kalerkantho


ঈদ যাত্রায় সমন্বিত পরিবহনসূচি প্রয়োজন

১৮ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



ঈদ যাত্রায় সমন্বিত পরিবহনসূচি প্রয়োজন

ঈদে বাড়ি ফেরা মুসলমানদের রেওয়াজ। তাই এ সময়ে সব পথেই বাড়তি চাপ পড়ে। ফলে বিড়ম্বনা-ভোগান্তিতে পড়তে হয়। দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ে। যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা মানসম্মত নয় বলে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। পরিবহন মালিক-শ্রমিক পক্ষ ও তত্ত্বাবধানকারী কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হলে ভোগান্তি ন্যূনতম মাত্রায় রাখা সম্ভব হতো। কিন্তু পরিবহন খাতে কাঙ্ক্ষিত ব্যবস্থা এখনো নেই। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো পরিবহনব্যবস্থা সুশৃঙ্খল হয়নি। আন্দোলনের কারণে ফিটনেসহীন গাড়ি ও লাইসেন্সহীন চালক রাস্তায় নামছে না। বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার যদি সড়ক, রেল ও নৌপথের পরিবহনগুলোর সমন্বিত সূচি তৈরি করে, তাহলে ভালো হয়। সব পথ নিরাপদ রাখার ব্যবস্থাও করতে হবে। টেলিফোনে ও ই-মেইলে কালের কণ্ঠ’র পাঠকরা এ অভিমত জানিয়েছেন

 

► ঈদে ঘরে ফিরতে মানুষ হাজারো বিড়ম্বনার সম্মুখীন হয়। এই বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পেতে যানবাহনের কৃত্রিম সংকটের অবসান ঘটাতে হবে। যত্রতত্র অবৈধ গাড়ি পার্কিং না করা ও অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ইউটার্ন না নেওয়ার প্রতি ট্রাফিকদের নজর রাখতে হবে। রিকশা, ঠেলাগাড়ি, ট্রাক, লরিসহ সব যানবাহনের ড্রাইভারকে যথাযথ ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। সড়ক-মহাসড়কের ওপর বারোয়ারি পণ্যের মেলা ও হাট-বাজার বিশৃঙ্খলভাবে না বসিয়ে এবং নানা রকম পণ্য খালাসের জন্য সংশ্লিষ্ট গাড়ি না থামিয়ে ওই সব রাস্তা যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। সড়ক-মহাসড়কের যেটুকু প্রশস্ততা আছে তার উপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তবে এসব সমস্যার সমাধান কোনো তাত্ক্ষণিক বিষয় নয়। এ জন্য সুপরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন। উৎসব যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা আগে থেকে নেওয়া গেলে অনেক সমস্যা দূর করা সম্ভব। সবার ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন হোক, এমনটাই প্রত্যাশিত।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

 

► এখন যা করণীয় : যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী রাস্তা দ্রুত মেরামতের মাধ্যমে যান চলাচল উপযোগী করে গড়ে তোলা। টিকিট কালোবাজারি রোধ করা। কাউন্টার থেকেও উচ্চ মূল্যে টিকিট বিক্রি হয় তা রোধ করা। ট্রেনের ইঞ্জিন ও বগি বৃদ্ধি করা। সম্ভব হলে অতিরিক্ত বাসের ব্যবস্থা করা। সড়ককে যানজটমুক্ত রাখা। যানবাহন যত্রতত্রভাবে চালানো, যানবাহনকে রং সাইডে নিয়ে আসার জন্য বেশির ভাগ যানজটের সৃষ্টি হয়।

ড্রাইভাররা যেন সুশৃঙ্খলভাবে যানবাহন পরিচালনা করে তার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ ও হাইওয়ে পুলিশকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ব্যবস্থা করা। ঘষামাজা করা পুরনো বাস ও লঞ্চ যেন কোনোভাবেই চালু করতে না পারে সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। ট্রাফিক সিগন্যালের জন্য যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে কি না তা খেয়াল রাখতে হবে। নিয়ন্ত্রণহীন ছোট ও বড় সব গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া

লাকসাম, কুমিল্লা।

 

► ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা উচিত। সম্মিলিত প্রতিরোধ ছাড়া ঈদে নির্বিঘ্নে ঘরে ফেরার নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়। অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি বাজেয়াপ্ত করতে হবে। নিয়ম ভঙ্গকারীকে শাস্তি দিতে হবে।

সাবিনা সিদ্দিকী শিবা

ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ।

 

