kalerkantho


অন্য রকম

জলপ্রপাতের রাজধানী!

নাবীল অনুসূর্য

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



জলপ্রপাতের রাজধানী!

কানাডায় গিয়ে জলপ্রপাতের কথা বললেই সবার মনে আসবে নায়াগ্রা জলপ্রপাতের কথা। আমেরিকা-কানাডার সীমান্তে অবস্থিত ভুবন বিখ্যাত এই জলপ্রপাত আসলে তিনটি জলপ্রপাতের যুগলবন্দি; কিন্তু এই কানাডায়ই এমন আরেকটি জায়গা আছে, যেখানে একটি-দুটি নয়, আছে আনুমানিক শ দেড়েক জলপ্রপাত।

আর তাই অনেকের কাছেই এটি পরিচিতি পেয়ে গেছে জলপ্রপাতের রাজধানী নামে। জায়গাটি নায়াগ্রা থেকে খুব বেশি দূরেও নয়। ওখান থেকে ৫০ মাইল পশ্চিমের শহর হ্যামিল্টন। আর আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই হ্যামিল্টন একটি শিল্পনির্ভর বড় নগরী। ইস্পাত ওখানকার মূল শিল্পপণ্য। তার চেয়েও আশ্চর্যের ব্যাপার, এই ২০০৮ সাল পর্যন্তও এ জলপ্রপাতগুলোর ব্যাপারে, এমনকি ওখানকার অধিবাসীরাও তেমন কিছুই জানত না। সে বছর ক্রিস একলান্ড নামের হ্যামিল্টনের এক ভদ্রলোক শহরটির এই জলপ্রপাতগুলো নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ শুরু করেন।

এখনো অবশ্য ওখানকার অনেক মানুষই পুরো ব্যাপারটি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়। তারা অল্প কিছু জলপ্রপাত চেনে, ঘুরতে-পিকনিক করতেই সাধারণত সেখানে যায়। কিন্তু ওখানে যে দেড় শটির মতো জলপ্রপাত আছে, তা তারা জানেই না। ওখানে মোট কয়টি জলপ্রপাত আছে, সেটিও ঠিকঠাকমতো গোনা যায়নি। ক্রিস একলান্ড এখনো পর্যন্ত ১৩০টি জলপ্রপাত চিহ্নিত করতে পেরেছেন। ধারণা করা হয়, মোট জলপ্রপাতের সংখ্যা আরো বেশি। নিদেনপক্ষে শ দেড়েকের বেশি হবেই। এগুলোর মধ্যে অবশ্য মাত্র ৫০-৬০টি জলপ্রপাতে সারা বছর পানি থাকে। অন্যগুলো মৌসুমি জলপ্রপাত। শুধু তা-ই নয়, অনেক জলপ্রপাত আবার ব্যক্তিগত সম্পত্তির অন্তর্গত। এসব কারণে এখনো হ্যামিল্টনের মোট জলপ্রপাতের সংখ্যা সুনির্দিষ্ট করে জানা যায়নি। তবে নগরায়ণের কারণে ওখানে জলপ্রপাতের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।

এই শ দেড়েক জলপ্রপাতের মধ্যে অবশ্য নায়াগ্রার মতো বিশালাকৃতির কোনো জলপ্রপাত নেই। হ্যামিল্টন শহরটিও নায়াগ্রার উঁচু খাড়া পাহাড়ি অঞ্চলের অন্তর্গত। তাই ওখানে লেক ওন্টারিও থেকে যতগুলো পানির ধারা এসেছে, সবগুলোই এক বা একাধিক জলপ্রপাতের সৃষ্টি করেছে। এমনকি অন্যান্য উত্স থেকেও যে পানির ধারার সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলো থেকেও জন্ম হয়েছে জলপ্রপাতের। তবে এই জলপ্রপাতগুলোর মধ্যে বৈচিত্র্য আছে অনেক। কোনোটা ঠিক জলপ্রপাত নয়, বরং ওগুলোকে ঝরনাই বলা চলে। কোনোটা আবার রিবন টাইপ জলপ্রপাত, যেগুলোর উচ্চতা অনেক; কিন্তু প্রস্থে খুবই কম। কোনোটা ক্লাসিক্যাল ঘরানার জলপ্রপাত, যেগুলোর উচ্চতা এবং শেষ প্রান্তের প্রস্থ প্রায় সমান। আবার অনেকগুলো কার্টেন টাইপ—মানে উচ্চতা কম, কিন্তু প্রস্থে অনেক বেশি। হ্যামিল্টনের এই বৈচিত্র্যময় জলপ্রপাতগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দরটির নাম ওয়েবস্টারস ফল। সবচেয়ে উঁচুটির নাম টিউস ফল, উচ্চতা ৪১ মিটার। আর সবচেয়ে ছোটটির নাম লিটল ডেভিস ফলস। ওটা মাত্র তিন মিটার উঁচু।


মন্তব্য