kalerkantho


বিচিত্রা

৩৬ টাকায় দিন পার!

৮ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



৩৬ টাকায় দিন পার!

জাপানের রাজধানী টোকিও পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরগুলোর একটি। সেই শহরে দিনে ৫০ ইয়েন (বাংলাদেশের ৩৬ টাকা) কামিয়ে জীবন ধারণ করা সম্ভব? আপাত-অসম্ভব এই কাজটিই চার-পাঁচ বছর ধরে করে দেখাচ্ছেন জাপানি কমেডিয়ান কোতানি মাকোতো।

তাঁর এই সংগ্রামের সত্যিকার মাহাত্ম্য তখনই বুঝবেন, যখন জানবেন তাঁর এমনকি কোনো মাথা গোঁজার ঠাঁইও নেই। অথচ মাকোতোর দাবি, এখনই নাকি তিনি জীবনের সবচেয়ে সুখী ও সবচেয়ে সফল সময় পার করছেন।
শুরুতে কয়েক জায়গায় চাকরির চেষ্টা করেন মাকোতো। লাভ হয়নি। শেষমেশ দিনে ৫০ ইয়েন চুক্তিতে নিজেকে ভাড়া দিতে লাগলেন মাকোতো। নিজের নামও রাখেন ‘হোমলেস মাকোতো’। কেন ভাড়া নেওয়া হবে, তার কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। তাঁর যে পরিচয়—অর্থাত্ কমেডিয়ান, এটা অনেক সময় কোনো কাজেই লাগে না। অনেকে স্রেফ সঙ্গীর অভাবে তাঁকে ভাড়া নেয়। অনেকে ভাড়া নেয় কোনো কাজে লাইনে দাঁড়াতে। একবার তো তাঁকে একজন ভাড়া নিয়েছিল নুড পেইন্টিংয়ের মডেল হওয়ার জন্য। আর ইদানীং তাঁর চাহিদাও এমন হয়েছে যে মাসখানেক আগে থেকে বুকিং না দিলে তাঁকে পাওয়াই যায় না।

তবে তাঁর ৫০ ইয়েনে দিন চলে যাওয়ার রহস্যটা ওই ৫০ ইয়েনেই লুকানো। এত কম খরচে একজনকে সারা দিনের জন্য ভাড়া নিতে পারাটা শুধু সস্তাই নয়, এক রকম মুফতে পাওয়ার মতোই। আর সেই চিন্তাটাই তাঁর প্রতি খদ্দেরদের বিশেষ সহানুভূতিশীল করে তোলে। তারা মাকোতোর সারা দিনের খরচ তো বহন করেই, প্রায়ই তাঁকে নিজেদের বাসায় রাতে থাকতেও দেয়।

আর ‘হোমলেস কোতানি’ হওয়ার পর তিনি এখন একজন সেলিব্রিটি হয়ে উঠেছেন। নানা মানুষের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো নিয়ে নিয়মিত টুইট করেন। সেখানে তাঁর এখন অসংখ্য ফলোয়ার। এমনকি কোনো দিন রাতে মাথা গোঁজার ঠাঁই না মিললে একটা টুইট করলেই তার বন্দোবস্ত হয়ে যায়। শুধু তা-ই নয়, ভক্তরা প্রায়ই তাঁকে নানা উপহারও পাঠায়। এই যেমন এক ডিজাইনার ফলোয়ার তাঁর উপযোগী একটা পোশাক ডিজাইন করে পাঠিয়েছেন। আরেকজন পাঠিয়েছেন একটা পকেট ওয়াই-ফাই, যাতে সারাক্ষণ অনলাইনে থাকতে পারেন।

-নাবীল অনুসূর্য


মন্তব্য