► মাত্রাতিরিক্ত যাত্রী বহনে নিষেধাজ্ঞা জারি এবং এ বিষয়ে চালক ও পরিবহন মালিকদের সহযোগিতা দরকার। ব্ল্যাকে টিকিট বিক্রি এবং যাত্রীদের হয়রানিমূলক কাজ বন্ধ করতে হবে। চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্নভাবে প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে যাত্রীদের রক্ষার্থে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। যানজট সমস্যার সমাধানে দক্ষ ও অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ করতে হবে। এ ছাড়া যাত্রা নিরাপদে সম্পন্ন করতে জনসাধারণের সার্বিক সহযোগিতা এবং সচেতনতা প্রয়োজন।

তামান্না ইসলাম

বাঁকা চড়াইল, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

 

► ঈদে যানবাহনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অত্যধিক যাত্রী বহন ও যাত্রীদের জিম্মি করে মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করতে হবে। ট্রাফিক পুলিশের অপ্রতুলতা ও গাফিলতি বন্ধ করতে হবে। চালকদের যথেচ্ছভাবে গাড়ি চালানো, ভিউ মিরর ছাড়া গাড়ি চালানো এবং অবৈধ পার্কিং, অনিয়মতান্ত্রিক ইউটার্ন, ট্রাফিক আইন না মানাসহ নানা কারণে অসহনীয় যানজট সৃষ্টি হয়। এসব বন্ধ করতে হবে। রাস্তায় পণ্যের মেলা ও হাট-বাজার বন্ধ করতে হবে। পিরিয়ডিক মেইনটেন্যান্স এবং যথাযথ চেকআপ ব্যতিরেকে যাত্রী বহন অনুপযোগী গাড়িগুলো রোধ করতে হবে। অবৈধভাবে দূরপাল্লার যাত্রী বহনে শাস্তি দিতে হবে। সংঘবদ্ধ পকেটমার ও অজ্ঞান পার্টির অপারেশন স্পটগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা পুলিশের নজরদারি দরকার। নৌ, সড়ক ও রেল সংস্থার মালিক সমিতি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে হবে।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।

 

► সবার জন্য দরকার ধীরেসুস্থে যাতায়াত করা। এতে চলার পথে ঝুঁকি থাকে না। অদক্ষ ড্রাইভারের জন্য দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়। তাড়াহুড়ো দেখা যায় যাত্রীদের মধ্যেও। জনজীবন হয়ে পড়ে ঝুঁকির মুখে। সে জন্য হাতে সময় নিয়ে যাত্রা করা উচিত।

মো. সোহেল মোল্যা

সালথা, ফরিদপুর।

 

► জাতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে যানজটপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে অতীত অভিজ্ঞতায় প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে একমুখী যান চলাচল ব্যবস্থা, অমান্যকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা, মডেল আউট ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান, সুষ্ঠু ট্রাফিক নিশ্চিত করতে মোবাইল টিম পরিচালনা, বিকল ও দুর্ঘটনাকবলিত যান রাখার আলাদা ব্যবস্থা করা, রাস্তায় বাজার বসতে না দেওয়া এবং ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তা করার লক্ষ্যে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করতে পারলে ঈদ যাত্রা অনেকটাই নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে। বিআরটিএ ও ডিএমপি এবং মালিক ও শ্রমিক সমিতির মাধ্যমে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করতে হবে। ঈদ যাত্রায় মহাসড়ক যানজটমুক্ত রাখতে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ, অনুপযোগী গাড়ি রাস্তায় না নামানো ও উল্টোপথে গাড়ি চালানো বন্ধ রাখতে হবে।

সোলায়মান শিপন

কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

 

► ঈদে নাড়ির টানে মানুষ ছুটে চলে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। এই আনন্দের যাত্রায় কিছু সঠিক পরিকল্পনার প্রয়োগ আপনার যাত্রাকে করতে পারে আরো উপভোগ্য। হোক ট্রেন, বাস বা লঞ্চ; গাদাগাদি করে চড়তে যাবেন না।

মো. শাহাআলম ইসলাম

আকবপুর, মিঠাপুকুর, রংপুর।

 

