kalerkantho


বিচিত্রা

সালিখার্তের মমি

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সালিখার্তের মমি

সুনসান বরফের রাজ্য। চারদিকে জনমানুষ নেই।

দেখে মনে হতে পারে, আদিকাল থেকেই হয়তো বা এখানে লোকজনের বসতি নেই।

কিন্তু না, বরফের এক ঢিবি খুঁড়তেই পাওয়া গেল এক তরুণীকে। তাঁর চোখ দুটি বোজা, যেন পরম শান্তিতে ঘুমিয়ে আছেন। এক-দুই বছর নয়, ৯০০ বছর ধরে ঠিক একইভাবে শুয়ে আছেন মেরু রাজ্যের এই রাজকন্যা। অবিকৃত আছে তাঁর চুল, এমনকি চোখের পাপড়িও।

নারীর এই মমিটি পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞরা অনুমান করেছেন, তাঁর বয়স ছিল ৩৫ বছর। এর চারপাশে পাওয়া গেছে প্রায় তিন ডজন পুরুষের মরদেহ। সেগুলোও মমি করা। তামা আর ফারের পোশাকে আবৃত এই মমিগুলো ১২০০ সালের দিকের।

কে ছিলেন এই তরুণী। বিজ্ঞানীদের মতে, ৯০০ বছর আগের কোনো লুপ্ত সভ্যতারই এক হর্তাকর্তা ছিলেন তিনি। এই লুপ্ত সভ্যতা বরফের রাজ্যে গড়ে উঠেছিল বলে কিন্তু ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। প্রাচীন পারস্যের সঙ্গেও তাদের ছিল যোগাযোগ।

রাশিয়ার সাইবেরিয়ার সালিখার্ত অঞ্চলের কাছে, জিলেনি ইয়ার নামক কবরস্থানে পাওয়া গেছে এসব দেহাবশেষ। মাথাটা অবিকৃত থাকলেও তরুণীর দেহে কিন্তু পচনের ছাপ স্পষ্ট। বোঝাই যাচ্ছে, মমি যারা করেছে তারা মাথাটাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। পাশেই পাওয়া গেছে তামার একটি কেটলি। ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের কথা চিন্তা করেই ওটি রাখা হয়েছে মরদেহের পাশে।

এর আগেও জিলেনি ইয়ার থেকে পাওয়া গেছে নানা রকম প্রাচীন নিদর্শন। বেশ কিছু ব্রোঞ্জের বাসনপত্র নিশ্চিত করেছে, প্রায় ৩৭০০ মাইল দূরবর্তী পারস্যের সঙ্গে এর যোগাযোগ। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, প্রাচীন এই সভ্যতায় মহিলারাও সমাজের উচ্চপর্যায়ে আসীন হতে পারতেন। তারই প্রমাণ প্রায় তিন ডজন পুরুষের মমির মাঝে রাখা এই তরুণীর মমি।

এই বরফরাজ্যে খনন করলে প্রায়ই মেলে এমন সব মমি। অনেক ক্ষেত্রেই মরদেহগুলো এত ভালোভাবে সংরক্ষণ করা যে তাদের দেহের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোও একদম নিখুঁত থাকে। এ থেকে বোঝা যায়, প্রাচীন এই জনপদগুলো মমি সংরক্ষণে বেশ পারদর্শী ছিল। অবশ্য মেরুর প্রচণ্ড ঠাণ্ডাও যে তাদের কাজটি সহজ করে দিয়েছে, তাতে সন্দেহ নেই।

-অমর্ত্য গালিব চৌধুরী


মন্তব্য