kalerkantho


শিক্ষাঙ্গনের পবিত্রতা রক্ষা করুন

২৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



গোটা জাতির মুখে চুনকালি লেপন করে দিচ্ছে কোনো পক্ষ। অসহায় একজন ছাত্রী বুকে ওড়না চেপে তার আব্রু রক্ষার চেষ্টা করছে। অন্য একজন ছাত্রী তার ওড়না টেনে নিচ্ছে। সে কি ছাত্রী না বহিরাগত জানি না। যত বড় অপরাধীই হোক না কেন, একটি শিক্ষাঙ্গনে কী করে এমন অরুচিকর দৃশ্যের সৃষ্টি হয়? নৈতিক শিক্ষা, সুশিক্ষা, আদর্শ ভূলুণ্ঠিত দয়া, মায়া, মমতা বাতাসে ভেসে বেড়ায়। ছাত্রদের হাতে যখন লাঠিসোঁটা, হকিস্টিক আর অস্ত্র থাকে, তখন মনে হয় যেন এর থেকে বীভৎস রূপ আর কিছু হতে পারে না। সহনশীলতা, আদর্শ আর নমনীয়তা, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা, দেশ গড়ার কাজে নিয়োজিত থাকা, জাতি ও দেশের হাল ধরে গোটা জাতিকে পরিচালিত করবে শিক্ষিত ছাত্রসমাজ। দেশবাসী ছাত্রসমাজের কাছ থেকে বিশেষ করে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে এটাই প্রত্যাশা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাওয়া লেগেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে শিক্ষাঙ্গনে। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য আন্ডারওয়ার্ল্ডের অপরাধী ও জঙ্গিদের ব্যবহার করা হতে পারে। গভীরভাবে এটা পর্যালোচনা করতে হবে। ফুল যেমন তার সৌরভ সুগন্ধ বিতরণ করে, সুশিক্ষা তেমনি তার আদর্শ মানবসমাজকে ছড়িয়ে দিতে পারে। আর এই সুশিক্ষার বৃক্ষটি রক্ষণাবেক্ষণ করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। দেশ ও জাতি এটাই প্রত্যাশা করে। স্মরণযোগ্য ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা অন্দোলন, ১৯৬৯ সালের অগ্নিঝরা গণ-অভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাসংগ্রাম। ঐতিহ্যকে ভুলে গেলে চলবে না।

 

নিমাই কৃষ্ণ সেন

মেইন রোড, বাগেরহাট।



মন্তব্য