kalerkantho


নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার ভালো, তবে...

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ইলেকট্রনিক ভোটিং বাংলাদেশে ভোটগ্রহণের একটি নতুন পদ্ধতি। নতুন বলেই একে নিয়ে রয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব, সংশয় ও জিজ্ঞাসা। এসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে না জানার প্রশ্নটিও। অনেকেই জানে না বিষয়টি আসলে কী? বাংলাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের সুবিধা ও অসুবিধা কতটুকু? এতে ব্যালট কাগজে সিল মারার পরিবর্তে ভোটার পছন্দের প্রতীকের পাশের সুইচ টিপে ভোট দিতে পারে। ইভিএমের ভালো দিক—ইভিএম ব্যবহারের ফলে ব্যালট ছাপানোর খরচ ও সংশ্লিষ্ট লোকবলের খরচ সাশ্রয় হবে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একটি জাতীয় নির্বাচনে এক হাজার ৮৭ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। একটি মেশিন দিয়ে চার-পাঁচটি জাতীয় নির্বাচন করা সম্ভব। চাইলে এটা ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন বা উপনির্বাচনেও কাজে লাগানো যাবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ভোটারের ভোট বাতিল হবে না। ভোটের তথ্য মেশিনে প্রায় ১০ বছর ধরে অবিকৃত অবস্থায় থাকবে। এতে ইলেকট্রিক শক খাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। প্রিসাইডিং অফিসার ইচ্ছা করলেও একজন ভোটারকে একাধিক ভোটদানের সুযোগ করে দিতে পারবেন না। প্রতি মিনিটে পাঁচটির বেশি ভোট দেওয়া যাবে না। কম সময়ে ভোট গণনার কাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালীদের দ্বারা কেন্দ্র দখলের পর পোলিং এজেন্টদের নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ক্ষেত্রে সর্বাধিক সংখ্যক ভোটের মালিক হতে পারে প্রভাবশালী মহল। এই পদ্ধতিতে ব্যালট ছিনতাই সম্ভব। বিশ্বে বাংলাদেশের একটি দুর্নীতিগ্রস্ত্ত ভাবমূর্তি রয়েছে। তাই গোপনে যে ইভিএম সরবরাহ করা হবে না এমন নিশ্চয়তা আশা করা যায় না। অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতা পেলে ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে কয়েক শ মিটার দূর থেকেও কন্ট্রোল ইউনিট নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে। বিভিন্ন কারণে পৃথিবীর প্রায় ৮৫ শতাংশ দেশেই এই পদ্ধতি ব্যর্থ হয়েছে। এর পেছনে মেশিন যতটা না দায়ী ছিল তার চেয়ে বেশি ছিল রাজনৈতিক ও অন্যান্য কিছু সমস্যা। বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে। নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার ভালো। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ভোটারদের ইভিএমের ব্যবহার শেখানো এবং জনগণকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা জরুরি।

এ কে এম আলমগীর

ও আর নিজাম রোড আ/এ, চট্টগ্রাম।



মন্তব্য