kalerkantho


অস্বীকার করার মানসিকতা ছাড়তে হবে

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



প্রশ্নপত্র ফাঁস আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর চরম কুঠারাঘাত। শত চেষ্টা করেও একে রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না নানা কারণে। প্রথম ও প্রধান কারণ যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা উপর্যুপরি অস্বীকার করার প্রবণতা এবং এ সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন না হওয়া। দ্বিতীয়ত, কোচিং সেন্টারগুলোর দীর্ঘ হাত। বাজারে জোর গুজব আছে, এ দেশে প্রশ্ন ফাঁসের বাণিজ্যিক হোতা একটি বিশেষ রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের ছত্রচ্ছায়ায় প্রতিষ্ঠিত নামিদামি কোচিং সেন্টারগুলো। মোটা অঙ্কের পুঁজি খাটিয়ে প্রথমে তারাই তাদের কোচিং সেন্টারগুলো টিকিয়ে রাখতে, সফলতা দেখাতে এবং রমরমা বাণিজ্য করতে প্রশ্নপত্র ফাঁস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। সেটাই আজ উন্নত প্রযুক্তির বদৌলতে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, গোষ্ঠী ও ব্যক্তির মধ্যে সংক্রামিত হয়েছে ব্যাপক হারে। এই কোচিং সেন্টারগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছেন প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট প্রেসের কর্মী, খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নৈতিক স্খলনজনিত রোগে আক্রান্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা, সুবিধাবাদী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের তথাকথিত ছাত্রনেতারা এবং পরীক্ষাকেন্দ্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাঘব বোয়ালরা। অন্যদিকে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ প্রশ্নপত্র ফাঁসের অকাট্য প্রমাণ পাওয়া সত্ত্বেও তা স্বীকার করে না। ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীরা অধরাই থেকে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে দেশের বিভিন্ন চৌকস গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সক্রিয় সহায়তায় এর মূলোৎপাটন সম্ভব।

ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী।


মন্তব্য