kalerkantho


পরবর্তী প্রজন্মকে সুন্দর একটি দিন উপহার দিতে পারিনি

২৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



একজন নারী হয়ে আমি লজ্জিত নই, একজন মানুষ হয়ে আমি লজ্জিত। একজন মা হয়ে আমি লজ্জিত, কারণ আমার পরের প্রজন্মের জন্য একটা সুন্দর দিন উপহার দিতে পারিনি। আমি স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়ে লজ্জিত, কারণ ৪৭ বছর আগে স্বাধীনতা এলেও এখন পর্যন্ত আমার, আমার মায়ের, আমার বোনের, আমার সন্তানের মুক্তি আসেনি। মুখে বলতে আমার মুখ বোবা হয়ে আসে, কার কথা বলব, কার কাছে বলব, আমার এক কন্যা সন্তানের বস্ত্রহরণ হচ্ছে আরেক নারীর হাতে। আমার সন্তানের লজ্জা কোথায়? এই বস্ত্র ওর হরণ হয়নি, এটা বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লজ্জা, এটা গোটা দেশের লজ্জা।

কথায় কথায় মাথামোটারা বলে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা ভালো আছে, নাগালে আছে। যারা নিজের সন্তানকে (দলের জুনিয়রদের) নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, যারা নিজের সন্তানকে আসল-নকল শেখাতে পারে না, শিক্ষা দিতে জানে না, তারা কিসের পরের প্রজন্ম তৈরি করবে? কাদের হাতে যাবে আমাদের লাখ লাখ শহীদের রক্তে আনা এই স্বাধীন দেশের দায়িত্ব! এখনো রাজনীতির মাঠে যেসব সিনিয়র নেতা আছেন, যাঁদের আমরা সত্যিকার অর্থে দেশনেতা বলে জানি, তাঁরা অনেকেই ছাত্ররাজনীতি থেকেই রাজনীতি শিখেছেন। দেশের জন্য নিজেকে বিসর্জন দিতে এক পা-ও পিছিয়ে আসেননি। তাঁরা সিনিয়রদের যেমন সম্মান দিয়েছেন, তেমনি রাজনীতি শিখেছেন। কিন্তু ছাত্ররাজনীতির নামে এখন যা হচ্ছে, তা হলো দালালি, পকেটের ধান্ধা; সাধারণের জন্য তা অনিরাপত্তার কারণ। আজ এমন একটি ঘটনা আনাচে-কানাচে, গলিতে বা মফস্বলে হলে বলা হতো অন্যায়; কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যা হয়েছে, তার নিন্দা জানাতেও বিবেকে লাগে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এর আগে একুশে ফেব্রুয়ারিতে, পহেলা বৈশাখে যেসব ঘটনা ঘটেছে তার দায় কে নেবে? জনগণের রাজস্বের টাকা দিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকদের রাখা হয়েছে নেতাদের পেছনে ছোটার জন্য নয়, একজনের পেছনে ১০ জনকে কাজে লাগাতে নয়। দেশের, জনগণের কাজ করার জন্যই তাদের রাখা। কোথায় ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিযুক্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন? কোথায় চুপ করে বসে ছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এমন এলাকায় মেয়েদের নিরাপত্তা দিতে পারে না যারা, তাদের পদে বসে থাকার যোগ্যতা কিসের? আইন নাকি সব কিছুর ঊর্ধ্বে, এ কথা শুনতে শুনতে কান-রোগে ধরেছে। অথচ জনগণ ঠিকই দেখে, আইন কাদের পকেটে। পকেটের আইন বন্ধ না করলে আমাদের সন্তানদের আমরা ঘরের পিলার বানিয়ে রাখতে বাধ্য হব। লম্বা লম্বা ভাষণ দেওয়ার লোকরা আজ কোথায়? ওরাও কি পকেটে ঢুকে আছে!

 

রহিমা আক্তার মৌ

চাটখিল, নোয়াখালী।



মন্তব্য