ্বের লক্ষ্য। আমাদেরও সে লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে।

লিয়াকত হোসেন খোকন

রূপনগর, ঢাকা।

 

► জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে বিশ্বের সমুদ্র উপকূলবর্তী যেসব দেশ সংকটের মধ্যে আছে তার অন্যতম হলো বাংলাদেশ। এরই মধ্যে দেশের প্রায় ৫০ লাখ মানুষ এর বিরূপ আচরণের শিকার। জাতিসংঘের চলতি অধিবেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে পুরো জনসংখ্যার ৭৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্তের সম্মুখীন হবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এর জন্য আমরা কতটা দায়ী? উত্তর একটাই, উন্নত দেশগুলোর বায়ুদূষণের শিকার আমরা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি নিরসনে প্রথম করণীয়—বিশ্বকে প্যারিস চুক্তি সিওপি-২৪ মেনে চলা এবং ওই সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশকে সহায়তা প্রদান করা। সরকারের পক্ষ থেকে যেসব কর্মসূচি; যেমন—স্বল্প কার্বন কর্মসূচির আওতায় সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন; কৃষি, জনস্বাস্থ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করা এবং এসব খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করা।

নাজমুল করিম ফারুক

তিতাস, কুমিল্লা।

 

► পরিবেশদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বব্যাপী সমস্যা হলেও এর জন্য যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তার মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি গড়ে ১.৮ শতাংশ করে কম হতে পারে। চলতি শতাব্দীর শেষে এ ক্ষতি ৯ শতাংশ হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এরই মধ্যে বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব দেখা যাচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৩২০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়। পরিবেশদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে বহুমুখী সমস্যা দেখা দিয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে খাদ্য উৎপাদনেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে। যেহেতু বিশ্বের ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোই এ সমস্যার জন্য দায়ী। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশসহ ১০টি দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অদূর ভবিষ্যতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকা বাড়বে। শিল্পোন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ আদায়ে চাপ অব্যাহত রাখতে হবে। দেশের জনগণকেও পরিবেশদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। ২৫ শতাংশ বনভূমির প্রয়োজনীয়তা বোধ করতে হবে। উপকূলবর্তী এলাকায় ব্যাপক বনায়ন করতে হবে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশে বনভূমির পরিমাণ দ্বিগুণ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিপ্লব বিশ্বাস

ফরিদপুর।

 

 



মন্তব্য