kalerkantho


অন্য রকম

মেয়েরাই চালায় কিহনু দ্বীপ

অমর্ত্য গালিব চৌধুরী

৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মেয়েরাই চালায় কিহনু দ্বীপ

আদিম যুগে পৃথিবীতে অনেক গোত্রই পরিচালিত হতো মেয়েদের দ্বারা। তবে আধুনিক পৃথিবীতে পরিস্থিতি আর সে রকম নেই। কিছু আদিবাসী গোত্রভিত্তিক সমাজ ছাড়া সর্বত্র আজ পুরুষতন্ত্রের দাপট।

কিন্তু আধুনিক ইউরোপের ছোট্ট দেশ এস্তোনিয়ায় মাতৃতান্ত্রিক সমাজের একটি ছোট্ট ব্যতিক্রমী উদাহরণ টিকে রয়েছে আজও। বাল্টিক সাগরে, এস্তোনিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় সাত মাইল দূরে ছোট্ট দ্বীপ কিহনুর অবস্থান। আর এই দ্বীপে আজও সমাজ পরিচালনায় মহিলারাই রয়েছেন নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায়।

তবে সাধ করে কিন্তু এমন সমাজব্যবস্থা তাঁরা গড়ে তোলেননি। কিহনুর জনসংখ্যা মাত্র ৪০০। এর মধ্যে পুরুষরা মাসের পর মাস সাগরে মাছ ধরায় ব্যস্ত থাকেন। ফলে সমাজ আর প্রশাসনের সব দায়িত্ব মেয়েদের ঘাড়ে এসে বর্তায়। বাচ্চা লালন-পালন, ক্ষেত-খামারে কাজ করা, জাদুঘর-স্কুলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা—সব কিছুই করেন তাঁরা। আর এমনটি কিহনুর নারীরা করে আসছেন শত শত বছর ধরে।

বর্তমানে এই দ্বীপের নেত্রীর নাম মারে মাতাসা। তিনি আবার কিহনুর সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতিও। তিনি বলেন, ‘আমাদের পুরুষরা টানা অনেকটা সময় সাগরে থাকে। তাই আমাদেরই সব কিছুর দেখভাল করতে হয়।’

কিহনুর সবাই তাদের এই আদিম প্রথা ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। দ্বীপটির ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বও কম নয়। যেমন ধরা যাক কিহনু দ্বীপের বিয়ের অনুষ্ঠানে যে গানগুলো গাওয়া হয় সেগুলোর কথা। এগুলোর বেশির ভাগই কম করে হলেও দুই হাজার বছরের পুরনো। আর তাই জনসংখ্যায় ছোট হলেও প্রাচীনত্বের দিক দিয়ে কোনো অংশে কম নয় দ্বীপটি।

তবে আর সব প্রথাগত সমাজের মতো কিহনু দ্বীপেরও নিজস্ব সমস্যা আছে। গরমকালে কিছু পর্যটকের সমাগম হয় এখানে। তাদের কাছে জিনিসপত্র বেচাকেনা আর মাছ ধরা দ্বীপবাসীর আয়ের প্রধান উৎস। অবশ্য নারীরা পোশাক তৈরি করা, পশু পালনসহ আরো নানা ধরনের কাজ করেন। তবে এগুলোতে খুব বেশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসে না। কাজেই আধুনিক যুবক-যুবতীরা অর্থ ও আধুনিক জীবনযাত্রার জন্য দ্বীপ ছাড়ছেন, চলে যাচ্ছেন এস্তোনিয়ার মূল ভূখণ্ডে।

তবে কিহনুর নারীরা তাই বলে এখনো বসে নেই। নিজেদের সংস্কৃতি সংরক্ষণ করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিহনু দ্বীপে আধুনিক আর সমৃদ্ধ একটা জাদুঘর গড়ে তুলেছেন তাঁরা। এর পাশাপাশি ইউনেসকো তাদের সংস্কৃতিকে, বিশেষ করে বিয়ের প্রথাগুলোকে বিশেষ ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এতে পর্যটকরা এখন আগের চেয়ে আরো বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে দ্বীপটির প্রতি।



মন্তব্য