► সড়ক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অরাজকতা হঠাৎ করে দূর হবে না। তবু চালকরা আরো বেশি সতর্ক হতে পারত, তারা ট্রাফিক নিয়ম-কানুন মেনে গাড়ি চালাতে পারত, মানুষ আরো সচেতন হতে পারত। কিন্তু কে শোনে কার কথা! প্রতিদিনই সড়কে মানুষ মারা যাচ্ছে। সড়ক ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল করতে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। মালিক, শ্রমিক, চালক ও প্রশাসনসহ সব পক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হবে। ঈদ যাত্রা শুরু হয়ে গেছে। গত ঈদুল ফিতরে সরকারের আগাম পরিকল্পনা ও পদক্ষেপের ফলে ঈদ যাত্রা অন্যবারের থেকে স্বস্তিদায়ক ছিল। সড়ক সংস্কারের কাজ দ্রুত শেষ করা উচিত। গাড়িতে অতিরিক্ত যাত্রী তোলা ও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া বন্ধ করতে হবে। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না। যেখানে-সেখানে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে হবে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশবাসীর আন্দোলনের পর এবারের ঈদ যাত্রা চালকসহ সবার জন্য একটা পরীক্ষা। লাইসেন্স ও ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো গাড়ি যেন সড়কে চলাচল না করে, পরিবহন সংকট যেন না হয়। কেউ যেন দুর্ঘটনার শিকার না হয়। তাই পুলিশকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পরিবহন মালিকরাও সড়ক দুর্ঘটনার দায় এড়াতে পারে না। মালিক ও চালকদের অতি লোভ ছাড়তে হবে। চালকদের স্বাভাবিক বিশ্রাম দিতে হবে। চুক্তিভিত্তিক গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে। সরকারের কঠোর পদক্ষেপ, আইনের প্রয়োগ, মালিকপক্ষের দায়িত্ববোধ ও চালকদের মধ্যে সতর্কতা ও ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হলে শুধু ঈদে নয়, সারা বছরই চলাচল স্বস্তিদায়ক হবে।

সাধন সরকার

ঢাকা।

 

► শুধু ঈদে নয়, সব সময়ই যাত্রা নির্বিঘ্ন করাটা সবারই চাওয়া। দেশের বর্তমান চালচিত্র দেখলে এটা বোঝা যায়, প্রত্যেক দুর্ঘটনার পেছনে পথচারী, যাত্রীরাই বেশির ভাগ দায়ী। শহরের মধ্যে ফুট ওভারব্রিজগুলো আমরা ব্যবহার করি না। ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে পারি না। কারণ ফুটপাত দিয়ে হাঁটা কষ্টকর। প্রধান বাধা ফুটপাত দখল। দোকানিরা তাদের সামনের ফুটপাত দখল করে রেখেছে। বাধ্য হয়েই পথচারীদের রাজপথ ধরে হাঁটতে হয়। রাজধানীর ফুট ওভারব্রিজগুলো হকারদের দখলে। জনসাধারণের নিরাপদের জন্য ফুট ওভারব্রিজ তৈরি করা হয়েছে। ফুটপাত পরিষ্কার থাকলে পথচারী দ্রুত পারাপার হতে পারে। আমরা চলাচলের সময়ও প্রতিযোগিতা করে চলি। যানবাহনে উঠতে গেলেও প্রতিযোগিতা করি। অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে যানবাহনে চলতে নিষেধ করার পরও জোর করে যানবাহনে উঠি। এগুলো দুর্ঘটনার কারণ। নিজ নিজ জায়গা থেকে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে। সবার যদি একটাই চিন্তা থাকে, আমি যাব; এটাই হলো বিপদ। আমরা যদি সচেতন হই তাহলে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ দুর্ঘটনা রোধ হবে। সম্প্রতি পুলিশ প্রশাসন খুলনার রাস্তায় মাইকিং করেছিল রিকশা, ইজি বাইক যেন এক সিরিয়ালে চলে। এলোমেলোভাবে কোথাও পার্কিং না করে। এই প্রচারণা চলেছে মাত্র দুদিন। আবার যা তা-ই। অতএব নিয়ম প্রয়োগ শতভাগ করতে হবে। তবেই পরিপূর্ণভাবে রোধ করা সম্ভব হবে সড়ক দুর্ঘটনা, পানিপথে দুর্ঘটনা এবং আকাশপথে দুর্ঘটনা।

মোশাররফ হোসেন স্বাধীন

স্যার ইকবাল রোড, খুলনা।

 

► ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রধান করণীয় হলো সড়কে গাড়ি চলাচলের লাইন নির্ধারণ করা এবং চলাচলে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। ইমার্জেন্সি লাইন, দূরপাল্লার গাড়ি, লোকাল গাড়ি ও রিকশার লাইন ঠিক করে দিতে হবে। যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। দ্রুতগামী গাড়িগুলোকে সাইড দিতে বাধ্য করতে হবে। সড়কের ওপর পশুর বাজার ও গাড়ি পার্কিং নিষিদ্ধ করতে হবে। নিরাপদ যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন ও আন্তরিক হতে হবে।

এস এম ছাইফুল্লাহ খালেদ

কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।

 

► ঈদ যাত্রায় বড় ভোগান্তি হয়ে দাঁড়াতে পারে শ্রমিক বিক্ষোভ। শ্রমিকদের বেতন যাতে মালিকপক্ষ সময়মতো পরিশোধ  করে—এ ব্যাপারে শিল্প মন্ত্রণালয়, শ্রম মন্ত্রণালয়, বিজিএমইএসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরো সচেতন হতে হবে। ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে লেন ও আইন মেনে গাড়ি চালানো আর ভাঙা সড়ক প্রস্তুতকরণ, দুটিই বড় কাজ। হাইওয়ে থেকে সব ধরনের কাঁচাবাজার ও ছোট গাড়ি তুলে দেওয়া হোক। এমনকি হাইওয়ের মুখে যাতে কোনো লেগুনা স্ট্যান্ড বা অটো স্ট্যান্ড না থাকে তাও খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

সাঈদ চৌধুরী

শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► সড়ক-মহাসড়কের দুরবস্থার কথা আমাদের অজানা নয়। কোনো না কোনো রাস্তায় খননকাজ চলছেই। ফলে দুর্ভোগে পড়তে হয় সাধারণ যাত্রীদের। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি পরিকল্পিত ও দক্ষতার সঙ্গে পরিবহনব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালিত করতে পারে, তাহলে যাত্রীদের ভোগান্তি বেশির ভাগই কমে যাবে। নৌপথেও দেখা যায় ফিটনেসবিহীন লঞ্চের উল্লাস। যাত্রীর চাপ নিয়ে ছুটে চলে। আনন্দ যেন বিষাদে রূপ না নেয়। সবার যাত্রা শুভ হোক, মঙ্গলময় হোক।

রাহাত রাব্বানী

মাওনা, শ্রীপুর, গাজীপুর।

 

► বাংলাদেশের সবচেয়ে নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ হলো রেল। সড়কপথে ট্রাফিক জ্যামের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসে বসে থাকতে হয়। তাই সড়কপথ ঈদের ছুটির আগে মেরামত করার ব্যবস্থা করতে হবে। নিয়ম ভঙ্গকারীর জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। রেলপথে বাড়তি ট্রেন সংযুক্ত করতে হবে। যাতে করে ঈদে ঘরমুখো মানুষ নিরাপদে বাড়িতে যেতে পারে। পথে হকারদের কাছ থেকে কোনো জিনিস কেনা ও খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ, জামালপুর।

 

► রাজধানীর লাখো লাখো মানুষ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে দু-এক দিন পরই। সবার যাত্রা নির্বিঘ্ন হোক, এটা আমাদের স্বাভাবিক প্রত্যাশা। দুর্ভাগ্যজনক যে প্রতিবছর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এ প্রত্যাশা পূরণ হয় না। এবারও এর ব্যতিক্রম হবে কি না বলতে পারছি না। ঈদ যাত্রার শুরু থেকেই মানুষ পদে পদে ভোগান্তির শিকার হয়। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ, বাস-লঞ্চে বাড়তি ভাড়া আদায়, তীব্র যানজটের ঝক্কি পেরিয়ে যারা যাত্রা শুরু করে, তাদেরও পড়তে হয় নানা বিড়ম্বনায়। দেশের বেশির ভাগ মহাসড়কের অবস্থাও নাজুক। ঈদ সামনে রেখে মানুষের দুর্ভোগ যথাসম্ভব কমিয়ে আনার চেষ্টা করবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ, এ আশা করি।

বিলকিছ আক্তার

হরিশ্বর, কাউনিয়া, রংপুর।

 

