kalerkantho


পারস্পরিক আস্থা ও সহনশীলতা দরকার

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ও ইতিহাসে সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন বলতে যা বোঝায়, মানুষের মৌলিক অধিকার বলতে যা বোঝায়, বলতে গেলে সেভাবে তা কখনোই প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই রাষ্ট্রক্ষমতায় কে এলো বা গেল, তা নিয়ে মানুষের খুব একটা আগ্রহ কখনোই ছিল না বা নেই। তবে বাংলাদেশের মানু্ষ গণতন্ত্রমনা ও ভোটপাগল। নির্বাচন এ দেশের মানুষের কাছে যেন এক উৎসব। পাশাপাশি মানুষ তার মৌলিক ও মানবিক অধিকারগুলোর অতি সামান্য পেলেই তুষ্ট থাকে। তাদের চাওয়া একটাই—একটি স্থিতিশীল পরিবেশ ও জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন। গণতান্ত্রিক দেশে ভোট প্রদান নাগরিকদের মুখ্য অধিকার। কিন্তু বিগত নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দল নির্বাচনে আসতে না পেরে দেশজুড়ে ঘটিয়েছিল স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ সহিংসতা; যার বলি হতে হয়েছে সাধারণ নিরীহ মানুষকে। এ বছরের শেষের দিকে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে জনমনে ভয়-শঙ্কা-উৎকণ্ঠা ততটাই ঘনীভূত হচ্ছে। কারণ একটাই, দেশে নির্বাচনকালীন সহিংসতা যেন এক প্রাচীনতম সংস্কৃতি। ওদিকে দুর্নীতি মামলায় খালেদার রায়ের দিন ঘনিয়ে আসছে। এরই মধ্যে জনমনে সেই রায়-পরবর্তী সম্ভাব্য পরিস্থিতি মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার করতে আরম্ভ করেছে। নির্বিচারে ধরপাকড়-গ্রেপ্তার চলছে। পাশাপাশি এই ভীতি সহিংসতার, এই ভীতি অরাজকতার। একে দেশের মানুষ ঘৃণা করে। এর থেকে মানুষ মুক্তি চায়। কিন্তু মুক্তি কোন পথে? সত্যি বলতে কি, যেহেতু এখানে আইনের শাসন চলে না, তাই আইন তার নিজস্ব গতিতে এগোতে পারে না। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে মধ্যস্থতা করার ক্ষমতা কারো নেই। আওয়ামী লীগ-বিএনপি তারা নিজেরাই একেকটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান, দেশের মানুষের ভোটে তারা একাধিকবার নির্বাচিত। তাই নির্বাচনের আগের এ সময়টুকুতে যেকোনো ধরনের অরাজকতা, অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতা রোধে তাদের উভয় পক্ষের শুভবুদ্ধির উদয় হলে জনগণের কাছে সামান্য হলেও ঋণমুক্ত হবে বৃহৎ দুটি রাজনৈতিক দল। তাই নির্বাচনী বছরটিকে সংঘাতমুক্ত ও স্থিতিশীল রাখতে দল দুটির শুভবুদ্ধি ও নমনীয়তা প্রদর্শনের বিকল্প নেই।

 

মুফতি আবদুল্লাহ আল হাদী সোহাগ

ব্যাংক কলোনি, সাভার।



মন্তব্য