kalerkantho


অদ্ভুত

জুতা জমিয়ে সেলিব্রিটি!

শিমুল খালেদ

৮ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



জুতা জমিয়ে সেলিব্রিটি!

দুবাইয়ের বিত্তশালী ব্যবসায়ী সাইফ আহমদ বেলহাসার সবচেয়ে ছোট ছেলে রাশেদ বেলহাসা। বয়স সবে মাত্র ১৫ বছর।

এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ফলোয়ারের সংখ্যা লক্ষাধিক। রাশেদের এই খ্যাতির প্রধান কারণ তার দামি ও দুষ্প্রাপ্য সব স্নিকার জুতার সংগ্রহ। অবশ্য তার বিখ্যাত হয়ে ওঠার শুরুটা কিন্তু জুতার মাধ্যমে নয়।

বিত্তশালী বাবার ছোট ছেলে হিসেবে রাশেদের বেড়ে ওঠা বেশ জাঁকজমকের সঙ্গেই। দুবাইয়ের প্রাসাদতুল্য জাঁকালো বাসস্থান রাশেদদের। এমনকি সেখানে আছে একটি ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা। সেই চিড়িয়াখানার বন্য প্রাণীর সংগ্রহশালা যে কাউকে আকর্ষণ করার মতো। বাঘ, সিংহ থেকে শুরু করে শিম্পাঞ্জি, কালোচিতা, চিতাবাঘ ইত্যাদি মূল্যবান ও দুর্লভ বন্য প্রাণী বিভিন্ন জায়গা থেকে আনা হয়েছে সেই চিড়িয়াখানায়। সুতরাং বোঝাই যায়, ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা হিসেবে সেটি বেশ সমৃদ্ধ।

আর তাই সেলিব্রিটি থেকে শুরু করে অনেকেই সেখানে ঢু মারতে যান। রাশেদ সেই সুযোগটাই নেয়। তাদের চিড়িয়াখানায় বেড়াতে আসা সেলিব্রিটিদের সঙ্গে নানা পোজে ছবি তুলে রাখে। তারপর সেগুলো শেয়ার করে ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এতে তার ফলোয়ারের সংখ্যাও যায় বেড়ে। গণমাধ্যমে সাক্ষাত্কার দিতে গিয়ে রাশেদ বেশ গর্বের সঙ্গেই বলছিল, চিড়িয়াখানার কল্যাণে তার বেশ কজন সেলিব্রিটি বন্ধুও আছে। আমেরিকান অভিনেতা ও গায়ক উইজ খালিফা ও স্টিভ আওকি তার বন্ধু। আবার নিত্য-নতুন সব গাড়ি কেনা আর এগুলোর সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়ায়ও বেশ নাম হয়েছে তার।

মজার ব্যাপার হলো, তার একজন ব্যক্তিগত এজেন্টও আছে। দেখা করতে আসা লোকজনের সঙ্গে ওই এজেন্ট কথা বলে ও রাশেদের অনুমতি পেলে তবেই শিডিউল ঠিক করে। এত কিছুর শেষে তার সব আগ্রহ দামি ও দুর্লভ জুতা সংগ্রহ নিয়েই। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, এত কিছু থাকতে কিশোর বয়সেই রাশেদের জুতার প্রতি আগ্রহ জন্মালো কেন? তারও একটি গল্প আছে! বছর দুয়েক আগে বড় ভাই আবদুল্লাহর সঙ্গে সে গিয়েছিল দুবাইয়ের এক শপিং মলে। এর মধ্যে কিছু লোক তাদের পথ আটকে দাঁড়াল এবং আবদুল্লাহর পায়ে থাকা অ্যাডিডাস-ইজি ব্র্যান্ডের কেডসটির ছবি তুলতে লাগল! তখনো রাশেদের কাছে জুতা জিনিসটা আকর্ষণীয় কিছু ছিল না। কিন্তু নির্দিষ্ট জুতার প্রতি মানুষের এমন আগ্রহ আর আবেগ দেখে তারও ঝোঁক তৈরি হয় জুতার প্রতি। এরপর অনলাইনসহ সম্ভাব্য সব যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে দামি ও দুষ্প্রাপ্য জুতা কিনতে লাগল। গত বছর পর্যন্ত তার সংগ্রহে জুতার সংখ্যা ছিল মাত্র ২০০ জোড়া। তবে এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়েছে অবিশ্বাস্য হারে। বর্তমানে তার সংগ্রহে থাকা স্নিকার জুতাগুলোর মোট মূল্য ১০ লাখ ডলার বা প্রায় আট কোটি টাকা। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দামি জুতার দাম হচ্ছে আট হাজার মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে ছয় লাখ! এমনকি সবচেয়ে কম দামি জুতাটির দামও এক হাজার ৯০০ মার্কিন ডলার। মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এত টাকা সে পায় কোথায়? ধনকুবের মা-বাবার কাছ থেকে প্রতি মাসে সে ভালোই ‘হাতখরচা’ পায়, যেটি খরচ হয় এই জুতা সংগ্রহের পেছনে। এ ছাড়া অনলাইনে বিজ্ঞাপন থেকেও যা উপার্জন হয়, তা-ও একই কাজে ব্যয় করা হয়। তবে রাশেদ বেলহাসার জুতা সংগ্রহের এই শখ শুধু শখেই সীমাবদ্ধ নেই। দিন শেষে সেটিও একটি বিনিয়োগ। রাশেদের ভাষ্য—মাত্র দুই বছরের মাথায় এই জুতাগুলোর মূল্য কেনা দামের চেয়ে তিন গুণে পৌঁছবে।


মন্তব্য