► মুসলমান ভাইদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান বছরে দুইবার। প্রতিবারই ভোগান্তি সয়ে বাড়ি যায় তারা। তিন মাস আগে থেকেই সরকার, রেল কর্তৃপক্ষ আর পরিবহন মালিক সমিতি যদি পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ভোগান্তি থেকে যাত্রীরা নিষ্কৃতি পায়। রেলের দায়িত্বে যাঁরা আছেন, তাঁদের বুঝতে হবে তাঁদের ঘরে যেমন শিশুসন্তান ও আত্মীয়-স্বজন আছে, যাত্রীসাধারণের ঘরেও রয়েছে। একই চিন্তা বাস মালিক সমিতিকেও করতে হবে। ঈদ উৎসবের কয়েক দিন আগে তড়িঘড়ি করে এটা সম্ভব নয়। সম্মিলিত প্রচেষ্টায়, লক্ষ্য সঠিক হলে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। গোঁজামিলে কিছুই সম্ভব নয়।

নিমাই কৃষ্ণ সেন

বাগেরহাট।

 

► সবাই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামের বাড়িতে যায়। যারা লঞ্চযোগে বাড়ি যায় তাদের অতিরিক্ত বোঝাই লঞ্চে ওঠা উচিত নয়। অনেকে গাড়িতে সিট না পেয়ে ছাদে ওঠে। তাতে গাড়ি ভারসাম্য হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়তে পারে। ঈদের সময় পরিবহন স্বল্পতায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যাদের না গেলেও চলে তারা যেন ঝুঁকি নিয়ে না যায়। কোনো পরিবহনেই যেন অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা না হয়, তা প্রশাসনকে দেখতে হবে।

মো. তাওহীদ সরদার নাঈম

মিরাপাড়া, রিকাবীবাজার, মুন্সীগঞ্জ।

 

► প্রথমেই সড়ক থেকে সব রকম ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালককে বিতাড়ন করতে হবে। মহাসড়কে গাড়ি চেকিংয়ের নামে পুলিশ যেন অযথা গাড়ি দাঁড় করিয়ে না রাখে। অল্প সময়ের জন্য হলেও র‌্যাব নামানো যেতে পারে। ট্রেন ও ট্রেনের বগি বাড়ালে মানুষের যাত্রা আরো সহজ ও নির্বিঘ্ন হতে পারে।

মিজানুর রহমান

বানাসুয়া, কুমিল্লা।

 

► মহাসড়কে যানজট নিরসনে বেশ কিছু করণীয় রয়েছে। মহাসড়কে নছিমন, করিমন, ভটভটি বন্ধ করা, সড়কের পাশ থেকে বাজার সরিয়ে নেওয়া, যানজটের স্পটে ক্রেনের ব্যবস্থা রাখা, বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ রাখতে রাখা এবং বিকল গাড়ি দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এ ছাড়া নৌপথে লক্কড়ঝক্কড় লঞ্চ-স্টিমার চলতে দেওয়া যাবে না, রেলের শিডিউল বিপর্যয় রোধ করতে হবে।

মো. মুস্তাকিম রহমান মাশুক

হাউজিং, কুষ্টিয়া।

 

► শুধু ঈদ যাত্রা কেন, সব যাত্রাই নির্বিঘ্ন করতে হবে। প্রতিবছর সড়কে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। প্রিয়জনের কান্না আর দেখতে চাই না। ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকারের তরফ থেকে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সড়কে অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলতে দেওয়া যাবে না।

মো. জামরুল ইসলাম

দক্ষিণগাঁও, সবুজবাগ, ঢাকা।

 

► ঈদ যাত্রায় লক্কড়ঝক্কড় মার্কা বাস ও লঞ্চ অবাধে চলাচল করার সুযোগ যেন না পায়। নৌপথে অনুমোদনহীন লঞ্চও যাতে চলার সুযোগ না পায়।  সড়কপথে বেসরকারি পরিবহন মালিকদের দাপটে বিআরটিসি বাস চলা প্রায় বন্ধ। অথচ রেল ও বিআরটিসি সার্ভিসের আওতা বাড়ালে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা সম্ভব। এ থেকে উত্তরণে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সদিচ্ছা, সততার বিকল্প নেই। ঈদ যাত্রা মানুষকে আরামদায়ক ও নিরাপদ করতে প্রশাসনকে নিতে হবে জোরালো ভূমিকা।

এ কে এম আলমগীর

ও আর নিজাম রোড, চট্টগ্রাম।

 

► ঈদ আসে আর মানুষের বিড়ম্বনা বাড়ে। এ যেন নিয়তির লিখন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ থেকে নিস্তার পেতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই একমাত্র ভরসা। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাত্ক্ষণিক কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। যাত্রাপথে পরিকল্পিতভাবে দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলেই ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করা সম্ভব। পাশাপাশি রাস্তার কাজ দ্রুত সমাপ্ত করতে হবে।

সাদিয়া আফরোজ মরিয়ম

লাকসাম, কুমিল্লা।

 

► বর্তমান সময়ে ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করা মোটেই সম্ভব নয়। তবে উন্নত দেশ হলে সম্ভব হবে। ঈদ যাত্রা সহনশীল করা যেতে পারে, নির্বিঘ্ন করা কঠিন। এ জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে—সড়ক ও মহাসড়কে হাট-বাজার এবং গাড়ি পার্কিং করা যাবে না। ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালককে সড়কে চলতে দেওয়া যাবে না। সড়কে সব রকম চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। সড়ক নির্বিঘ্ন করতে যাত্রীদেরও বিশেষ ভূমিকা আছে। এসব ঠিকমতো করা গেলে ঈদ যাত্রা অনেকটা নির্বিঘ্ন করা সম্ভব হবে।

আসাদুল্লাহ মুক্তা

উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।

 

► সড়ক, রেলপথ ও নৌপথ নির্বিঘ্ন করতে অবৈধ সব রকম বাজার ও দখলদারি বন্ধ করতে হবে। টিকিট যেন কালোবাজারি না হয়, এ জন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। সব খাতে প্রকৃত চালকই যেন যান চালাতে পারে, সে জন্য তদারকি দরকার।

কামরুজ্জামান

কলাবাগান, ঝিনাইদহ।

 

► রাস্তাঘাটের খানাখন্দ যত দূর সম্ভব চলাচল উপযোগী করে দিতে হবে। যানবাহনের মালিকদের দায়িত্বশীল হতে হবে। রেলস্টেশন, বাসস্টেশন, লঞ্চ-স্টিমার ঘাটে নজরদারি বাড়াতে হবে এবং যাত্রীসেবা বাড়াতে হবে। রেল, সড়ক ও নৌপথ কর্তৃপক্ষ সমন্বিত উদ্যোগ নিলে ঈদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন হবে।

এইচ কে নাথ

পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম।

 

► প্রথমত মহাসড়কগুলো যানজটমুক্ত রাখতে হবে। মহাসড়কে যানজট নিরসনে করণীয়—ফিডার রোড থেকে মহাসড়কে অল্প গতির যান উঠতে না দেওয়া, মহাসড়কে নছিমন, করিমন, ভটভটি চলাচল বন্ধ করা, সড়কের পাশ থেকে বাজার সরিয়ে নেওয়া, যেসব স্পটে যানজট হয় সেখানে পুলিশের পক্ষ থেকে ক্রেনের ব্যবস্থা রাখা, সব বাস টার্মিনাল ও মহাসড়কে পর্যাপ্ত পুলিশের ব্যবস্থা রাখা, বিকল হওয়া গাড়ি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া, গার্মেন্ট শ্রমিকদের একই দিনে ছুটি না দেওয়া এবং মহাসড়কে লক্কড়ঝক্কড় মার্কা বাস চলতে না দেওয়া। এ ছাড়া ফিটনেসবিহীন লঞ্চ-স্টিমার নৌপথে চলতে দেওয়া যাবে না, রেলপথেও যাত্রী বিড়ম্বনা রোধে পদক্ষেপ নিতে হবে।

সাকিব আল হাসান

রৌমারী, কুড়িগ্রাম।

 

► ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রথমেই সরকারের সদিচ্ছার বিশেষ প্রয়োজন। যোগাযোগ ব্যবস্থায় সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দেখভাল প্রয়োজন। ট্রেনের টিকিট যেন সোনার হরিণ। এ ব্যাপারে কথা বলতে গেলে হয়রানির শিকার হতে হয়। কমলাপুরে ২৬টি টিকিট কাউন্টার আছে, সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে। টিকিট যাঁরা বিক্রি করেন তাঁদের কাজে গতি বৃদ্ধি প্রয়োজন। প্ল্যাটফর্ম থেকে অতিরিক্ত দোকান তুলে দিতে হবে। বাথরুমগুলো পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। সব স্টেশনে টিকিট চেক করার ব্যবস্থা করতে হবে। সড়কপথে বিআরটিসি দায়িত্ব ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দিলে ভালো হয়। নদীপথে এত ভোগান্তি নেই, তবে ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রী তোলা বন্ধ করতে হবে। সড়কের সংস্কারকাজ নিম্নমানের। এসব ব্যাপারে প্রথমে সরকারকেই তৎপর হতে হবে।

আবদুল খালেক

দাসপাড়া, নরসিংদী সদর।



মন্তব্য